পদ্মা নদীর চর থেকে বালু লুটে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

আপডেট: জুন ৫, ২০২২, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:


নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রোববার (৫ জুন) বালু লুটের ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসলেম উদ্দিন পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে শুনানী শেষে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ জারি করেন বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত চারজন হলেন, লালপুর উপজেলার বালিতিতা এলাকার স্থানীয় ঠিকাদার শরীফুল ইসলাম, দক্ষিণ লালপুরের মতিউর রহমান, বড়াইগ্রামের বনপাড়ার মেসার্স আরাফাত ট্রেডার্সের মালিক ঠিকাদার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও কালিকাপুর এলাকার মোস্তফা ব্যাপারী।

আদালত সূত্রে জানা যায়, লালপুরের পদ্মা নদীর চর থেকে বালু লুটের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। তা দৃষ্টিগোচর হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ স্বপ্রণোদিত হয়ে বালু লুটের ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। লালপুরের অন্য যেকোনো নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দের নির্দেশ দেন।

পিবিআই নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে গত ১৯ এপ্রিল পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন ও তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নিতাই কুমার সাহা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামিদের শনাক্ত, সাক্ষীদের জবানবন্দি নেওয়া, ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র ও সূচিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু করেন।

দুই মাস তদন্ত শেষে তিনি গত বৃহস্পতিবার লালপুর আমলি আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। দাখিলকৃত ৬ পাতার এই তদন্ত প্রতিবেদনে বালু লুটের ঘটনায় জড়িত থাকায় উক্ত চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

লালপুর আমলী আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) বেলাল হোসেন উল্লেখিত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হলে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসলেম উদ্দিন তা আমলে নিয়ে শুনানী শেষে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ জারি করেন।

আসামিদেরকে আগামি ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ওই দিন এই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। শীঘ্রই গ্রেপ্তারী পরোয়ানা নাটোরের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর, বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের ১২ কিলোমিটার প্রবাহিত পদ্মা নদীর উত্তর তীর। এই এলাকায় পদ্মা নদীর চর থেকে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ভূমিদস্যু ও বালু ব্যবসায়ীরা। বালু উত্তোলনের ফলে প্রস্তাবিত নাটোর অর্থনৈতিক অঞ্চল, আশ্রয়ণ প্রকল্প, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা ভবন, বাজার, নদীরক্ষা বাঁধসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ভাঙনের কবলে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বালু ভর্তি ও খালি ট্রাক চলাচলে ফসলি জমির পাশ ও গ্রামের রাস্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়কের ক্ষতি হয়েছে। অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজন গৃহিণী বলেন, রাস্তার চলন্ত ট্রাকের বালু বাতাসে উড়ে এসে বাড়িঘর নোংরা করে দেয়। ফলে ঘর পরিষ্কার রাখতে হিমশিম খেতে হয়।

 

বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে একটি সেতুসহ বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লালপুরে পদ্মা নদীর চরে ফসলি জমির পাশ থেকে দুই মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। প্রতিদিন ৭০টি ডাম্প ট্রাকে করে মোট ৪ হাজার ২০০ ট্রাক বালু নেওয়া হয়েছে। এতে আগামী বর্ষায় স্থানীয় লোকজনের কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।