পদ নিয়ে জাপা নেতাদের মারামারি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


নতুন কমিটিতে পদ নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দলের কাকরাইলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দপ্তর সম্পাদকের রুমে আড্ডা দিচ্ছিলেন নতুন কমিটির উপদেষ্টা শাহ ই আজম, ভাইস চেয়ারম্যান শফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ডাকসু সদস্য নির্মলদাস, নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন খান, দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, ছাত্রসমাজের সাবেক সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মিরুসহ নেতারা। আড্ডার এক পর্যায়ে কমিটির পদ পদবি এবং সিনিয়রদের উপর জুনিয়রদের পদায়ন নিয়ে কথা ওঠে।
নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মলদাস বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পার্টির চেয়ারম্যানসহ নেতাদের বিরুদ্ধে চেচামেচি করতে থাকলে কমিটিতে প্রমোশন পাওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন খান প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে দুজনে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়।
এক পর্যায়ে দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চুপ থাকতে বললে নির্মল দাস আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। নির্মলের সঙ্গে সুলতান ও হুমায়ুনের মারামরি হয়। এসময় নতুন কমিটির নেতা শাহ ই আজম, ছাত্রসমাজের সাবেক নেতা মিরুসহ অন্যরা নির্মলদাসকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এবিষয়ে নতুন কমিটির দপ্তর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, নির্মল যুগ্ম মহাসচিব হতে চেয়েছিলেন, না পেয়ে মদ খেয়ে পার্টি অফিসে এসে মাতাল অবস্থায় পার্টির চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করছিলেন। উপস্থিত নেতারা পরে তাকে অফিস থেকে বের করে দেন। এ নিয়ে মারামারি হয়নি বলেও দাবি করেন সুলতান মাহমুদ।
নির্মল দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাই আপনি যদি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন তাহলে তো সবই তো জানেন। আমাকে ফোন করছেন কেন?আমি আপনাকে চিনি না এ বিষয়ে কোন কথা বলব না।
দুদিন আগে জাতীয় পার্টির পুর্ণাঙ্গ নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের। অভিযোগ উঠেছে, কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিতদের রাখা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। দলের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমুলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এই কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ।
বিতর্কিত কমিটি গঠনের জন্য দলের চেয়ারম্যা জিএম কাদের ও তার ঘনিষ্ঠ একটি সিন্ডিকেটকে দায়ী করে ফেসবুকে প্রকাশ্য ক্ষোভ ঝাড়ছেন নেতারা। চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ দলের এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যের অভিযোগও করছেন নেতারা। কমিটির অসন্তোষের জের ধরেই বৃহস্পতিবার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে মারামারির এ ঘটনা ঘটে। সামনে আরো অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকাও করছেন তারা।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি