পরিবহন ধর্মঘটে বিপাকে মানুষ

আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০২২, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


১০ দফা দাবিতে রাজশাহী বিভাগে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে বিভাগীয় পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এর ফলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিভাগের কোনো জেলা থেকে রাজশাহীতে বাস আসছে না। রাজশাহী থেকেও কোনো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। রাজশাহী নগরীতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মিলছে কোনও যানবাহন। অন্যদিনের চেয়ে অটোরিকশা চলাচল কম। নগরীর বাইরে যাচ্ছেন না অটোরিকশা চালকরাও। মাঝে মাঝে দুই-একটি অটোরিকশা নগরীর বাইরে গেলেও নিচ্ছেন অতিরিক্ত ভাড়া।

জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাজশাহী এসেছিলেন ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানির সেলস ম্যানেজার সোহেল চৌধুরী। কাজ শেষে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন সোহেল। নগরীর ভদ্রা বাসস্টেশন ও শিরোইল বাস টার্মিনাল ঘুরে গিয়েছিলেন রেলওয়ে স্টেশনে, কিন্তু সেখানেও মেলেনি টিকিট।

সোহেল চৌধুরীর অভিযোগ, টিকিট না থাকায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেও বসতে দেননি কর্মরত আনসার সদস্যরা। তিনি বলেন, পরিবার আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। সবাই বারবার ফোন দিচ্ছে। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এবং ট্রেনের টিকিট না পেয়ে আমি বেশ চিন্তিত। কীভাবে ঢাকায় ফিরবো বুঝতে পারছি না।

রাজশাহী নগরীর মাদ্রাসা মাঠে (৩ ডিসেম্বর) বিভাগীয় গণসমাবেশ করবে বিএনপি। কিন্তু এর আগেই ১০ দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে পরিবহন মালিক সমিতি। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, সমাবেশে যাতে নেতাকর্মীরা না আসতে পারে সেজন্যই সরকারের নির্দেশে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে নগরীর ভদ্রা বাসস্টেশনে কথা হয় রাজশাহীর বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, ঢাকায় জরুরি কাজ আছে। সকাল থেকে বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে কোথাও বাস পাই নি। ফলে এখানে এসেছি। এখান থেকে অটোরিকশায় নাটোরে যাবো। সেখান থেকে ঢাকায় বাস যাচ্ছে শুনেছি। কিন্তু অটোরিকশা ৮০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা।

রাজশাহী নগরীর অটোরিকশা চালকরা বলছেন, অন্যদিনের তুলনায় আজকে নগরীর ভেতরে যাত্রী কম। কারণ রাজশাহীর প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশ যাত্রীদের ঢুকতে দিচ্ছে না। ফলে তাদের আয় কমে গেছে। এ কারণে পুষিয়ে নিয়ে ভাড়া বেশি নিচ্ছেন।

বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহীসহ সাধারণ মানুষকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আবদুল আউয়াল জানান, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে সে কারণে টহল বাড়ানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ