পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকাসহ রাসেল ভাইপার আতঙ্কে চারঘাট উপজেলাবাসী

আপডেট: জুন ২৪, ২০২৪, ৯:৫০ অপরাহ্ণ


চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


রাসেল ভাইপার সাপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নেতিবাচক তথ্যগুলো দেখে আতঙ্কিত চারঘাট উপজেলাবাসী। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজগামী কোমলমতি শিশু-কিশোর, ছাত্র-ছাত্রী ও কৃষকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সাপের নেতিবাচক তথ্য অতিদ্রুত ভাইরাল হওয়ায় রীতিমত প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকার চায়ের দোকান ও বন্ধুমহলে। তবে বন্যপ্রাণী দপ্তররের তথ্যমতে রাসেল ভাইপার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এই সাপ শান্ত প্রকৃতির এবং তেড়ে গিয়ে কামড় দেয় না।

চারঘাট পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড থানাপাড়া গ্রামের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী স্নেহা বলেন, আমি গত কয়েকদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় রাসেল ভাইপার সাপ নিয়ে এত পরিমাণ ভিডিও দেখেছি যে, এখন আমি একা ঘুমাতে পারি না। ঘুমালে মনে সাপ তেড়ে আমাকে কামড় দিচ্ছে। একই রকম কথা বলেছেন সরদহ সরকারি ডিগিী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র দিগন্ত, নিশীথা, মালাসহ আরও অনেকে।

শুধুমাত্র নেতিবাচক তথ্য না দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্যারালাল কৌশল অবলম্বন করে দায়িত্বশীল তথ্য দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন অভিভাবকরা। পিরোজপুর গ্রামের কৃষক হেজবুথ বলেন কৃষি ক্ষেতে ধান কাটতে কৃষকরা ভয় পাচ্ছেন। তবে কোনো ব্যক্তিকে সাপে কাটলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র দ্রুত সেবা পাওয়া যায় এবং প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম যেন পাওয়া যায় সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান।

এটা সত্য যে, আমরা সকলেই আতংকিত তবে আমাদের আরও বেশি সাবধনতা অবলম্বন করা দরকার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার যাতে করে এই সাপ কাছে আসলে প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি বলে জানিয়েছেন সরদহ সরকারি মহাবিদ্যালয়’র অবসরপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞান’র-অধ্যাপক মাজদার রহমান।

উল্লেখ্য, চারঘাট উপজেলার প্রায় ২১ কিমি দীর্ঘ এলাকা পদ্মা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় অত্র তীরবর্তী ও চরাঞ্চলগুলোতে কৃষকরা কৃষি চাষাবাদ করেন। এসকল এলকাবাসীদের কথা বলে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে এই সাপ প্রচুর পরিমাণে দেখা গেছে। গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা ও কুঠিপাড়া সংলগ্ন নদী তীরবর্তী এলাকা-গুলোতে প্রায় ১৬টি এই সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত কয়েক মাসে উপজেলায় ২ জন এই সাপের দংশনে দংশিত হয়েছেন যার মাঝে মোক্তারপুর গ্রামের রাজশাহী ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলেও জানায় এলাকাবাসী।

জেলা বণ্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রাসেল ভাইপারের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে এর বৈজ্ঞানিক কোনো তথ্য নয়। তবে সাপের সংখ্য বৃদ্ধি পেতে পারে। কৃষি জমিতে ফলন বেশি হলে ইঁদুরের সংখ্যা বা বংশ বিস্তার স্বাভাভিক ভাবে বৃদ্ধি পাবে। সাপের প্রধান খাদ্য হচ্ছে ইঁদুর। যার কারণে সাপ পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে এবং তাদের বংশ বিস্তার বেশি হচ্ছে।

সম্প্রতি রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ। তবে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কিত না হয়ে বাড়ির চারপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ