পঞ্চগড়ে মর্মান্তিক নৌকাডুবি লোভের মাশুল যাত্রীরা আর কত দিবে?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা দেশবাসীকে বিমূঢ় করেছে, শোকাগ্রস্ত করেছে। মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত ৬৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো আরো তিনজন নিখোঁজ রয়েছে।
ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ওঠার কারণে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়। সোমবার সকালে জেলার বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তদন্ত কাজ পরিচালনা করতে এসে প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। অর্থাৎ অতি মুনাফালোভের কারণে এ দেশের মানুষকে বারবার জীবন দিতে হয়। তদুপরি বন্ধ হয় না মৃত্যুমিছিল।
রোববার তদন্ত কাজ শুরু করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ফলেই নৌকাটি ডুবে যায়। অন্য কারণ জানার জন্য তদন্ত কাজ চলছে।
অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ মোকাবিলায় ঘাট ব্যবস্থাপনায় ইজারাদারের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কিনা সেটাও দেখা হচ্ছে। তবে ইজারাদারকে পাওয়া যাচ্ছে না।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছোট বড় ৭০০’র বেশি নদী জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। দেশে এখনো ত্রিশ শতাংশের বেশি লোক সুদীর্ঘ প্রায় ২৪১৪০ কিলোমিটার নদীপথ ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি নগর, বড় শহর বা বাণিজ্যিক এলাকাগুলো কোনো না কোনো নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বিশেষত বাংলাদেশের সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে নৌপথই হলো গণপরিবহন বা পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। এখনো অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে সড়ক বা রেলপথের সুবিধা না থাকায় নৌপথই যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন।
ডিপার্টমেন্টে অব শিপিং (ডিওএস) বাংলাদেশের অধিকাংশ নৌ-দুর্ঘটনার পেছনে অনেক কারণের মধ্যে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল বা যাত্রী বহন, চালকদের অবহেলা ও অদক্ষতা অদক্ষতাও অন্যতম।
নির্বিঘœ ও নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতের জন্য ‘আভ্যন্তরীণ শিপিং অধ্যাদেশ -১৯৭৬’ রয়েছে, যেখানে নৌযান বা পরিবহন সংক্রান্ত আইন ও অমান্যকারীর শাস্তির বিধান সংক্রান্ত সকল বিষয় লিপিবদ্ধ আছে।
নৌ-দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। একে অপরকে না দুষে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দুর্ঘটনা থেকে উত্তরণের পথ। নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রশাসনিকভাবে আরো সক্রিয় হতে হবে। নৌচালক, মাস্টার, বন্দর তত্ত্বাবধায়ক ও যান মালিকদের কর্মকান্ডও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্সবিহীন চালক ও যানগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের নৌ পরিবহন সংক্রান্ত কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে। আইন অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তায় আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ