পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরীর জন্মদিন উদ্যাপন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মোমবাতি প্রজ্বলন কনে পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরীসহ অতিথিরা-সোনার দেশ

সংগীতের মানুষ পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী গত ১৮ সেপ্টেম্বর ৯০ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। সেদিন বাড়িতে ঘরোয়াভাবে কেক কেটে উৎযাপন করা হয়েছিল তার ৮৯তম জন্মদিন। তবে আসল আয়োজনটা হলো গতকাল বৃহস্পতিবার। শাস্ত্রীয় সংগীতেই উৎযাপন করা হলো উচ্চাঙ্গ সংগীতের গুণি এই শিল্পীর জন্মদিন।
পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সঙ্গীতাশ্রম’ গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর একটি আবাসিক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এই সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। তবলার ধ্বনি আর বাঁশির সুরে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মাঝে হারিয়ে যান উপস্থিত অতিথিরা।
একুশে পদকপ্রাপ্ত পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরীও এই সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়া পরিবেশন করেন মঞ্জুশ্রী রায়, প্রফেসর ড. অসিত রায় ও ডা. জগদানন্দ রায়। তবলায় ছিলেন যতন কুমার পাল আর ড. দীনবন্ধু পাল। বাঁশি বাজান আবদুস সালাম। সুখেন মুখোপাধ্যয় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশনা উপভোগ করেন এবারের স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী বজলার রহমান বাদল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভাষাসৈনিক আবুল হোসেন ও বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক হাসান আখতার।
সংগীত গুরু পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী ১৯২৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের চৌদ্দরাশি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ফরিদপুর সদরপুর উপজেলার বাইশরশির জমিদার রায় বাহাদুর মহেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরীর চার ছেলের একজন অবিনাশ রায় চৌধুরী। অবিনাশের একমাত্র ছেলে অমরেশ রায় চৌধুরী।
স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে অমরেশ রায় তার মা রাজলক্ষ্মী রায় চৌধুরীকে নিয়ে রাজশাহীতে চলে আসেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহীতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। রাজশাহী নগরীর রাণীবাজারে তিনি নিজেই ‘সঙ্গীতাশ্রম’ নামের ওই সঙ্গীতের স্কুল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
রাণীবাজারে অমরেশ রায় চৌধুরীর ‘মোহিনী নিকেতন’ নামে একটি স্থায়ী বাড়ি ছিল। বছর দুয়েক আগে নতুন রাস্তা করতে গিয়ে তার বাড়িটি ভাঙা পড়ে। তিনি এখন মিয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সহধর্মিণী সোনালী রায় চৌধুরী, দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ এবং নাতি নাতনিদের নিয়েই তার সংসার।
পাবনার সূচনা সঙ্গীত অ্যাকাডেমি শিল্পীকে সংবর্ধনা দেয় ২০০৫ সালে। ২০১৪ সালে নারায়নগঞ্জের ‘লক্ষ্যাপার’ পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরীকে আজীবন সংবর্ধনা প্রদান করে। একই বছর জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলন পরিষদ তাকে রবীন্দ্র পদকে ভূষিত করে। এছাড়া এ বছর তিনি রাজশাহী শিল্পকলা অ্যাকাডোমির সম্মাননা লাভ করেন। ওই বছর বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তাকে সম্মাননা পদক প্রদান করেন।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমি আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার হাতে ‘শিল্পকলা পদক-২০১৪’ প্রদান করেন। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরীকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ‘একুশে পদক-২০১৬’ প্রদান করেন। এছাড়া তিনি বহু সংগঠনের সংবর্ধনা ও পদক লাভ করেন।
অমরেশ রায় বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী কেন্দ্রের এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘ক’ শ্রেণির একজন নিয়মিত উচ্চাঙ্গ সংগীত শিল্পী। ৮৯ বছর বয়সেও এই শিল্পী এখনও উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিবেশন করেন বেশ সাবলীলভাবে। শাস্ত্রীয় সংগীতকেই একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান করে সারাজীবন সাধনায় অতিবাহিত করেছেন পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী। এই একনিষ্ঠতা তাকে এনে দিয়েছে উপমহাদেশজুড়ে খ্যাতি ও সম্মান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ