পদ্মাসেতুর উদ্বোধন ঘিরে নগরবাসীর উচ্ছ্বাস

আপডেট: জুন ১৩, ২০২২, ২:০১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


পদ্মা সেতু আর স্বপ্ন নয়, শুধুই বাস্তবতা। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু ২৫ জুন উদ্বোধন হতে চলেছে। উদ্বোধনের পর থেকেই রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে উদ্বোধনের পরের দিন অর্থাৎ ২৬ জুন। এই সেতু উদ্বোধন করবেন জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই অদম্য নেতৃত্ব ও সাহসের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

স্ব-অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন একই সাথে স্পর্ধিত বাঙালি জাতির স্বনির্ভরতার গল্পও। গৌরবময় পদ্মাসেতুর উদ্বোধন ঘিরে রাজশাহীতে উৎসাহ- উদ্দীপনার মোটেও কমতি নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতুহলের শেষ নেই।

‘শেখের বেটি’ এটা কীভাবে সফল করে তুললো? উৎসাহ-উদ্দীপনা শহরে, তেমনি গ্রাম প্রান্তরেও। মিলে যায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চে ভাষণে সেই উদ্ধত আহবান- ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ তারই কন্যার নেতৃত্বে জাতি আবারো প্রমাণ করলো- বাঙালির অদম্য ইচ্ছেকে দাবিয়ে রাখা যায় না।

চলছে ক্ষণগণনা। আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হবে। সাক্ষী হবে রাজশাহীর মানুষ। সাক্ষী হবে বাংলাদেশের মানুষ সাথে বিশ্ববাসী। রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের মানুষের মাঝে পদ্মাসেতুর উদ্বোধনকে সামনে রেখে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ ভিন্ন দল ও সাধারণ মানুষ বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনায় প্রহর কাটাচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে নগরীতেই আনন্দ উদযাপন করবে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মি ও সমর্থক।

উদ্বোধনী দিনে নগর আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় যোগদানের পরিকল্পনা থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় তা হচ্ছে না। তবে নির্দেশনা মেনে নগরীতেই উৎসবমুখর আয়োজন থাকছে বলে জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের নেতারা।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, পদ্মা সেতু বিশ্ব দরবারে আমাদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। সবকিছু পিছু ফেলে বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। যা আজকে বাস্তবে রূপ পেয়েছে। যদিও বিরোধিতাকারীরা সমালোচনা করছে। এটা উচিত না। জাতীয় স্বার্থে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য থাকতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি কর্মী ও দেশের মানুষ পদ্মা সেতু নিয়ে গর্ব করে। সেই সেতুর উদ্বোধনীতে আমাদের বেশকিছু পরিকল্পনা ছিলো। ঢাকার বাইরে একটি প্রতিনিধি টিম যাওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে রাজশাহীতেই আনন্দ উদযাপন করা হবে।

নগরীর জিরোপয়েন্ট এলাকায় মঞ্চ স্থাপন করা হবে। যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে। রাজশাহীর সকল নেতা-কর্মী ভার্চুয়ালি নগরী থেকে কেন্দ্রীয় আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এই প্রান্তে বড় প্রজেক্টরের ব্যবস্থা করা হবে। উদ্বোধন শেষে নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপস্থিত প্রত্যেককে মিষ্টি বিতরণ করা হবে। ব্যান্ড পার্টি থাকবে। সকল নেতা-কর্মী আনন্দ উদযাপন করবে। নগরীতে গাড়িতে করে গম্ভীরা পরিবেশন করা হবে। নগরীর এই আয়োজনে ছাত্র সংগঠন ও সহযোগী ভাতৃপ্রীতম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, আমাদের বহুল আকাক্সিক্ষত পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। পদ্মা সেতুতে এরইমধ্যে পরীক্ষামূলক ল্যাম্পপোস্ট প্রজ্জ্বলিত হয়েছে। যেটি আগামী ২৫ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীর মধ্যে দিয়ে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রথম বাতি জ্বলে ওঠার খবরে আমার মধ্যে এক অন্য রকম আবেগ ও অনুভূতি কাজ করছিলো। যেটা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দেশের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা করে নিয়েছে। আর চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে বাঁধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধনীতে তার একজন কর্মী হিসেবে অন্যরকম উচ্ছ্বাস কাজ করছে। উদ্বোধনীর আয়োজন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে নগর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হবে। আমাদের পৃথক কোনো কর্মসূচি আপাতত সেদিন নাই। তবে সকলে মিলে আনন্দ উদযাপন করবো।

ওয়াকার্স পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ নিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। যা এখন বাস্তব। উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এই সেতু বাঙালি জাতির জন্য গর্বের। এটি মাইল ফলক হিসেবে দেশের অর্জন হিসেবে থাকবে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, পদ্মা সেতুর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি নিজেই পদ্মা সেতু দেখে এসেছি। সেতু মানেই দুটি লোকালয়ের মিলন মালা। পদ্মা সেতু শুধু দেশের জন্য নয়; পৃথিবীতেও দৃষ্টান্ত। এই সেতুর মাধ্যমে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হবে। জাজিরা পয়েন্টে অনেক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এটি এই জাতির জন্য বিশাল অর্জন। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু রেখে যেতে পারছি।

রাজশাহী নগরীর অটো রিকশাচালক মোস্তাক আলী বলেন, পদ্মা সেতুর নাম এতোবার শুনেছি যে এই সেতু নিয়ে অনেক কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এতো বড় সেতু শুনেছি পৃথিবীতে আর নাই। নিজের দেশে এতো বড় সেতু হচ্ছে এটা তো গর্বেরই। একবার হলেও সেতু দেখতে যাব।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, ২০০৫-০৬ সালে ১০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছিলো। যা এখন ৩০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। পদ্মা সেতু এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এরমধ্যে দিয়ে জনগণের দাবি পূরণ হলো।

কিন্তু ঋণের বোঝা জনগণের কাঁধেই থাকলো। এই সেতু একক কোনো সরকার বা দলের অর্জন নয়; ধারাবাহিক সরকারের কর্মকা-ের ফল। এটি বিশ^ দরবারে দৃষ্টান্ত। একইসঙ্গে এই সেতুতে যে পরিমাণ অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে এটারও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।