পবায় লাখ টাকা নিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ গোদাগাড়ীতেও পুলিশের ধরা-ছাড়া বাণিজ্য!

আপডেট: অক্টোবর ১৮, ২০১৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর পবা উপজেলার সোনাইকান্দিতে এক বস্তা ফেন্সিডিলসহ এক মাদক  ব্যবসায়ীকে আটক করে লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে গোদাগাড়ী থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা ফেন্সিডিল আসক্ত এক পুলিশ কনস্টেবলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। জেলার মাদক প্রবণ দুই থানা পুলিশের এই ধরা-ছাড়া বাণিজ্যে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার রাত পৌনে ৮টার সময় পবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পনাই কুমার প্রামাণিক সঙ্গীয় পুলিশ কনস্টেবল হুমায়নসহ হরিপুর ইউপি কার্যালয়ের সামনে সোনাইকান্দি এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী রাজনকে (৩৫) ধাওয়া দিয়ে এক বস্তা ফেন্সিডিলসহ আটক করেন। রাজনের সঙ্গে এসময় ফেন্সিডিলের বস্তা নিয়ে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিল আরেক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী হাসান ঘাইটাল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, এসময় এসআই পনাই ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে সড়কের নিচের একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে যান। দর কষাকষির পর ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় তাদের ছেড়ে দেয়ার কথা বলে মাদক ব্যবসায়ী হাসানকে টাকা আনার জন্য যেতে দেয়া হয়। আধাঘন্টা পরে হাসান টাকা নিয়ে ফেরেন। টাকা গুণে নিয়ে এসআই পনাই বস্তা খুলে ২০ বোতল ফেন্সিডিল নিজের ব্যাগে ভরে নেন। অন্যদিকে ১২ বোতল ফেন্সিডিল সোর্সকে দেন। কিছুক্ষণ পরে মাদক ব্যবসায়ী রাজন ও হাসান ঘাইটাল মোটর সাইকেলে চেপে ফেন্সিডিলের বস্তা নিয়ে তাদের গ্রাম সোনাইকান্দির দিকে চলে যায়।
এদিকে ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাকে জানায় এলাকাবাসী।  সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলে যায়। এসআই পনাই দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী রাজনের বাড়িতে যায় এবং ছেড়ে দেয়া ফেন্সিডিল ও মোটরসাইকেলটি বের করে আনে। কিছুক্ষণ পর রাজনের বাড়ির সামনে থেকেই মোবাইল ফোনে কথা বলেন এসআই পনাই। আবারো দ্রুত দৃশ্যপট বদল হয়। এরপর ২০ বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে বস্তার বাকি ফেন্সিডিল ও মোটরসাইকেল রেখে পনাই সঙ্গীয় কনস্টেবলসহ থানার দিকে রওনা হয়। এদিকে পবা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, এসআই পনাই গতকাল মঙ্গলবার সকালে ২০ বোতল ফেন্সিডিল আটক দেখিয়ে জমা দিয়েছেন। তবে কোনো আসামি নেই। আর ওসি স্যার (শরিফুল ইসলাম) ছুটিতে থাকায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য আমি দিতে পারবো না।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পবা থানার এসআই পনাই কুমার প্রামাণিক ফোনে এ বিষয়ে কথা না বলে সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার জন্য অনুরোধ করেন। গত সোমবার রাতে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তিনি এলাকারই কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে দিয়ে তবদির করেন নিউজ না করার জন্য।  থানার ওসি শরিফুল ইসলাম ছুটিতে থাকার কথা জানিয়ে বিষয়টি যেন খবর না হয় সেজন্য তিনি অনুরোধও করেন।
অন্যদিকে তিন বোতল ফেন্সিডিলসহ দুই রেল কর্মচারি ও এক পুলিশ কনস্টেবলকে আটক করে ১২ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসি জানান, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে গোদাগাড়ীতে ফেন্সিডিল পান করতে যায় রেলের দুই কর্মচারিসহ সিআইডির এক পুলিশ কনস্টেবল । তারা মহিষালবাড়ি গরু হাটে অপেক্ষা করে আলামিন নামের এক যুবককে ফেন্সিডিল বিক্রেতা সাইদুরের বাড়িতে পাঠায়। তিন বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে আলামিন ফেরার সময় গোদাগাড়ী থানার এসআই হাসান, নুরে আলম ও করিম তাকে ধাওয়া করেন। শেষে মহিষালবাড়ি হাটে গিয়ে তাকে ধরে ফেলেন। এসময় কনষ্টেবলসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তিন ফেন্সিডিল ক্রেতাকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন থানার ওসি তদন্ত আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু তিন এসআই তার নির্দেশ না শুনে তাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন।  এদিকে এই ঘটনায় গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম ও ওসি তদন্ত আব্দুর রাজ্জাকের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ওসি তদন্ত রাজ্জাকের অনুরোধের পরও ওসি হিপজুর আলম মুন্সি আটককৃতদের কাছ থেকে তিন এসআইকে দিয়ে টাকা আদায় করানোর পর তাদের ছাড়ার কারণে রাজ্জাক মনোক্ষুণœ হন। জানা গেছে, ওসি তদন্ত আব্দুর রাজ্জাক গোদাগাড়ী থানা থেকে অন্যত্র বদলির জন্য সোমবার এসপির কাছে দরখাস্ত দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই করিম বলেন, তিনজন ফেন্সিডিল খেতে এসেছিল। তবে তাদের তল্লাশি করে ফেন্সিডিল পাওয়া যায়নি। আলামিনকে ধাওয়া দিয়ে মহিষালবাড়ি হাটে পাওয়া যায়। তার কাছেও কিছু পাওয়া যায়নি বলে ছেড়ে দেয়া হয়। টাকা নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার পুলিশের সদর সার্কেলের এএসপি আব্দুর রশিদ বলেন, পুলিশ মাদক ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’ এ রয়েছে। এই দুটি ঘটনা আমার জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে এবং সেটা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ