পত্নীতলার শাশইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত || পাঠদান বিঘ্নিত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

পত্নীতলা প্রতিনিধি


নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার শাশইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি নানামুখি সমস্যায় জর্জরিত। বিদ্যালয়টির ৫টি শ্রেণি কক্ষে চলছে ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসরুমের ভিতরে পানি পড়ে।
সরেজমিন ঘুরে ও বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, এ বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত নি¤্ন্ন মাধ্যমিক পর্যান্ত এমপিও ভুক্ত। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট ১৯০ জন ছাত্রী। প্রধান শিক্ষকসহ (ভারপ্রাপ্ত) মোট ১১ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এছাড়া কর্মচারি রয়েছে ৪জন।
বিদ্যালয়টির প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে হচ্ছে, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এতে আইসিটি শিক্ষক থাকলেও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্রীরা। বিদ্যালয়টির সীমানা প্রাচীর নেই। এতে বালিকা বিদ্যালয়টি আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানে স্থাপিত হওয়ায় ছাত্রীরা ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়ে আসছেন। মাধ্যমিক এমপিও ভূক্ত হয় নি। ২টি শ্রেণি কক্ষের প্রয়োজন, এছাড়া বিদ্যালয়ের কমন রুম ও বিজ্ঞান রুম এবং গ্রন্থাগার নেই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমাদের স্কুলটা মেরামত করা দরকার। ভাঙাচোরা স্কুলে পড়তে ভালোলাগে না। সবার স্কুল পাকা আর আমাদের স্কুলটা ভাঙা মাটির তৈরি। ক্লাস রুমের দেওয়াল ভাঙা থাকায় ও রুমের দরজা-জানালা না থাকায় কুকুর, বিড়াল, পশু, পাখিরা প্রবেশ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসরুমের ভিতরে পানি পড়ে আমরা ভিজে যাই। মাঝে-মধ্যেই মাটির দেয়ালের মাটি খসে পড়ে। এতে ক্লাস চলাকালীন শিক্ষকসহ আমাদের (শিক্ষার্থীদের) মধ্যে অনেকেই আহত হয়েছে একাধিকবার।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বর্তমানে পুরানা মাটির তৈরি ৪টি কক্ষই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর একটি আধাপাকা ইটের দেয়াল ও টিনের চাল (ছাপড়া) অফিস কক্ষ থাকলেও দরজা-জানালা নেই। বর্তমানে সেখানেই ক্লাস করানো হয়। আর পুরনো মাটির ৫টি কক্ষের মধ্যে একটি অফিস কক্ষ। কিন্তু বর্তমানে ওই পুরনো মাটির তৈরি দেয়ালের মাটি খসে পড়ছে।
তিনি আরো জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুয়ে পড়ে ক্লাস রুমে। এতে যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর পরও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিদ্যালয়ের জরুরি নথিপত্র ভিজে যায়ে বৃষ্টির পানিতে। এতে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ভাবে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নি।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলী আকবর জানান, আমি কমিটিতে নতুন নির্র্বাচিত হয়েছি। আমি আসার পর বিদ্যালয়টির হিসাব তহবিলে কোন অর্থ জমা নেই। বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। নারী শিক্ষা প্রসারে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়টির নানামুখী সমস্যা সমাধানে দ্রুত ও কার্যকরী সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
পত্নীতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াজেদ আলী মৃধা বলেন, বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যা অন্যতম। তা সংস্কার করণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবগত করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ