টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হলেন শেখ হাসিনা

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২৪, ৮:১০ অপরাহ্ণ

পঞ্চমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শেখ হাসিনাশপথ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: বাংলানিউজ

সোনার দেশ ডেস্ক:


টানা চতুর্থবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর আগের এক টার্ম মিলিয়ে পঞ্চমবারের মত তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭:০৩ মিনিটে বঙ্গভবনে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ইতোমধ্যেই চার মেয়াদে ২০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করেছেন শেখ হাসিনা।

২০২৯ সালে পঞ্চম মেয়াদ পূর্ণ হলে স্বাধীন বাংলাদেশে ২৫ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনেরও পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের মোট বয়সের প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বকাল। পঞ্চম মেয়াদে সরকার পরিচালনায় এবার শেখ হাসিনার সঙ্গী হচ্ছেন ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর তরুণ-প্রবীণদের সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণের পর একে একে মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদেরও শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।

এর আগে বুধবার (১০ জানুয়ারি) ৮ম বারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন আ’ লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন।

আ’লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রথম ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করলো আ’লীগ। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকে ২২৩টি আসনে জয় পায় আ’লীগ।

বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর বর্জন করা এ নির্বাচনে আ’লীগের পর সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ৬২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই আ’লীগ নেতা।

এদিকে গত দুই মেয়াদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টি ২৬ আসনে সমঝোতা করলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১১টি আসনে জয় পায়।
এ ছাড়া আ’লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে জাসদ ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি এবং বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে আসা কল্যাণ পার্টি ১টি আসনে জয় পেয়েছে।

শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
শেখ হাসিনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসার ৫ সন্তানের মধ্যে সবার বড় তিনি।
শেখ হাসিনা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, ওই সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পরের ছয় বছর লন্ডন ও দিল্লিতে তাদের নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়।

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আ’লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। ৫ বছরের মাথায় সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের সময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তার নেতৃত্বে আ’লীগ একনায়ক এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। পরে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় আ’ লীগ এবং শেখ হাসিনা হন বিরোধী দলের নেতা।
১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আ’লীগ।

২০০১ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন করে বিএনপি-জামায়াত জোট। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
২০০৭ সালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নিলে অনেক রাজনীতিকের মতো শেখ হাসিনাও গ্রেফতার হন। দু’বছরের মাথায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ৯ম সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে আ’লীগ জোট। দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

বিএনপি ও তাদের শরিকদের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনেও জয় পায় আ’লীগ জোট। ২০১৮ সালের গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে আ’লীগ জোট। এর মধ্য দিয়ে ৪র্থবার ও টানা ৩য় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনেও জয় নিজেদের ঘরে তোলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Exit mobile version