পদ্মা সেতু: শুধু কি স্বপ্নের সেতু?

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

আসাদ মান্নান


বাঙালির এক অবিস্মরণীয় স্বপ্নজয়ের নাম পদ্মা সেতু, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কাছে; বলা যায় হাজার বছরের ‘স্বপ্ন-সেতু’ হচ্ছে এ সেতু। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে বঙ্গবন্ধু সেতু কী অপরিসীম ভূমিকা রাখছে তা আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। কাজেই যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুর অনুরূপ পদ্মা নদীর উপর নির্মিতব্য পদ্মা সেতু হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনে কী উন্নয়ন হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ যোগাযোগ ব্যবস্থার এক মহা বিড়ম্বনার শিকার বহুকাল ধরে। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পাঠে অনুধাবন করা যায় সেই বিড়ম্বনার ব্যাপ্তি ও গভীরতা কতখানি। জননেত্রী শেখ হাসিনা, তিনি শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি জাতির পিতার কন্যা, দেশরতœ শেখ হাসিনা। যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান। বাঙালির সার্বিক মুক্তি কিভাবে সম্ভব তাঁর চেয়ে বেশি কে আর অমন হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারেন!
অবহেলিত জনপদের উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে একদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করলেন পদ্মা নদীর উপর একটা সেতু বানাবেন। কিন্তু টাকা কোথায়? নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় একটা সেতু নির্মাণ করা তো সম্ভব নয়। তারপরও তিনি স্বপ্ন আর সাহস নিয়ে নেমে পড়লেন। আড়ালে থেকেই যেন মহামতি পিতা তাঁকে সাহস দিচ্ছেন। পিতা যেমন নিরন্ন-নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র হওয়ার মন্ত্রে দীক্ষা দেন, স্বাধীনতার আকাঙ্খায় উজ্জীবিত করেন, অনেকটা তেমন। মূলত জাতির পিতার অবিস্মরণীয় ও অবিসম্বাদিত নেতৃত্বের বলে বলিয়ান হয়ে যুদ্ধজয়ের অভিজ্ঞতাহীন বাঙালি জাতি সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দখলদার পাকবাহিনীকে হটিয়ে দেয়, স্বদেশ-মাতাকে মুক্ত করে, স্বাধীনতা লাভ করে।
প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন ভাষণ ও বক্তব্য শুনে, লেখা পাঠ করে আমরা সহজে অনুধাবন করতে পারি যে, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আপসহীন লড়াই-সংগ্রাম, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ এবং পিতার মতো জনগণের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসাই তাঁর সব কাজের মূল প্রেরণা, এবং সততা তাঁর প্রধান শক্তি। কাজেই পদ্মা সেতু হবে– নিজেদের অর্থের সঙ্গে বৈদেশিক ঋণসহায়তা যুক্ত করে এ সেতু নির্মাণ করা হবে। বিশ্বব্যাংকসহ আরও কয়েকটি দাতা সংস্থা পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নে প্রবল আগ্রহে এগিয়ে আসে। ঋণচুক্তি সম্পাদিত হল যথা নিয়মে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রারম্ভিক কাজ পুরোদমে শুরু হল। একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হল যিনি নিজেও একজন ভুক্তভোগী।
অবিরাম গতিতে যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রায় শেষ। এমন সময়ে সংবাদ রটানো হল পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। যে প্রকল্পে দুর্নীতি হয় সে প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করে না। চমৎকার সব নাটকীয় কাহিনির জন্ম হল। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এ ঘটনা। বিশ্বব্যাংক ঋণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। সরে দাঁড়ায় অন্য সংস্থাগুলোও।
চারিদিকে ‘ছিঃ ছিঃ’ রব ওঠে। মুখ দেখানো যেন মুশকিল হল। সরকারবিরোধী কতিপয় সুশীল মহাজন আর মিডিয়াবাজ বুদ্ধিজীবী তো রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়লেন। পারলে সরকারের ১২টা বাজিয়ে ছাড়ে আর কি!
কিন্তু আজ সময়ের পরিক্রমায় প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এসেছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি হয়নি কিংবা দুর্নীতির প্রয়াসও ছিল না। এটা ছিল ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সেই পুরনো শকুন স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের এক গভীর ষড়যন্ত্র। আনন্দের বিষয় যে, কিছুদিন আগে কথিত ভুয়া দুর্নীতির অপমানজনক অপবাদ থেকে বাংলাদেশ সরকার তথা এ দেশের জনগণ মুক্ত হয়েছে। কানাডিয়ান আদালত খালাস দিয়েছে তিন কথিত অভিযুক্তকে।
অথচ পরিতাপের বিষয়: এ দেশের কতিপয় স্বার্থান্বেষীর ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন আমার দেখা মতে একজন অসাধারণ দায়িত্বনিষ্ঠ, সৎ ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবুল হোসেন। তাঁকে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অপবাদ মাথায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে দুঃখজনকভাবে সরে যেতে হয়। সেই সময় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একজন মধ্যম সারির কর্মকর্তা হিসেবে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার। তাঁর নিরন্তর শ্রম, নিষ্ঠা, একাগ্রতা, নাওয়া-খাওয়া-ঘুম হারাম করে দেওয়া, প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের প্রতি তাঁর গভীর দায়বদ্ধতা দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছি। পদোন্নতি পেয়ে আমি যখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে বদলি হয়ে যাই, একই ভবনে ছিলাম বলে তখনও দেখেছি তাকে কী নিমগ্ন ছিলেন পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে।
বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে ২০১০ সালে অক্টোবর মাসে আমি রাজশাহী বদলি হয়ে যাই। মাঠ পর্যায়ে কাজের ধরন একটু ভিন্ন প্রকৃতির। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার একজন মাঠকর্মী হিসেবে রাজশাহী বিভাগের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছি, আর অবাক হয়ে দেখছি বরেন্দ্র এলাকার নিরন্তর পরিশ্রমী মানুষের অফুরন্ত প্রাণপ্রাচুর্য্য, এ মাটির ফসল দেওয়ার শক্তি ও সম্ভাবনা। এ মাটিই আমাদের প্রধান সম্পদ, যে মাটি ১৬ কোটি মানুষের আহার যোগাচ্ছে। একের পর এক ফসল দিচ্ছে। দিচ্ছে নানা রকম ফল-ফলাদি ও শাক-সবজি।
মানুষ না খেয়ে নেই। বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতার বাংলাদেশকে কেউ ‘দাবায়া’ রাখতে পারবে না। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে আমরা মাঠ প্রশাসনের কর্মীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি দেশের মানুষের জন্য। এমন এক সময়ে বিশ্বব্যাংক ও তাদের এ দেশীয় সহচর ষড়যন্ত্রীরা পদ্মা সেতু প্রকল্পে তথাকথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে রীতিমত দেশজুড়ে হই চই ফেলে দেয়। সরকার ও উন্নয়নবিরোধী গোষ্ঠী, বিশেষ করে মিডিয়া তো ঘুম-নিদ্রা হারাম করে মাঠে নামে। একপর্যায়ে সরকারও মুখ রাখতে সৈয়দ আবুল হোসেন সাহেবকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেন। কিছুদিন পর সেই দায়িত্ব থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বলার আর প্রয়োজন নেই যে, আবুল হোসেন সাহেব স্বাভাবিকভাবে মর্মাহত হলেন। অনেকটা আড়ালে চলে গেলেন।
কিন্তু অনমনীয় বিশ্বব্যাংক ২০১২ সালের ২৯ জুন পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে তাদের ঋণ সহায়তা প্রত্যাহার করে নেয়। ষড়যন্ত্রী মহল আর কিছু মিডিয়া তো রীতিমত সরকারের তুলাধুনা করতে থাকে। রাতের বেলায় টকারদের (টকশো অংশগ্রহণকারীরা) ঘুম-নিদ্রা হারাম হয়ে যায়। এতে দেশবাসীর মতো আমিও খুব কষ্ট পেয়েছি, হতবাক। পদ্মা সেতু বুঝি হবে না! কী থেকে কী হয়ে গেল!
২০১২ সালের ৭ জুলাই। দিনটির কথা আমি কখনও ভুলব না। রাজশাহী থেকে নওগাঁ হয়ে জয়পুরহাট যাচ্ছি প্রেসক্লাবের সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধন করতে। গাড়িতে চার-পাঁচটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। যেতে যেতে পত্রিকায় চোখ বুলোচ্ছি। পদ্মা সেতু ছাড়া তেমন আর কোনো খবর চোখে পড়ছে না। মনটা খারাপ হয়ে গেল আবার। কিন্তু মন খারাপ করে তো লাভ নেই। যেতে যেতে কর্মব্যস্ত জনপদ দেখছি: অবারিত মাঠজুড়ে ফসলের পর ফসল। মানুষজন সারাক্ষণ কাজে ব্যস্ত। বঙ্গবন্ধুর ডাকে এ দেশটা স্বাধীন করেছে এ দেশের মানুষ। লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে দেশের জন্য। যারা প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করেছে, জীবন দিয়েছে তাদের অধিকাংশই ছিল গ্রামের সামান্য লেখাপড়া জানা কিংবা নিরক্ষর মানুষ। এই নিরক্ষর মানুষদের দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করে আমরা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছি; চিন ও আমেরিকার মতো পরাশক্তির বিরোধিতা সত্ত্বেও আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি।
আজ আমরা কোটি কোটি মানুষ শিক্ষিত, অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও একটা সেতুর পয়সার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে হাত পাততে হল! উপায় ছিল না। গরিব দেশ বলে কথা। একাত্তর সালে আমরা আরও গরিব ছিলাম। মানুষজন ঠিকমতো তিন বেলা খেতে পারত না। পরণে ভালোমতো কাপড়ও ছিল না। দেশ এখন আর স্বাধীনতার আগের সময়ের মতো দরিদ্র নয়।
পদ্মা নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হবে। খুব আনন্দের কথা। নিজের টাকায় সম্ভব নয় বলে হাত পেতেছি তথাকথিত দাতা সংস্থার কাছে। ভালো কথা। কিন্তু দুর্নীতি নয়, দেওয়া হল দুর্নীতির ষড়যন্ত্র করার মতো হাস্যকর অপবাদ। কোনোভাবে সুস্থ বিবেকে মানা যায় না। যেখানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন জাতির পিতার কন্যা, যিনি সতত উচ্চারণ করেন– সততাই শক্তি সেখানে এটা কী করে সম্ভব! কোনোক্রমেই হতে পারে না।
এসব ভাবতে ভাবতে জয়পুরহাটে পৌঁছালাম বেলা ১২টা নাগাদ। জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে একটা মিটিংয়ে অংশ নিলাম। দুপুরের খাবারের পর গেলাম জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবে। আমার সঙ্গে জেলা প্রশাসকসহ জেলার অন্যান্য অফিসার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছিলেন। প্রেসক্লাবের দুই তলার সম্প্রসারিত ভবন আমাকে দিয়ে উদ্বোধন করানো হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরুর আগে আমার সামনে দেখি কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা প্রথম পাতায় আবারও চোখে পড়ে পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতি বিষয়ক রং-মেশানো রঙিন খবর। মেজাজটা আমার খারাপ হয়ে গেল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতা দিতে গিয়ে একপর্যায়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গৌরবজনক ঘটনাবলী, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়াসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের প্রসঙ্গ বলতে বলতে পদ্মা সেতু নিয়ে কথা তুললাম। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে কাজ করার স্মৃতিচারণ করলাম। দৃঢ়ভাবে বললাম:
“বিশ্বব্যাংকের এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। একদিন মিথ্যা প্রমাণিত হবে ইনশাল্লাহ।”
কী এক গভীর আত্মবিশ্বাস ও উপলব্ধি থেকে এ অনুষ্ঠানে আমি বললাম:
“জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন, ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাত আর বরেন্দ্রের মাটি থাকে ইনশাল্লাহ আমাদের টাকাই আমরা পদ্মা সেতু বানাব।
“এ দেশটা স্বাধীন করতে ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছেন, দুই লক্ষাধিক মা-বোন সম্ভ্রম দিয়েছেন সেই দেশটা আমাদের অনেক দিয়েছে, কিন্তু দেশকে আমরা কিছুই দিতে পারিনি, এবার দেয়ার একটা সুযোগ এসেছে। সরকার চাইলে পদ্মা সেতুর জন্য আমি আমার এক মাসের বেতন দিয়ে দেব।”
জেলা প্রশাসক অশোক কুমার বিশ্বাসসহ উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে সমর্থন জানালেন। এর তিন-চার দিন পরের ঘটনা। আমাকে হুমকি দিয়ে একটা বেনামী চিঠি এল জয়পুরহাট থেকে, আমি যেন এ ধরনের কথা আর উচ্চারণ না করি। জয়পুরহাটে মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি চেতনাবিরোধী লোকজনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। স্বাভাবিকভাবে আমার বক্তব্য তাদের মনঃপূত হয়নি। এমন আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করে যে আমি রাগে চিঠিটা ছিঁড়ে ফেলে দিই।
তারপরের ইতিহাস তো সবাই জানেন। এর কিছুদিন পরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে আমাদের নিজস্ব অর্থে। যা এখন করা হচ্ছে। পদ্মার কর্মযজ্ঞ দেখতে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি অনেকেই প্রকল্প এলাকায় আসছেন। কয়েক মাস আগে গণমাধ্যমের অনেক বন্ধুসহ পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে পদ্মা সেতুর কাজ দেখতে গিয়ে বুকটা আনন্দে ফুলে ওঠে। পদ্মা সেতুর জন্য আমরা গর্ব করতে পারি: বিশ্বকে জাতির পিতার কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা আজ দেখিয়ে দিয়েছেন যে, আমরাও পারি; বাংলাদেশ পারে, বাঙালি পারে।
সত্যিই তো পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে গণ্য হবে। বঙ্গবন্ধু সেতু যেমন দেশের উত্তরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জীবনে গতি ও সমৃদ্ধি দিয়েছে, পদ্মা সেতুও সেভাবে দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়ন ঘটাবে। তাই পদ্মা সেতুর জন্য একটা যুতসই নাম প্রস্তাব করে এ লেখার ইতি টানতে চাই– পদ্মা সেতুর নাম রাখা যেতে পারে ‘বাংলা সেতু’ কিংবা ‘বাঙালি সেতু’, গৌরব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে যা নিয়ে জাতি গর্ব করবে চিরদিন।
লেখক : কবি; বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক