পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই

আপডেট: আগস্ট ১৫, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


পদ্মায় পানি বাড়ার কারণে নগরীর টি-বাাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে-সোনার দেশ

রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ। এছাড়া পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সেই সঙ্গে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে রাজশাহীবাসী। তবে এতে আতঙ্ক না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘শহর রক্ষা বাঁধ এখন পর্যন্ত ভালো আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত বালুর ব্যাগ ও ব্লক মজুদ আছে। এনিয়ে রাজশাহীবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সহকারী নজরুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘রাজশাহীতে পদ্মা নদীর বিপদসীমা হচ্ছে ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। তবে পানি এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। গতকাল সোমবার ( ১৪ আগস্ট) সকালে পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৬২ মিটার, দুপুরে ছিল ১৬ দশমিক ৬৬ মিটার। তবে যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে করে দু-একদিনের মধ্যে বিপাদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে রোববার (১৩ আগস্ট) সকালে পানির উচ্চতা ছিল ১৬ দশমিক ৪২ মিটার, দুপুরে ১৬ দশমিক ৪৮ মিটার, সন্ধ্যায় ১৬ দশমিক ৫৭ মিটার এবং শনিবার ( ১২ আগস্ট) সকালে ছিল ১৬ দশমিক ২৪ মিটার, দুপুরে ১৬ দশমিক ২৯ মিটার ও সন্ধ্যায় ছিল ১৬ দশমিক ৩৩ মিটার।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৬টা, দুপুর ১২টা ও সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হচ্ছে।’
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘দেশের অন্য এলাকায় বন্যার পানিতে বিপদ সংকেত দেখা দিয়েছে। সাধারণত দেশের বন্যার পরিস্থিতির শেষ দিকে রাজশাহীতে পানি বৃদ্ধি পায়। তাই এসময় রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড কেমন প্রস্তুতি নিয়েছে আমার জানা নেই। তবে বিশেষ করে সোনাইকান্দি বেড়পাড়া, বুলনপুর, পুলিশ লাইন টি-গ্রোয়েন, শ্মশান ঘাট এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধে হুমকির মুখে রয়েছে। আর সরকার থেকে শহর রক্ষা বাঁধের জন্য বরাদ্দ ২৬৬ কোটি টাকার কাজ এখনও শুরু হয়নি। তাই পানি বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলে শহর রক্ষা বাঁধকে ভালোভাবে মেরামত করা উচিত। যাতে করে নগরবাসী পানি বৃদ্ধির কারণে ভয় না পায়।’
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘২৬৬ কোটি টাকার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। বুলনপুরে গেলেই আপনারা কাজের নুমনা দেখতে পারবেন। এছাড়াও শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে নিয়মিত দেখভাল ও মনিটরিং করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে যা করণীয় তার সব কিছুই করা হবে। শুধু তাই নয়, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’