পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে অসময়ে ভাঙন গোদাগাড়ীতে হুমকির মুখে তিন স্কুলসহ পাঁচশতাধিক ঘর-বাড়ি

আপডেট: এপ্রিল ২৬, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী


গোদাগাড়িতে পদ্মা মহানন্দা মিলনস্থলে দেখা দিয়েছে ভাঙন-সোনার দেশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর তীর অসময়ে ভাঙতে শুরু করেছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পৌর এলাকার সারাংপুর, কাঁচারীপাড়া, সুলতানগঞ্জ, কবুতরপাড়া ও গাঙ্গোবাড়ী গ্রামের তিনটি স্কুলসহ পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর।
এলাকাবাসী জানায়, গত কয়েক বছর ধরে শুল্ক মৌসুমে নদী পাড়ের নিচ থেকে বালু ও মাটি অবাধে উত্তোলন করা হচ্ছে। গভীর হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবেশ করে নদীর তীরে ভাঙন দেখা যায়। গাঙ্গোবাড়ী গ্রামের সাহেব আলী বলেন, প্রতিদিন নদীর নিচ থেকে ১শ এর বেশি ট্রাক ও টলিতে করে মাটি ও বালি উত্তোলন করা হয়। নদীর পাড়ের নিচের মাটি ও বালি সরে গেলে ভাঙন শুরু হয়। শুল্ক মৌসুমে নদীর পাড় অল্প পরিমাণে ভাঙলেও বর্ষা মৌসুমে ভাঙন তীব্রতর হয়।
সুলতানগঞ্জ গ্রামের মুজিবুর রহমান বলেন, সুলতানগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়, কাঁচারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুলতানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নদী ভাঙনের দূরুত্ব আধা কিলোমিটার। আর নদী ভাঙন থেকে ২শ গজ দূরে রয়েছে পাঁচ শতাধিক বাড়ি-ঘর ও একটি পাকা রাস্তা।
গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সুফিয়া খাতুন মিলি বলেন, নদী পাড়ের নিচ থেকে বালি ও মাটি উত্তোলন বন্ধ করে নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ শুল্ক মৌসুমে নির্মাণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই শতাধিক বাড়িঘর, গাছ ও মূল্যবান স্থাপনা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা হয়েছে। নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় সাংসদের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
গত বর্ষায় নদীর পাড়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর পাড়ে কিছু বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করে। নদী পাড়ের ৫ গ্রামবাসী জরুরিভাবে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে উপজেলার বারুইপাড়া, মাদারপুর, রেলবাজার, মাটিকাটা, ভাটোপাড়া, বিদিরপুর, প্রেমতলীসহ এলাধীক স্থানে পদ্মা নদীর পাড়ের নিচ থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কারণে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের কিছু অংশে ফাঁটল দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানওয়ার হোসেন বলেন, লীজ নিয়ে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া বালু উত্তোলন করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ