পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের সম্প্রসারণ হলো ৩রা নভেম্বর

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০২১, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

মো. এনামুল হক:


১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের পলাশীর বিয়োগান্তক ঘটনার প্রায় সোয়া দুশো বছর পর বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিয়োগান্তক ঘটনাটি ঘটে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্টে। সেদিন ভোররাত্রে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। জাতির পিতা। অথচ তাঁকেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো।

আমরা তৃতীয় বিশে^র অনেক দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটতে দেখেছি। সেসব অভ্যুত্থানের কতকগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। তার মধ্যে একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করার অভিলাষে অভ্যুত্থান করে থাকেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশে মধ্যম পর্যায়ের ১৭ জন কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেন। তবে তারা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন নি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর তাঁরই মন্ত্রিসভার এক সদস্য খোন্দকার মোশতাক আহমেদকে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় বসান। সেদিন সামরিক আইন জারি করা হয়নি। জাতীয় সংসদও বাতিল করা হয়নি। অবশ্য পাঁচদিন পর ২০ আগস্ট সামরিক আইন জারি করা হলেও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয়নি। এমনকি উনিশশো চুয়াত্তরে জারিকৃত জরুরি আইনটিও বহাল রাখা হয়। তবে প্রেসিডেন্ট একটি অধ্যাদেশ জারি করে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর বাকশালসংক্রান্ত ধারাটি বাতিল করেন। এর ফলে একদলীয় ব্যবস্থার বিলোপ হয়ে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্প্রতিষ্ঠাতা বলে বিএনপি নেতারা যেভাবে গলা ফাটান, তা নিছকই বাগাড়ম্বর।

আক্ষরিক অর্থে, ১৫ই আগস্টের হত্যাযঞ্জ কোনো সামরিক অভ্যুত্থান বা ক্যু ছিল না। বরং তা ছিল ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক হত্যাকা-। আর এই হত্যাকান্ডে সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল দেশি-বিদেশি কুচক্রীমহল। বিশেষ করে পাক-মার্কিন ষড়যন্ত্র তো সর্বজনবিদিত।

১৫ই আগস্ট হত্যাকান্ডের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাগন সরাসরি জড়িত না থাকলেও সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপ-প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রচ্ছন্ন ইন্ধন ছিল বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। যদিও তা অদ্যবধি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নয়। লক্ষণীয় যে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র ৯ দিন পর ২৪ আগস্ট মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে অপসারণ করে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সঙ্গে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের কারণেই তিনি ওই পদ পান বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল এবং ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাকে অবৈধ, অসংবিধানিক ও বেআইনি বলে রায় দেন।

জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান করা হলেও মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে খোন্দকার মোশতাক আহমদ তাঁর সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। আবার ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ নামে একটি নতুন পদ সৃজন করে মেজর জেনারেল খলিলুর রহমানকে ওই পদে নিয়োগ দেন। সেনাপ্রধান যাতে কোনো অঘটন ঘটাতে না পারেন, সেজন্য ধুরন্ধর মোশতাক আহমদ সেনাপ্রধানের ওপর দু’টি পদ সৃজন করে সেনাপ্রধানের ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ সেনাবাহিনীর হাই কমান্ডকে বাইপাশ করে ১৫ই আগস্টের নৃশংসতা সংঘটিত করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো সেনা সদর দপ্তর তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনা সদর দপ্তর কেন নির্লিপ্ত থাকলো তাও একটি প্রশ্ন বটে!

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ১৫ই আগস্টের পর হাই কমান্ডকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বঙ্গভবনে অবস্থান নেন। তারা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে অবস্থান করেন। ফলে সেনাবাহিনীর চেইন অভ কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে। সেনাবাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তারপরও সেনা সদর দপ্তর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি অথবা করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সময় কে. এম. শফিউল্লাহ সেনাবাহিনী প্রধান ছিলেন। তিনি বিপথগামী সেনাদের শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন নি। সেজন্য তিনি তৎকালীন উপ-প্রধান জিয়াউর রহমানকে দোষাারোপ করে থাকেন। তা সত্য হতে পারে। আবার উপ-প্রধানের ওপর দোষ চাপিয়ে তিনি নিজের ব্যর্থতাকে লঘু করার চেষ্টা করতেও পারেন। তবে জিয়া ২৪ আগস্ট সেনাপ্রধানের পদ লাভ করার পর তিনিও উচ্ছৃঙ্খল সেনাদের নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ব্যবস্থা নেননি।

মেজর পদমর্যাদার কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার উদ্ধত আচরণ ও বঙ্গভবনে বসে মাতুব্বরি করাকে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা মেনে নিতে পারছিলেন না। এ প্রেক্ষাপটে কর্নেল শাফায়াত জামিল সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড পুনর্বহালের উদ্যোগ নেন। তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর ৪৬ বিগ্রেডের অধিনায়ক। তাঁর ব্রিগেডটি ছিল সেনাবাহিনীর প্রধান শক্তি। ব্রিগেডটিতে প্রায় চার হাজার সৈনিক ছিল। তিনি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কাছে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পেয়ে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অতঃপর ১ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ, ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামান ও শাফায়াত জামিল অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক ২ নভেম্বর দিবাগত রাত্রি ২টায় (৩ নভেম্বর) অভ্যুত্থান শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয়।

গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা না হতে পেরে বঙ্গভবনের শাসকদের ওপর নাখোশ হন। তবে ব্রিগেডিয়ার এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, খালেদ মোশাররফ প্রখর জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ সৈনিক ছিলেন। আর শাফায়াত জামিল বলেছেন, ক্ষমতালোভী বা উচ্চাভিলাষী কোনোটাই ছিলেন না খালেদ মোশাররফ। তিনি ছিলেন শৃঙ্খলার প্রতি নিবেদিত একজন দক্ষ সেনানায়ক। তাঁর সেনাপ্রধান নিযুক্তি অথবা প্রমোশন তিনি নিজের উদ্যোগে নেননি। আমরা আমাদের প্রয়োজনে তাঁকে সেটা করেছিলাম।

পরিকল্পনা মোতাবেক ৩রা নভেম্বর অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিমান বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাও সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁরাও অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেন। প্রাথমিকভাবে অভ্যুত্থান সফল হয়। জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। তাঁর টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সমঝোতার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের নিরাপদে দেশত্যাগের সুযোগ দেওয়া হয়। সমঝোতা মোতাবেক তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান এম. জি. তোয়াবের ব্যবস্থাপনায় তারা ৩ নভেম্বর রাত ১১টায় ব্যাংককের উদ্দেেেশ্য ঢাকা ত্যাগ করেন।

অভ্যুত্থান শুরুর পরপরই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার জাতীয় নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকা-ের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর খুনিরা নিরাপদে দেশত্যাগ করেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত অভ্যুত্থানকারীরা জানতেই পারেন নি যে, জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। জেলহত্যার অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমদ। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার যড়যন্ত্রে তিনি এই নেতাদের কাছে পরাজিত বা কোণঠাসা হয়েছিলেন। তিনি তার মধুর প্রতিশোধ নেন পঁচাত্তরের ৩রা নভেম্বরে।

৪ নভেম্বর খালেদ মোশাররফকে পদোন্নতি দিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে খোন্দকার মোশতাককে বাধ্য করা হয়। তাঁকে জেলহত্যা তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করতেও বাধ্য করা হয়। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে তাঁকে পদত্যাগ করতেও বাধ্য করা হয়। অতঃপর তাঁকে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। জেলহত্যার অভিযোগে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ওবায়দুর রহমান, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও নুরুল ইসলাম মঞ্জুরকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। সেদিন সকালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে একটি মিছিল বের হয়ে ৩২ নম্বর ধানম-িতে গিয়ে তা শেষ হয়। সে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন খালেদ মোশাররফের মা ও ভাই।

আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর সেদিন রাত্রে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সে ভাষণে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পুনর্প্রতিষ্ঠা করা হবে, ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ১৫ই আগস্টের হত্যাকারীদের বিচারের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। সেইসঙ্গে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে থেকেই অভ্যুত্থানকারীদের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যেতে থাকে। কথিত ‘সিপাহী বিপ্লব’ শুরু হয়। সে রাতেই ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’র নামে ১২ দফা সংবলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। মধ্যরাতের পর থেকেই ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, অফিসারের রক্ত চাই’ স্লোগান শুরু হয়। এভাবে ৭ নভেম্বরে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়। খালেদ মোশাররফকে হত্যা করা হয়। কর্নেল সাফায়াত জামিল নারায়ণগঞ্জ পালিয়ে যান। কর্নেল তাহের ও জাসদের সহযোগিতায় জিয়াউর রহমান গৃহবন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন।

আওয়ামী লীগ বা ভারতের ইন্ধন ও সহযোগিতায় এই অভ্যুত্থান হয় বলে সর্বসাধারণের ধারণা। তবে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কিংবা ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। নভেম্বরের অভ্যুত্থানটি ছিল পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাত। আর এই সংঘাতে প্রকৃতপক্ষে লাভবান হয়েছে সেনাবাহিনী। এই অভ্যুত্থানে খোন্দকার মোশতাককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। জাতীয় চার নেতাকে জেলখানায় হত্যা করা হয়। এভাবে রাজনীতি থেকে রাজনীতিবিদদের নির্বাসিত করা হয়। আর তার স্থলাভিষিক্ত হয় সেনাবাহিনী।

৩রা নভেম্বরের অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ছিল অভ্যুত্থানকারীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। অভ্যুত্থানকারীদের লক্ষ্যও ছিল অস্পষ্ট। অভ্যুত্থানকারীরা বিজয়ী হয়েও খোন্দকার মোশতাক আহমদকে গ্রেপ্তার করেন নি। খালেদ মোশাররফ নিজেকে প্রেসিডেন্ট কিংবা সেনাপ্রধান হিসেবেও ঘোষণা দেননি। বরং তিনি মোশতাককে ক্ষমতাচ্যুত করে তাঁর কাছে থেকেই সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ লাভের চেষ্টা করেন। এর ফলে অযথা কালক্ষেপণ হয়। ফলে অভ্যুত্থান-বিরোধীরা সংগঠিত হওয়ার সময় ও সুযোগ পান। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে তাঁর টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। কিন্তু তাঁর স্ত্রীর সমান্তরাল লাইনটি বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। ফলে তিনি কর্নেল তাহেরসহ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পান। তিনি সেই সুযোগের সদ্ব্যবহারও করেন। এদিকে খালেদ মোশাররফের মা ও ভাই ৪ঠা নভেম্বর আওয়ামী লীগের মিছিলে যোগ দেওয়ার ফলে অভ্যুত্থান-বিরোধীরা প্রচারণা চালানোর সুযোগ পান যে, আওয়ামী লীগ ও ভারতের সহায়তায় অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছে। বিগত কয়েক বছরব্যাপী আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধী মিথ্যে প্রচারণার ফলে সেনানিবাসে আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট সৃষ্টি হয়েছিল। খালেদ মোশাররফের মা ও ভাই মিছিলে যোগদান করায় বিরোধীরা সেই সেন্টিমেন্টকে উসকে দেওয়ার সুযোগ পায়। অভ্যুত্থানকারীরা সেনাবাহিনী ইন্টেলিজেন্সকেও ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারেন নি। এর ফলে বিরোধীদের শক্তি-সামর্থ্য সম্পর্কেও খালেদ মোশাররফ বা শাফায়াত জামিল সঠিক ধারণা পাননি। তাঁরা ছোট ছোট কিছু ভুল করেছিলেন। আর সেই ভুলের মাসুল দিতে হয়েছে খালেদ মোশাররফকে জীবন দিয়ে। আর শাফায়াত জামিলকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাযঞ্জে সেনাবাহিনীর মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। সেই বিশঙ্খলার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে ৩রা নভেম্বরে সেনা-অভ্যুত্থান ঘটে। আর ৩রা নভেম্বরের অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত পরিসমাপ্তি ঘটে ৭ই নভেম্বরে। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টেরই সম্প্রসারণ হলো ৩রা নভেম্বর।
লেখক: মুক্তিযুদ্ধ গবেষক (অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক, বিসিক)