পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর: নিউজ প্রকাশের পর অফিসে পাতা সংসার ভাঙলো এক কর্তার, অন্যজন খুঁজে পাচ্ছে না বাসা

আপডেট: মে ১৭, ২০২৪, ৯:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


‘অফিসেই সংসার পেতে বসেছেন পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের দুই কর্তা’ শিরোনামে ৬ মে সোনার দেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পরের দিনই বাসা ভাড়া নিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।

অন্যদিকে, সূত্র বলছে, সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ভাড়া খুঁজে পাচ্ছেন না এমন অজুহাতে এখনো অফিসের গেস্ট রুমেই থাকছেন রাজশাহী বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক এনামুল হক।

এই দুই কর্তা পরিত্যাক্ত স্টোর রুমকে সরকারি ব্যায়ে গেস্ট রুম বানিয়ে থাকা শুরু করে এক বছরের বেশি সময় ধরে। ফাঁকা রুমে খাট, সোফা, টিভি, এসি, ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন, আলমিরা, ড্রেসিং টেবিল থেকে শুরু করে একটি ছোট্ট পরিবারের জন্য যা দরকার তার সবই ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন। নামে গেস্ট রুম হলেও অন্য কোন গেস্টের থাকার সুযোগ সেই সেখানে। আর তাদের এই সংসারে সহযোগিতায় ছিলো অফিসের কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, তারা বিনা ভাড়ায় যেমন থাকেন তেমন খাবারও খান বিনে পয়সায়। রান্না থেকে শুরু করে তার ব্যক্তিগত সকল কাজ করতে বাধ্য হন অধীনস্ত কর্মচারীরাও।
অথচ প্রতিবছরই পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর থেকে বিভাগ ও জেলাসহ সকল পর্যায়ে অফিস সরঞ্জাম, জনবল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করাসহ সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। গত ৩ এপ্রিলও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) যুগ্মসচিব মো. আসিব আহসান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সকল নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অফিসেই সংসার পেতে বসেছেন এই কর্তারা।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলামও প্রায় ১ বছর চার মাস ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মা ও শিশু পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের গেস্ট রুমে বসবাস করে আসছিলেন। তার বাড়ি বরিশাল। স্ত্রী-সন্তান বরিশালেই থাকেন। কর্ম এলাকায় অন্য বাসাবাড়ি ভাড়া না নিয়ে অফিসের রুম দখলে নিয়েই থাকতেন তিনি। এ নিয়ে নিউজ প্রকাশের পর তিনি বাসা ভাড়া নেন।

বিষয়টি স্বীকার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি নিউজ প্রকাশের পরের দিনই বাসা ভাড়া নিয়ে চলে গেছি।
এদিকে, এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. এনামুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (পারসোনেল) আইভি ইয়াছমিন বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজ নিবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ