পবায় সাড়া ফেলেছে ‘ফাতেমা’ জাতের নতুন ধান

আপডেট: মে ৮, ২০২২, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

হাসান পলাশ:


পবা উপজেলার নওহাটার তেঘর-বসন্তপুর অঞ্চলের এক কৃষকের চাষ করা ‘ফাতেমা’ জাতের ধান ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর প্রতিটি শীষে পাওয়া গেছে প্রায় নয়শোটি ধান। দেশে উৎপাদিত প্রচলিত জাতের ধানের চেয়ে এই ধানের ফলন প্রায় তিনগুণ।

নওহাটা পৌর এলাকার সৌখিন কৃষক ও দৈনিক সানসাইন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক সরকার দুলাল মাহবুব চাষ করেছেন এই নতুন জাতের ধান। ওই ধান দেখতে ও কিনতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে তার ধান ক্ষেতে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিজের জমিতে আধুনিক চাষাবাদে রয়েছে তার ব্যাপক আগ্রহ।

পবার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষক শহিদুল, মতলব, নজিম উদ্দিন জানান, অনেক ফলন হচ্ছে শুনে তারা সাংবাদিক দুলাল মাহবুব এ ধান দেখতে এসেছেন এবং তারা বীজ নেওয়ার জন্য তাকে অগ্রিম বুকিং দেন।পবা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন গত বছর বিভিন্ন উপজেলায় চাষ হয়েছিল এ ধান ফলন ভাল হয়েছে, এবার আমাদের উপজেলার সাংবাদিক দুলাল মাহবুব প্রথম বারের মত এ ধানের চাষ করেছেন।

ধানের গাছ ভাল হয়েছে ফলনও ভাল হবে আশা করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধানের বীজ তৈরি করে কৃষকদের মাঝে বিতরণের উদ্যোগ গ্ৰহণ করবেন বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে সাংবাদিক দুলাল মাহবুব বলেন, তিনি টিভি ও পত্র-পত্রিকা ইন্টারনেটে কৃষি প্রতিবেদনের খবর দেখে এই ধান চাষে উদ্বুদ্ধ হন। এর পর নওগাঁ জেলার মান্দার দুশোতিনা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের কাছে থেকে ৫ কেজি ধান সংগ্রহ করেন। যার প্রতি কেজি বীজ ধানের দাম নিয়েছিলেন ৪০০ টাকা।

এ ছাড়াও তিনি আরও বিভিন্ন জাতের ৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। যার এক বিঘা ব্রি-২৮, তিন বিঘা বায়ার কোম্পানীর তেজগোল্ড। অন্যজাতের চেয়ে এই ধানের ফলন বেশী হবে। তার ৪৫ শতকে ৬০ মণ ধাণ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম এই জাতের ধান চাষ করছেন তাই উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও দক্ষ কৃষকের পরামর্শক্রমে খুব যত্ম সহকারে করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এই উচ্চ ফলনশীল ধান অত্র এলাকার কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বীজের জন্য যোগাযোগ করেছেন। তিনি প্রতিকেজি বীজ ধান চারশো টাকা দরে কিনলেও কৃষকের সুবিধার্থে তিনি প্রতি কেজি ধানের দাম অনেক কম রাখবেন।

ঝড় বৃষ্টিতে মাঠের প্রায় সব ধান গাছ নুয়ে পরেছে অথচ এইধান গাছগুলো এখনো শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে সপ্তাহে তিনি ধান কাটা শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

দেখতে ব্রি-২৮ ধানের মতো এর জাতের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ পূর্বক দুলাল মাহবুব বলেন, অন্য ধানের মতোই এ ধানের চাষ পদ্ধতি। আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই এ ধানের চাষ করা যায়। তবে বোরো মৌসূমে এর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। গাছের উচ্চতা প্রায় ৫ ফিট যা অন্য ধানের তুলনায় বেশি।

গাছগুলো শক্ত হওয়ায় হেলে পড়ে না। আর এক একটি ধানের শীষে ৫০০-১০০০টি করে ধান পাওয়া গেছে। অন্য সাধারণ ধানের ৫টি শীষের যে ধান হবে এ ধানের একটি শীষে তার সমান ধান হবে। ফলে সাধারণ ধানের তুলনায় ফলন অনেক বেশী হবে। চলতি মৌসূমে তিনি ৪৫ শতাংশ জমিতে এই ধান চাষ করেছেন। ধান অনেকটা পাকা শুরু হয়েছে। ধারণা করছেন ৬০ মণ ধান হবে।

এধানে রোগ ও পোকামাকড়ের হার তুলনামূলক কম। এছাড়া চাল খুব চিকন ও ভাতও খেতে খুব সুস্বাদু। বীজপাতা তৈরি করার পর ১৫০ থেকে ১৫৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা যায়। এই ধান ঝড়, খড়া এবং লবণাক্ততা সহনীয়। ওই জাতের প্রতিটি ধানগাছের দৈর্ঘ্য ১১৫ থেকে ১৩০ সেন্টিমিটার, গুছি গড়ে আটটি, প্রতিটি ধানের ছড়ার দৈর্ঘ্য ৩৬ সেন্টিমিটার, গড়ে দানার সংখ্যা এক হাজারের ওপরে।

তিনি কৃষি বিভাগের কাছে এই ধানের জাতটি গবেষণা করার আহবান জানিয়ে বলেন, এই জাতটি ২০১৬ সালে এক কৃষকের হাত ধরে আসলেও দেশের কৃষি অফিস তেমন কোন গুরুত্ব দেয়নি। যারা এই জাতের ধানচাষ করেছি তারা শুধু উৎপাদনের দিকটাই বিবেচনা করেছি।

বর্তমান বাাজরে এমন অধিক উৎপাদনশীল জাতের ব্যাপারে কৃষিবিদ ও কৃষি অফিসাররা তেমন কিছুই জানেন না। প্রথম থেকে এই জাত নিয়ে গবেষণা করলে এখন অনেক কিছুই জানতে পারা যেত।

যেমন, ধানের আয়ুষ্কাল কত দিন, কোন মাসে এই রোপন করলে কাঙখিত ফলন পাওয়া যাবে, ধান ও ভাতের গুণাগুন ঠিক আছে কিনা, উৎপাদনকৃত ধান রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি, ক্ষেতের যত্মে কি ব্যবহার করতে হবে, রোগবালাই দেখা দিলে কোন কীটনাশক স্প্রে করতে হবে-এমন অনেক কিছুই জানা যেত।