পবায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ৫০তম বর্ষপূর্তি পালিত ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন এসডিজি লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে : জেলা প্রশাসক

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২১, ৯:৫০ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে এগিয়ে আসে সংস্থাটি। ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) ও ভিশন-২০৪০ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে’। সেই লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের পাশাপাশি সংস্থাটি দেশের হতদরিদ্র পিছিয়ে পড়া পথশিশু, আদিবাসী ও সমাজের দরিদ্র-নিপীড়িত মানুষের জীবন ও জীবিকার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে পবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ৫০তম বর্ষপূর্তি’র আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

৫০তম বর্ষপূর্তিতে সংস্থাটির উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের আলোকে জেলা প্রশাসক বলেন, ১৯৫০ সালে ড. বব পিয়ার্সের প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করছে। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে প্রলয়ংকারী সাইক্লোনে বিধ্বস্ত-বানভাসী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল ওয়ার্ল্ড ভিশন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত সরকারের পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশন। দেশে ফেরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জরুরি ত্রাণ দেওয়াসহ রাস্তাঘাট নির্মাণ, নলকূপ ও খাল খনন, স্কুল কলেজ ও ডিস্পেন্সারি নির্মাণের জন্য প্রায় দুই লক্ষ তেষট্টি হাজার মার্কিন ডলারের ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে। একই বছর সংস্থাটি বর্তমান নেত্রকোনা জেলার বিরিশিরিতে এর কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। আর এর মাধ্যমে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশে ওয়ার্ল্ড ভিশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। এছাড়া সংস্থাটি করোনাকালীন সরকারের পাশাপাশি ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছে। এ সংস্থাটি বিভিন্ন অংশীদার, বিশেষ করে সরকার এবং সুশীল সমাজের সেবায় কাজ করে থাকে। তাই ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লসমী চাকমা’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসা আরজিয়া বেগম, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান মো. ওয়াজেদ আলী খাঁন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্লেইন ল্যান্ড ক্লাস্টার ডাইরেক্টর জেনী মিলড্রেড ডি ক্রুজ।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পবা এরিয়া প্রোগ্রামের আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রাজশাহীর এসিও সিনিয়র ম্যানেজার সেবাস্টিয়ান পিউরিফিকেশন।

উল্লেখ্য, ‘উন্নয়নের যাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, সাথে আছি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ! লক্ষ্য: আমাদের প্রতিশ্রুতি-২০৩০’ স্লোগানকে সামনে রেখে সংস্থাটির উদ্যোগে নৃত্য শোভা যাত্রা, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পতাকা উত্তোলন, ৫০ বছরের থিম সং ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন, লোগো উত্তোলন, কেক কাটিং ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।