পদ্মার কোলে মাছ চাষে দারিদ্রমুক্তির স্বপ্ন

আপডেট: মার্চ ৮, ২০১৭, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

একেতোতা, গোদাগাড়ী



রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর কোলে (ডামুস) মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে দুই শতাধিক মাছ চাষির। অল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় দারিদ্র থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন তারা।
স্থানীয় ও মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর শুল্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে ছোট বড় একাধিক চর জেগে ওঠে। এতে করে পানি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হওয়ায় একাধিক কোল (ডামুস) সৃষ্টি হয়েছে। এসব কোলে গত কয়েক বছর ধরে দেশি জাতের মাছ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে মাছ চাষিরা। চলতি মৌসুমে উপজেলার চর নওশেরা, নিমতলা, হরিশংকরপুর, মোল্লাপাড়া ও দিয়াড় মহব্বতপুর এলাকায় ছয়টি কোলে মাছ চাষ হয়েছে। একটি কোলে ২০ থেকে ৬০ জন দরিদ্র মাছ চাষি সুফলভোগী হিসেবে রয়েছে।
চর নওশেরা কোলে মাছ চাষকারী দলনেতা আবদুর রাজ্জাক বলেন, কোলে মাছ চাষের আগে উপজেলা মৎস্য অধিদফতর থেকে ৬০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এরপর বিনামূল্যে মাছের পোনা দেয়া হয়। তারা ৬০ জন মিলে মাছ চাষের বাকি খরচ যোগাচ্ছে। তাদের এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৪ লাখ টাকা। আগামী তিন সপ্তার মধ্যে কোলের মাছের উৎপাদন পাওয়া যাবে। ২০ মেট্রিক টনের বেশি মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব মাছ বিক্রি করে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোলে মাছচাষকারী দলের সদস্য মুরশালিনা বেগম বলেন, পুকুর লীজ কিংবা পুকুর ক্রয় করে তাদের পক্ষে মাছ চাষ করা সম্ভব নয়। কিন্তু নদীর কোল সৃষ্টি হওয়ায় তাদের মাছ চাষের সুযোগ তৈরী হয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চরাঞ্চলের ৮৫টি দরিদ্র পরিবার মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হবে। উপজেলার হরিশংকরপুর পদ্মা নদীর কোলে মাছ চাষ করে ৩০ জন।
এই কোলের মাছ চাষকারী দলনেতা সেলিম রেজা বলেন, গত কোলে মাছ চাষ করে সাফল্য পাওয়ায় এবারো মাছ চাষ করেছে। কোলে মাছ দ্রুত বড় হওয়ায় ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে উৎপাদন পাওয়া যায়। আর নদীতে উৎপাদিত মাছের চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়। গত বছর মাছ চাষ করে ১০ লাখ টাকা আয় করে ৩০ জনের এই মাছ চাষি দলটি।
গোদাগাড়ী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আনারুল বিশ্বাস কোলে মাছ চাষ করে দারিদ্র বিমোচনে চাষিদেরকে পুরোপুরিভাবে সরকারি সাহায্য সহযোগিতার দাবি জানান।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শামশুল করিম বলেন, নদীতে মাছ দ্রুত বড় হয়। খাবারও কম লাগে। তাই অল্প খরচে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। জলবায়ু পরিবর্তানের বিরূপ প্রভাবের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি কমে যায়। সৃষ্টি হয় ছোট ছোট একাধিক কোল (ডামুস)। এই কোলগুলি ফাকায় থাকতো। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য অধিদফতর গত দুই বছর থেকে কোলগুলিতে মাছ চাষে দরিদ্র মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরীসহ বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নাইমূল হক বলেন, পদ্মা নদীতে খাচায় মাছ চাষের পাশাপাশি কোলে ব্যক্তিগত ও মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে মাছ চাষ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে চর নওশেরা পদ্মা নদীর কোল-১ এ ১৫ হেক্টরে ২৫ জন নিমতলা পদ্মা নদীর কোলে ১৫ হেক্টরে ৬০ জন, চর নওশেরা পদ্মা নদীর কোল-২ ৪০ হেক্টরে ৬০ জন, হরিশংকরপুর পদ্মা নদীর কোলে ১৬ হেক্টরে ৩০ জন, মোল্লাপাড়া পদ্মা নদীর কোলে ১৫ হেক্টরে ২০ জন, দিয়াড় মব্বতপুর পদ্মা নদীর কোলে ১৫ হেক্টরে ২৫ জন দারিদ্র মাছচাষি সুফলভোগী হিসেবে রয়েছে। এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা সংলগ্ন চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলীতে দুইটি কোলে মাছ চাষ হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ