পরিবার পরিকল্পনা এবং সাফল্য

আপডেট: মে ১, ২০২২, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

ড. কস্তুরী আমিনা কুইন


বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। স্বাধীনতা উত্তর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ তথা পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে সুখি ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের দিক নির্দেশনা মোতাবেক রাজশাহী জেলায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় কাজ করে যাচ্ছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে এখন ১.৩৭% দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে টিএফআর ২.১ এবং পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৬২.৪% হলেও রাজশাহী জেলায় টিএফআর ১.৭ এবং পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৭০%। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাসে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪/৭ ঘণ্টা গর্ভবতী সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলশ্রতিতে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার হ্রাস পেয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির হার উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ২৩% কিশোর কিশোরী। কিশোর কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসহ মনোসামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য বিভিন্ন উপজেলা কৈশোর বান্ধব কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। প্রজনন স্বাস্থ্যের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধসহ কিশোরীদের উন্নয়নের পথে বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা প্রতিকার করার লক্ষে নিজেদেরকে প্রস্থুত করতে রাজশাহী জেলা মোট ১০টি কৈশোর বান্ধব কর্ণারগুলিতে কিশোরী নেটওয়ার্ক তৈরী করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ।

একটি কমিটির মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হবে । কৈশোর বান্ধব কর্ণারগুলোর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে রাজশাহী জেলায় প্রতি মাসে প্রায় ৫২০ টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক আয়োজন করা হচ্ছে, এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। ইমারজেন্সী অবসট্রেটিক কেয়ার (ইওসি) সহ ১টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ০১টি এমসিএইচ-ইউনিট, ০৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমসিএইচ- ইউনিট, ইউনিয়ন পর্যায়ে বাঘা উপজেলার আড়ানী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং ৪৫ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। নববিবাহিত ও এক সন্তানের দম্পতিদের জন্য পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশু স্বাস্থ্য, নিরাপদ মাতৃত্ব, পুষ্টি, প্রজনন স্বাস্থ্য ও জন্ম বিরতি করণ বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ে উদ্বুদ্ধ করণ সভা আয়োজন করা হচ্ছে।

যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষে পূর্ব পরিকল্পিত কর্মসূচী অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ে ভ্রাম্যমান চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা, মা-শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে যা একটি সুস্থ জাতি গঠনে অন্যন্য ভূমিকা পালন করছে।

এছাড়াও করোনা সময়ের পরে পুনরায় স্কুল স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসূচী চালু করা হয়েছে। এখানে ভ্রাম্যমান চলচ্চিত্র প্রদর্শনির মাধ্যমে স্কুলগামী কিশোর কিশোরীদের মধ্যে প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া স্কুল স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রমে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেশন নিয়ে থাকেন।

বর্তমান জেলা পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বাস্তবমুখি করে তুলতে বর্তমান উপপরিচালক ড. কস্তুরী আমিনা কুইন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যার প্রতিফলন রাজশাহী জেলা পরিবার পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ লক্ষ ও কর্ম কৌশলে সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।

রাজশাহী জেলা পরিবার পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা হলো টিএফআর ২.১ হতে ১.৭ এ নেমে এসেছে যা ধরে রাখা। তাছাড়া পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৭০% থেকে ৭২% এবং গ্রহণকারীর হার (ঈঅজ) ৮১.৭২% হতে ৮৩ % এ উন্নীত করা, শিুশু মৃত্যু এবং মাতৃ মৃত্যু কমানো, প্রায় ২০ হাজার গর্ভবতী মা’কে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মী দ্বারা প্রসব পূর্ব সেবা (প্রথম পরিদর্শন) প্রদানকরা, প্রায় ১২ হাজার গর্ভবতী মা’কে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারী সেবা প্রদান করা, প্রায় ১২ হাজার নবজাতককে ক্লোরোহেক্সিডিন ৭.১ প্রদান করা।

এই লক্ষমাত্রা অর্জনে গৃহীত কার্যক্রম নিম্নরূপ 
* শুদ্ধাচার চর্চা বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম (মিটিং অবহিতকরণ সভা ও ফেস্টুন) চলমান রয়েছে।
* দম্পতি ছক বিশ্লেষণ পূর্বক কার্যক্রম পরিচালনা করা
* সফ্টওয়ার বেসড ডিসট্যান্ট মনিটরিং কার্যক্রম চালুকরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
* অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প সমূহে টেলিমেডিসিন সেল চালুকরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।
* বিবাহ অনুষ্ঠানে উপহার প্রদান কর্মসূচী চালু করা হয়েছে।
লেখক: উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, রাজশাহী