পত্নীতলায় প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জুুগিরথান মন্দির রক্ষায় সরকারি সহায়তা চান স্থানীয়রা

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৭, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

পত্নীতলা প্রতিনিধি


পত্নীতলায় অযত্নে অবহেলায় ধংসের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা জুুগিরথান মন্দির-সোনার দেশ

নওগাঁর পত্নীতলায় কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে ও অবহেলিত ভাবে পড়ে থাকায় বর্তমানে প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জুুগিরথান মন্দিরের স্থাপত্য শিল্প ধংসের দ্বারপ্রান্তে। সরকারি সহায়তা পেলে এই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মন্দির ও স্থাপত্যের ধংস হাত থেকে রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন সুত্র মতে জানা যায়, উপজেলার আমাইড় ইউনিয়নের পূর্ব-উত্তর পাশে অবস্থিত এই মন্দিরটির। যা জুগিরথান, যুগির ঘোপ ও যুগির ঘোপা নামে পরিচিত। এ স্থাপত্য শিল্পের শিলালিপী, নির্মাণ কালের সময়সূচি বা কোন রাজা-বাদশার কালে নির্মিত তার কোন প্রকার চিহ্ন বা খোদাইকৃত লেখনী নেই। নিখুঁত ইটের গাঁথুনিতে নির্মাণ করা এ মন্দিরগুলো। একটি বড় দ্বিতল ভবন ও অন্যান্যগুলো এক তলা ভবন। এটি পত্নীতলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আর এই মন্দিরের পাশেই অবস্থিত ঘুখসির বিল। এই মন্দিরসহ ঘুখসির বিলের মোট আয়তন প্রায় তিনশ ৬৫ বিঘা। এ বিলে বর্ষা মৌসুমে জেলেদের মাছ ধরার ধূম পড়ে যায়। আর প্রকৃতি প্রেমিদের আগমন ঘটে। বিলে ছোট ও মাঝারী ডিঙ্গি নৌকায় অনেকেই ঘুরে থাকেন। ভূমিদস্যুদের মধ্যে এ বিশাল আয়তনের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। বর্তমানে এ মন্দিরটির প্রধানত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন শেখাই নাথ ও সহযোগি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় মৃত শ্রী কৃষ্ণের স্ত্রী গোলাপী জঘড় (৪৬) ও শ্রী নকূল চন্দ্র দাস (৭০)। তারা জানান, জ্ঞান বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই সেচ্ছায় এ মন্দির দেখা-শুনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন তারা। স্থানীয় এলাকাবাসী শ্রী সত্য নারায়ণ (৮২) জানান, আমার জ্ঞান বুদ্ধির পর থেকেই দেখেছি এ মন্দিরটি। আগে বিভিন্ন ধরণের মূল্যবান মূর্তি ছিল যা চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে যা আছে তা রক্ষার জন্য ও এই প্রাচীন স্থাপত্য টিকে রাখতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।
বর্তমানে এ জায়গায় ছোট ও বড় ৫টি মন্দির রয়েছে। মন্দির গুলোতে গোরখনাথ, বেমলা দেবী, শীব, শ্মশ্বান কালী, ভৈরব কালী ও রক্ষাকালীর মূর্তি রয়েছে।
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে প্রতি বৎসর বঙ্গাব্দ বৈশাখ মাসের চাঁদের ১০ তারিখে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গোরখনাথ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আমাইড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ইসমাইল হোসেন জানান, এই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জুুগিরথান মন্দিরের স্থাপত্য ভবণ রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এটি একটি হিন্দু ধর্মালম্বিদের পবিত্রস্থান। এখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকার লোক আসেন। তবে, সরকারিভাবে রাস্তা-ঘাট সংস্কার ও এলাকাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে, এটি একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও হবে।
পত্নীতলা উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও নওগাঁ জেলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী নির্মল কুমার ঘোষ বলেন, এই জুুগিরথান মন্দির প্রাচীন ও ঐতিহাসিক। তাই সরকারের তত্বাবধানে গেলে তা ধংসের কবল থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়া, এটি প্রচীন স্থাপত্য শিল্প হিসেবে উল্লেখ্যযোগ্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে একটি। পত্নীতলা-ধামইরহাট এলাকার সাংসদ মো. শহীদুজ্জামান সরকার (বাবলু) বলেন, আমি প্রথম ওই মন্দিরটি দেখি গত ১৬ মে তারিখে। আমাদের এলাকায় এত বড় ও প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মন্দিরের স্থাপত্য রয়েছে যা আমি নিজে চোখে না দেখলে জানতাম না। তিনি আরো বলেন, প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জুুগিরথান মন্দিরের স্থাপত্য রক্ষা করা জরুরি। আমাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকরা জানান, তাদের ধারণা মতে, এ জুুগিরথান মন্দিরটির স্থাপত্য নির্মাণ করা হয় নাথ সম্প্রদায়ের আমলে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ