পদ্মা সেতু: সড়কে নতুন রুট, নতুন শুরুর অপেক্ষা

আপডেট: জুন ২৩, ২০২২, ১২:২৭ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


গোপালগঞ্জের উজানি গ্রামের মাছ চাষী খলিলুর রহমান সোহেল আশায় আছেন পদ্মা সেতু চালু হলে সরাসরি ঢাকায় মাছ পাঠাবেন; প্রতি কেজি মাছে ১০ টাকা করে বেশি পাবেন।
তার মতো দক্ষিণের জনপদের অগণিত মানুষ উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা দেশের বৃহত্তম এ সেতুকে ঘিরে স্বপ্ন বুনছেন; যে সেতু বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি যোগাযোগের পথ খুলছে।

প্রমত্তা পদ্মাকে জোড়া দেওয়া এ সেতু সময় বাঁচানোর পাশাপাশি দূরত্বও ঘোচাবে। ফেরি পারাপার আর ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার দুর্ভোগের অবসান করবে।

এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব অঞ্চলের যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আনবে; ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে যা এ অঞ্চলের দিনবদলের যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির বাঁক বদলেও ভূমিকা রাখবে দেশের বড় অংশের জনপদের এ উন্নয়ন।

সবার মতো তারও দিন বদলাবে বলে মনে করছেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার উজানি গ্রামের মাছ চাষী খলিলুর রহমান সোহেল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, পদ্মা সেতু চালু হলে সরাসরি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছ পাঠাবেন তিনি। প্রতি বছর তার খামারে রুই, কাতলা, পুঁটি, তেলাপিয়া, বাটা ও কার্প মিলিয়ে হয় আড়াই হাজার মণ মাছ হয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় গোপালগঞ্জেই এসব মাছ বিক্রি করতে হয়, বাইরে পাঠাতে পারেন না। স্থানীয় বাজারে দামও ঠিক মত মেলে না।
“সেতু চালু হলে আমার মাছ ঢাকায় সরাসরি নিয়ে যেতে পারব। প্রতি কেজি মাছে ১০ টাকা করে বেশি পাব,” আশায় আছেন সোহেল।
তার স্বপ্ন পূরণের আর বেশি দেরি নেই। আগামী ২৫ জুন শনিবারের পর থেকেই তিনি সরাসরি যেতে পারবেন ঢাকায়। ওই দিন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। উদ্বোধনের পরদিন ২৬ জুন থেকে এ সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মাণের কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করা হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে বসে প্রথম স্প্যান। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় পূর্ণ আকৃতি পায় স্বপ্নের সেতু, যুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড়।

দেশের বৃহৎ এ অবকাঠামো আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সময় বাঁচবে, দূরত্ব কমবে ১০০ কিমি, থাকবে না ঘাটের ভোগান্তি
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে পদ্মায় দাঁড়িয়ে গেছে দেশের বৃহত্তম সেতু।

ইতোমধ্যে সড়কে ১৩টি বাসের রুট ঠিক করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস কোম্পানিগুলো দক্ষিণের জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিয়ে কাজ শুরু করেছে আগেই।
বলা হচ্ছে, পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা থেকে বাসে করে সাড়ে তিন ঘণ্টায় বরিশালে যাওয়া যাবে, যেখানে লঞ্চে যেতে সারা রাত লাগে। সময় বাঁচবে বলে অনেকেই জরুরি কাজে নৌপথের বদলে সড়কপথে যেতে চাইবেন।

হানিফ পরিবহনের ঢাকা বরিশাল রুটের বাস চালক সালাহউদ্দিন জানান, গাবতলী থেকে পাটুরিয়া হয়ে বরিশাল যেতে এখন ৭ থেকে ৮ ঘন্টা সময় লাগে। এরমধ্যে পাটুরিয়া পর্যন্ত দুই ঘণ্টা, ফেরি পার হতে এক ঘণ্টা এবং নদীর ওপর থেকে বরিশাল যেতে লাগে আরও সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা।

কোনো কারণে ফেরি পেতে দেরি হলে যাত্রার সময়ও বেড়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হলে সায়েদাবাদ থেকে বরিশাল পর্যন্ত যেতে সময় বাঁচবে তিন ঘণ্টার মত।

ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস সেতু হয়ে পদ্মা পাড়ি দিলে দূরত্ব কমবে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি, আরিচা হয়ে ঘুরতে হবে না। সেইসঙ্গে ফেরি পারাপার ও ঘাটের যন্ত্রণা দূর হলে এখনকার চেয়ে কয়েক ঘণ্টা সময় কম লাগবে গন্তব্যে পৌঁছাতে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন রুটে বাস নামানোর অপেক্ষা
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-সিলেট-রংপুর রুটে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না বলে চিন্তায় আছেন বিভিন্ন কোম্পানির বাস মালিকরা। এখন তারা দিন গুনছেন পদ্মা সেতু চালুর পর নতুন রুটগুলোকে ঘিরে। পরিস্থিতি বুঝে নতুন বাস নামানোর অপেক্ষা করছেন।
বিলাসবহুল বাস সার্ভিস গ্রিন লাইন ইতিমধ্যে বিভিন্ন গন্তব্যের ভাড়া জানিয়ে প্রচার শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দুটি বাস ১৬ জুন থেকে নামানো হয়েছে জানিয়ে ইউনিক কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হক বলেন, আরও দুটি বাস এই রুটে নামানো হবে।
পদ্মা সেতু চালুর পর সিলেট থেকে কুয়াকাটা দুটি বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। আর ঢাকা থেকে বরিশাল রুট নিয়েও ভাবছেন তারা।

সোহাগ পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফারুক তালুকদার সোহেল জানান, খুলনা, যশোর ও বেনাপোল রুটে সোহাগের ৫০টি বাস চলে। এরমধ্যে পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াতের জন্য ১০টি বাস নির্ধারণ করেছেন তারা, যেগুলো খুলনা পর্যন্ত যাবে।

“সেতু চালু হওয়ার পর আমরা দেখব যাত্রীদের চাহিদা কেমন। চাহিদা বেশি হলে তখন বাসের সংখ্যাও হয়ত বাড়বে,” যোগ করেন তিনি।
শ্যামলী এনআর পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, খুলনা ও বরিশাল রুটে প্রায় একশটি গাড়ির চাহিদা থাকলেও শুরুতে সায়েদাবাদ থেকে ১০-১২টি বাস চালাবেন।

ড্রিমলাইন পরিবহনের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, যেহেতু একটি রুট হয়েছে। এই রুটে অনেক মানুষ যাতায়ত করবে বলে মনে হচ্ছে। তাই পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিব।
তাদের মতই একইরকম ভাবনার কথা জানালেন অন্য কোম্পানির বাস মালিক ও সংশ্লিষ্টরা।

সেতু উদ্বোধনের দিনই শরীয়তপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে নতুন বাস নামানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শরীয়তপুরের বাস মালিকরা। এজন্য এসি ও নন-এসি বাসে প্রায় ৩০০ কোটি বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলেও তারা জানান।

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার মেয়র ও পরিবহন ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ জানান, পদ্মা ট্রাভেলস নামে তার ১২টি বাস এখন ঢাকা-শিমুলিয়া পথে পরীক্ষামূলক চলছে। উদ্বোধনের দিনই সেতু দিয়ে বাস সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা।
একই দিন ঢাকা-শরীয়তপুর পথে বাস নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানান শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ফারুক আহম্মেদ।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু বেপারী বলেন, শরীয়তপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে চালাতে শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস, শরীয়তপুর ট্রান্সপোট, পদ্মা ট্রাভেলস, গ্লোরি এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসি ও ‘নন-এনি বাস কেনা শুরু করেছে।
তাদের মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মত, বলে জানান তিনি।

যাত্রী সেবায় পরিবর্তনের আভাস
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের ১১৫টি পরিবহনের প্রায় ১ হাজার ১০০ বাস ঢাকার গাবতলী টার্মিনাল থেকে চলাচল করে বলে মালিক সমিতির তথ্য । সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান থেকে মাওয়াঘাট হয়ে সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২৫টি রুটে প্রায় ১৫০টির মতো বাস চলাচল করে।

পরিবহন মালিকরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হলে এসব বাসের একটা বড় অংশ ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে চলাচল করবে। দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় নৌপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাত্রী সেবা বাড়াতে বাস সেবায় নতুনত্ব আনার চিন্তা করছেন তারা।

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পদ্মা সেতু ঘিরে নতুন কী ধরনের সেবা দেওয়া যায় তা ভাবছেন তারা। ঢাকা ছাড়াও সিলেট, চট্টগ্রাম থেকেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাস চালানোর পরিকল্পনা করছে তার কোম্পানি শ্যামলী পরিবহন।

“আমরা রুটগুলো সার্ভে করবো যাত্রীদের চাহিদা কেমন আছে। কোথায় কোথায় কিভাবে কানেকটিং করা যায়। ওই অঞ্চলের যাত্রীদের একটা বড় অংশ লঞ্চে যাতায়াত করে। লঞ্চে আরামদায়ক কেবিন আছে। তাদেরকে বাসে আনার জন্য কী করতে হবে সে বিষয়টিও আমরা চিন্তা করছি।”

সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এই সেবাও বন্ধ ছিল পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগার পর। কিছু বাস এখন মাওয়া ঘাটে যায়; যাত্রীরা লঞ্চে পদ্মা পার হয়ে ওপারে গিয়ে আবার ওই পরিবহনের বাসে চড়েন।

বৃহ্ত্তর দক্ষিণবঙ্গ কোচ ও বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, সেতু চালু হলে বাসগুলো সরাসরি যাবে। এছাড়া নতুন করে আরও কিছু বাস নামানো হবে।

“আমাদের ওই বাসগুলো বন্ধ ছিল। এগুলো এখন সেতু হয়ে যাবে। এছাড়া হানিফ, শ্যামলীর মতো বড় পরিবহনগুলোও সায়েদাবাদ থেকে বাস চালু করবে।”
পদ্মা সেতু হয়ে নতুন আটটি রুটের অনুমোদনের জন্য পরিবহন মালিকরা আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন বিআরটিএর পরিচালক নূর মোহাম্মদ মজুমদার।

শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আন্তঃবিভাগীয় এসব রুটের অনুমোদন দেয় বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি। কমিটির কাছেই আবেদন এসেছে। ওই কমিটি একটি বৈঠকও করেছে। পরের মিটিংয়ে এসব রুট অনুমোদন হতে পারে।

প্রস্তুতি নিচ্ছে বিআরটিসিও
সেতু চালুর পরদিন থেকেই দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে নতুন-পুরনো ২৩ রুটে বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন (বিআরটিসি)।
শুরুতে এসব রুটে ৬৫টি এসি (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) বাস দেওয়া হবে, পরে চাহিদা অনুযায়ী নন-এসি বাসও নামাবে সংস্থাটি।

বর্তমানে ঢাকা থেকে ফেরি পারাপারের মাধ্যমে খুলনা এবং যশোর রুটে বিআরটিসির ১৮টি এসি বাস চলছে। এখন ঢাকা থেকে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, কুয়াটাকাসহ ২১ জেলায় বাস চালু করা হবে।
বিআরটিসি চাইছে, সেতু চালুর পর আগামী এক মাস বিভিন্ন রাস্তার পরিস্থিতি এবং যাত্রীদের মতামত বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী রুটগুলো সাজানো হবে।

করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন রুট চূড়ান্ত করতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক সেরে নিয়েছেন।

সোমবারের ওই বৈঠকে পুরনো দুই রুটের পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত মোট ২৩টি রুটে সেতু উদ্বোধনের পরদিন ২৬ জুন থেকেই বাস নামানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড।সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড।বহুমাত্রিক যোগাযোগের দিন শুরু

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নৌপথ আগে থেকেই জনপ্রিয়। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ একটি ভারমাস্যপূর্ণ বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন।

“শুধু নৌ, রেল বা নৌ-সড়কের ওপর নির্ভরশীল থেকে ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ গড়ে ওঠে না। তিনটির সমন্বয়ের মাধ্যমেই এটা হয়। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে গেল। বাস, ট্রেন ও নৌপথ প্রথম পেল এই এলাকার মানুষ। সবচাইতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা পেল।”

এ সেতুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের এলাকার যোগাযোগে রূপান্তর ঘটবে জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ এখানে বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা, ইকোনমিক করিডোর এবং ট্যুরিজম করিডোর হিসেবে কাজ করবে সেতুটি।
সুদিন আসবে পণ্য পরিবহনে
গোপালগঞ্জের মাছ চাষী সোহেলের মতো দক্ষিণের ২১ জেলার কৃষি ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনকারীরা দামের বৈষম্য ঘুচবে বলে আশায় বুক বেঁধে আছেন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি মো. আবদুর রহিম জানান, যশোর ও আশপাশের জেলাগুলোয় প্রতি বছর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ফুল উৎপাদিত হয়। তবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হত না।
“দেশের চাহিদার ৭০ শতাংশ এই এলাকায় হয়। সেগুলো ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।

পাশাপাশি এখান থেকে প্রচুর সবজি যায়। ঘাটে জ্যাম থাকার কারণে দেরি হয়, অনেক সময় গাড়িতেই ফুল পঁচে যায়। একই অবস্থা হয়েছে সবজির। ঘাটের সঙ্কটের কারণে ব্যবসা করতেও আগ্রহী হত না।

এখন কৃষকরাও চাইলে সরাসরি ঢাকায় যেতে পারবে।”
বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রুস্তম আলী খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কারণ ঘাটে এখন আর দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হবে না ফেরির জন্য। ঘাটে আসলে যতই ক্লিয়ার থাকুক পণ্যবাহী ফেরিতে সঠিক সময়ে ওঠা যেত না। কমপক্ষে একদিন বসে থাকতে হয় ফেরির জন্য। কোনো কোনো সময় এটা দুদিন-তিনদিন পেরিয়ে যায়।

“সেতু চালু হলে সবচেয়ে উপকারভোগী হবে সবজি মাছসহ পচনশীল পণ্য পরিবহনে। তারা দিনে দিনে ঢাকায় চলে আসতে পারবে। যশোরের দিক থেকে ঢাকায় কাঁচামাল এক্ষেত্রে বিশাল উন্নতি হবে।এক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”
তিনি বলেন, পণ্য পরিবহনের মালিকরা বিষয়টি চিন্তা ভাবনা করছেন। সেতু চালু হলে আরও নতুন নতুন ট্রাক চালু করা হবে।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ