পরাশক্তিগুলোর সামরিক ব্যয় রেকর্ড ছাড়িয়ে আধিপত্য ও লোভের শেষ কোথায়?

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

পৃথিবীর দেশে দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি, বিভেদ, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের শরণার্থী হওয়ার পিছনে রাজনীতি ও পুঁজির স্বার্থ উদ্ধারের উদগ্র উদ্দেশ্য থাকে। এবং এই উদ্দেশ্য যখনই মাত্রা ছাড়াই তখনই পৃথিবী জুড়ে অস্থিরতা বাড়ে। এর ফলে মানুষ নিজ নিজ রাষ্ট্রেই অনিরাপদ ও উৎকণ্ঠার জীবন যাপন করে। তবুও আন্তর্জাতিক রাজনীতি সেই উদ্দেশ্যকেই সমর্থন জানায় এবং অন্যায় স্বার্থ হাসিল করে। যুদ্ধ না জড়ালেও যুদ্ধ যুদ্ধ খেলাটা বেশ জমিয়ে রাখা হয়। আর নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের এই যুদ্ধ খেলার কট্টর সমর্থকে রূপান্তর করা হচ্ছে। বিশ্বে শান্তির জন্য যে অঙ্গীকার তা এখন কথার কথা মাত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারসহ তিনটি স্থানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার অষ্টাদশ বার্ষিকী ছিল ১১ সেপ্টেম্বর। ২০০১ সালে ওই ভয়াবহ হামলায় বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩ হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এরপর থেকেই পরাশক্তিগুলো উদ্বেগ থেকে বা আধিপত্য বিস্তারের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছে সামরিক ব্যয়। এই ব্যয় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এখন সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
সংঘাত, অস্ত্র, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল ২০১৮ সালেই বিশ্বের সামরিক ব্যয় ছিল ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই প্রবণতা ‘উদ্বেগজনক’। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস এবং শঙ্কাই এই অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু পরিস্থিতির লাগাম এখনই টানতে না পারলে এবং নিরস্ত্রীকরণের প্রচারণাকে কার্যকর করতে না পারলে মানবসভ্যতাই হুমকির মুখে পড়ে যাবে।
নাইন এলেভেনে জঙ্গি হামলার স্বরূপ সম্পর্কে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সম্যক ধারণা আছে। ওই হামলার পিছনের কারণগুলোও কারো অজানা নেই। ওই ধরনের হামলা যাতে আর না হয়Ñ সেই বিবেচনার পক্ষে পরাশক্তিগুলো না গিয়ে বরং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে। এটা যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার জন্য বিষয়টা- একদম সে রকম মনে হয় না। বরং অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশগুলো যা করছে তা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। তাদের অস্ত্র-অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদকে তারাই টিকিয়ে রেখেছে। আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা থেকে দেশে দেশে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। পৃথিবী জুড়ে লক্ষ লক্ষ শরণার্থী সৃষ্টি করে তাদেরকে দুর্বিসহ জীবনের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এসব কিছুই পুরানো রাজনীতি। শুধু কৌশলটাই পাল্টে যায়। এর হিসেবটা মেলানো কঠিন কিছু নয়। মাদকের ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করা হয় আধিপত্য ও অর্থনৈতিক আগ্রাসন সৃষ্টির লক্ষে। মাদকের সাথে সেক্স ট্রেড, অস্ত্র ব্যবসার যোগসাজস নতুন কিছু নয়। মোড়ল দেশগুলো এ সব কিছুই জানে। তারা এগুলোকে তাদের মত করেই জিইয়ে রাখতে চাই। আইএস যোদ্ধারা যেসব সামারিক অস্ত্র ও যানবাহন ব্যবহার করেছে তা নিশ্চিতভাবেই অস্ত্র উৎপাদকারী দেশগুলো থেকেই পেয়েছে। অস্ত্র ব্যবসায় শক্তিশালী দেশগুলো একে অপররের প্রতিদ্বন্দ্বী। আধিপত্য বিস্তারের জন্য তাদের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করতে হয়- যাতে করে অস্ত্র ব্যবসায় আধিপত্য কব্জা করা যায়। মূলত এসব কারণেই সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ শুধুই অজুহাত। সংঘাত, অস্ত্র, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে তাকে যৌক্তিক পরিণতি দেয়া সম্ভব হবে না। এতে যদি সভ্যতার নাশ হয়- সে আশংকা করাই যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ