পবা শিক্ষা অফিসের গাফিলতিতে প্রণোদনাবঞ্চিত হলেন ১৫৬ শিক্ষক কর্মচারী

আপডেট: July 8, 2020, 11:53 pm

পবা প্রতিনিধি:


করোনাকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। আর এই সময়ে পবা শিক্ষা অফিসের গাফিলতির কারণে সরকারি এই প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হলেন, পবা উপজেলার চারটি কলেজের ১৫৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগিরা উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে বিষয়টির সুরাহা ও পুনরায় প্রণোদনা তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণে জন্য আবেদন করেছেন।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলার সকল নন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা (মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ) সরকার প্রদত্ত প্রণোদনা পেলেও পবা উপজেলার ৪টি কলেজের বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) তথ্য পাঠাইনি জেলা শিক্ষা অফিসার। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (ব্যানবেইস) ভুক্তভোগি শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ না থাকায় এ সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

এ ব্যাপারে নন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ জানান, ননএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের একমাত্র আয়ের উৎস শিক্ষার্থীরা। ১৫-২০ বছর ধরে এসব শিক্ষক-কর্মচারিরা টিউশনি ও অন্যান্য কাজ করেন। ফলে এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠির সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা বিস্তার হচ্ছে। করোনাকালীন দুর্যোগে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এসব শিক্ষকরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তারা না পারছে ত্রাণ নিতে, না পারছে কারও কাছে হাত পাততে।

সরকার ঘোষিত ননএমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রণোদনার বিষয়টি আশার আলো দেখালেও পবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গাফিলতির কারণে এই উপজেলার ননএমপিও ৪টি কলেজের ১৫৬ জন শিক্ষক কর্মচারী প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন বলেন, ননএমপিওভুক্ত শিক্ষকের তালিকা দেয়ার সময় খুবই কম ছিল। জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের নির্দেশ দেয়া হয় গত ২৭ মে বিকেল ৫টার মধ্যে তালিকা পাঠাতে। আমার অফিস থেকে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসগুলোতে ওইদিন বেলা সাড়ে তিনটার মধ্যে নামের তালিকা পাঠাতে বলা হয়। সেখানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। এরপর এই অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর সচিব বরাবরে জেলা প্রশাসক মাধ্যমে পাঠানো হয়। যদি সময়মত তালিকা পাওয়া যেত তবে এমন ঘটনা ঘটতো না। তিনি শিক্ষকদের তালিকা বাদ যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও তিনি বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে জানান।

পবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শিরিন মাহবুবা বলেন, ওইদিন শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর জন্যই রাত ৮টা পর্যন্ত আমাকে অফিসে থাকতে হয়। এ বিষয়ে আমার আন্তরিকতার কমতি ছিল না। তবে তালিকা পাঠানোর সময় খুবই কম ছিল। এক্ষেত্রে উর্ধ্বতন অফিসের শর্ত মেনে এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। এই উপজেলার চারটি ননএমপিওভুক্ত শিক্ষকের তালিকা একসাথে পাওয়া যাচ্ছিল না। একটা প্রতিষ্ঠান তালিকা দিচ্ছে তো অন্য প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে না। সেদিন নেটওয়ার্কও এতই স্লো ছিল যে ফাইল এটাচড হচ্ছিল না। তবে নির্ধারিত দিনেই পাঠানো হয়েছে।