পদার্থবিদ স্টিফেন হকিঙের সংশয় || মানুষের বোধোদয় হবে কি ?

আপডেট: মে ৭, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’ÑÑ কবিগুরুর এ সংশয় ছিল তার নিজেকে নিয়ে। মানুষের বেচে থাকার সহজাত আকাক্সক্ষার সহজ-সরল অভিব্যক্তিই ফুটে উঠেছে তাঁর কবিতার চরণে। কিন্তু যদি পৃথিবীটাই না থাকে কিংবা পৃথিবী আর মানুষের জীবন ধারণের জন্য উপযুক্ত থাকবে না, প্রাণের স্পন্দন একেবারে থেমে যাবেÑ তা হলে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ- উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হবে তা বলাই বাহুল্য। তেমনি উদ্বেগজনক তথ্য জানাচ্ছেন পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন গশমাধ্যমে তাঁর এই বক্তব্য শিরোনাম হয়েছে। দৈনিক সোনার দেশেও এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং পৃথিবীর মানবম-লিকে তেমনি তাগিদ দিয়ে বলেছেন, শিগগিরই মানুষের জন্য নতুন আস্তানা খুঁজতে হবে। পৃথিবীর দিন শেষ হয়ে এসেছে। অপেক্ষা আর ১০০ বছরের। বিবিসি-তে একটি তথ্যচিত্রে এমনই শঙ্কার বাণী শুনিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, যে ভাবে আবহাওয়ার বদল ঘটছে তাতে বেশিদিন আর মানুষের বসবাসের যোগ্য থাকবে না পৃথিবী। নতুন পৃথিবীর সন্ধান করতে হবে তাড়াতাড়ি।  আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, বায়ুম-লে দূষণ, মহামারি, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ- এ সবই পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি নতুন পৃথিবীর সন্ধান না পেলে মানুষের অস্তিত্ব আর সৌরম-লে থাকবে না বলেও দাবি করেছেন স্টিফেন।
বিবিসিতে দেখানো এই তথ্যচিত্রে স্টিফেন দেখিয়েছেন, কীভাবে মানুষ নিজেই পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যদিও ইতোমধ্যে মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সন্ধানে খোঁজ শুরু করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
তবে পৃথিবী মনুষ্য বসবাসের অনুপযুক্ত হওয়ার জন্য যে সব কারণের উল্লেখ করা হয়েছে তা নির্বিচারভাবেই হচ্ছে। তারই পরিবেশ-প্রতিক্রিয়া হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তো সারা বিশ্ব জুড়েই ব্যাপক হইচই হচ্ছে। নানা সতর্কবাণী উচ্চারিত হচ্ছে। তদুপরি জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাকে সামলোনোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ আজো নেই। অবশ্য এর প্রয়োজনের কথা বারবার বলা হচ্ছে বটে তবে তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না। বরং বিষয়টি নিয়ে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর প্রতারণা, মিথ্যাচার ও উদাসীনতার ব্যাপরটি উন্নয়নকামী দেশগুলোর সামনে পরিষ্কার হয়ে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য যে প্রতিশ্রুতি ছিল তাও মানা হচ্ছে না।
২০১৪ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউনেপ) এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শুধুমাত্র অভিযোজনের জন্য ২০২৫ সাল নাগাদ প্রতি বছরে কমপক্ষে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। বাস্তবে, শিল্পোন্নত দেশগুলো (২০১০ সাল হতে ২০১৬ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে মাত্র ৪২ শতাংশ তহবিল ছাড় করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় তা সামান্য হওয়ায় বাংলাদেশের মত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকাংশেই অসম্ভব হবে। উল্লেখ্য, ২০৩০ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র বাংলাদেশে অভিযোজনের জন্য গড়ে প্রতি বছর কমপক্ষে ২.৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎস হতে গত ৬ বছরে মাত্র ১.২৭ বিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছে।
এর অর্থ হলো পৃথিবীকে প্রাণদায়ী রাখতে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক চতুরতা রয়েছে। এই চতুরতা যে, পৃথিবীতে প্রাণের বিনাশ ঘটাবে পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তা-ই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
পৃথিবী যদি মানুষের হয়Ñ তা হলে প্রাণের স্পন্দন রাখতে মানুষের স্বার্থকেই একমাত্র গুরুত্ব দিতে হবে। খ-িতভাবে স্বার্থ হাসিল ও মোড়লিপনার দুষ্টচক্র এক্ষেত্রে সর্বনাশই শেষ কথা হবে- তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ