পরিত্যাক্ত ভবনে চলছে দামকুড়া ইউপি সেবা!

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২২, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ভাঙ্গা জানালা, ধ্বংসপ্রায় পরিত্যাক্ত বাথরুম, খসে পড়া ছাদ, ময়লা-আবর্জনা, বন্ধ বিশ্রমাগার, দুর্গন্ধময় পরিবেশে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পবার ৩ নং দামকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের কাজ। অদক্ষ ও সেচ্ছাচারী নেতৃত্বে পুরো ইউনিয়ন কতটা উন্নয়ন বঞ্চিত তা এই অবকাঠামো দেখলেই তা আঁচ করা যায়। পুরো ইউনিয়ন সেবার প্রাণকেন্দ্র এই ভবনে এখন খসে পড়ছে ছাদ।

সেপটিক ট্যাঙ্ক ভেঙ্গে উপচে পড়ছে মল। করোনাকালে ন্যূনতম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থাও করা হয় নি। এতে সেবা নিতে এসে চরম দুর্ভোগের সঙ্গে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরছেন সেবাপ্রার্থীরা। অথচ এবিষয়ে কারও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

৩ নং দামকুড়া ইউনিয়ন পরিষদ ঘুরে দেখা যায়, দু’তলা ভবনের চারটি করে রুম এবং একতলা আরেকটি ভবনের দু’টি রুম এবং একটি সভাকক্ষ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা কার্যক্রম চলছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের রুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সাজানো গুছানো হলেও অন্যরুমগুলোর চিত্র পুরোটাই ভিন্ন।

ইউনিয়ন প্রানিসম্পদ সেবাকেন্দ্র লিখা সম্বলিত রুমে বিছানা পেতেছেন গ্রাম পুলিশ। সেখানে কি সেবা দেয়া হয় বা সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ আছে কি না? সেটাই জানে না কেউ। এলজিআইডি উপ-সহকারী প্রকৌশলীর রুমে ভাঙ্গাচুরা আসবাবপত্রের গোডাউন। কৃষি কর্মকর্তা ছাড়া অন্য দপ্তরগুলোর সেবা প্রদানকারীর দেখা মেলা ভার। সভাকক্ষেও নেই সভার কোন পরিবেশ। টেবিল-চেয়ারও নেই। ছাদ খেকে প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। জানালাগুলোতেও ভাঙ্গন ধরেছে।

ইউনিয়ন সচিবের রুমের পাশেই পরিত্যক্ত অবস্থায় দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বাথরুম। সেপটিক ট্যাঙ্ক ভেঙ্গে উপচে পড়ছে মানুষের মল। সেখান থেকে মশা-মাছি ছড়িয়ে পড়ছে সচিব-চেয়ারম্যানের রুমেও। হালকা বাতাসে সেই দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ইউনিয়ন চত্বরে। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে যে সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধিতে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে সেখানে নূন্যতম পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতারও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, এই ইউনিয়ন পরিষদে সেবার তেমন কোন পরিবেশ নেই। বিপদে পড়ে বাধ্যহয়েই আসতে হয়। সেবাদানকারীরাও আন্তরিক না। ঘন্টারপর ঘন্টা বসিয়ে রাখে। ময়লা-দূর্গন্ধময় পরিবেশে যেন দম বন্ধ হয়ে আসে। ছাদ থেকে প্লাস্টার মাথার উপরে খসে পড়ে। অনেক সময় দূর্গন্ধে বাধ্য হয়ে মাঠে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। ভোটের সময় চেয়ারম্যানরা একেরপর এক আশ্বাস দেয়। কিন্তু ভোট ছাড়া এলাকায় পরে আর দেখা যায় না। ইউনিয়নেও তেমন কোন উন্নয়ন নেই। ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্বাক্ষত করতে হয়। কিন্তু সেখানেও নূন্যতম একটা পরিবেশ নেই।

আলোকছত্র এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, জন্মনিবন্ধন কার্ডের জন্য গত দুই মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের ঘুরছেন। একেকবার একেকরকম ভুল ধরে আর ঘুরাই। আর ইউনিয়ন পরিষদে ঠুকলে তো মনে হয় বাঁথরুমে ঠুকলাম। একটু পরপর বিশ্রী গন্ধ। বসার জায়গা নেই। ছাদ খসে পড়ছে। কিন্তু কারও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

এবিষয়ে দামকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, এই ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থা খুবই ভঙ্গুর। ছাদ খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। এটা সত্য যে, সেবা অনুপযোগী একটা পরিবেশ বিরাজ করছে। কিন্তু তিনি মাত্র দায়িত্ব নিয়েছেন। এখনো মাস পার হয় নি।

পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান কি কাজ করেছে এটাই বুঝতে পারছেন না। চেয়ারম্যানের নিজের রুমের অবস্থাও খুব করুন ছিলো। তবে তিনি চেষ্টা করছেন সেবা উপযোগী একটা পরিবেশ আনতে। উপজেলাতেও বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু বাজেট বা এরকম কোন আশ্বাস পাওয়া যায় নি। তবে তিনি অবকাঠামো সংষ্কারের বিষয়ে ভাবছেন। আর সেবাপ্রার্থীরাও বিভিন্ন দূর্ভোগের অভিযোগ করছেন। সেগুলোরও সমাধান করার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাসমী চাকমা জানান, বিষয়টি সোনার দেশ প্রতিবেদকের মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ