‘পরিস্থিতির চাপে নিগৃহিত হয়ো না’

আপডেট: অক্টোবর ৪, ২০১৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
কিছুদিন আগেই নিজের দুই নাতনীকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি লিখেছিলেন বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে অচিরেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল সে চিঠি। এবারে নিজের ১৬ বছর বয়সি দুই মেয়েকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখলেন ‘রক অন’ খ্যাত ভারতীয় নির্মাতা ও অভিনেতা ফারহান আখতার।
ভারতীয় দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস এর ‘ধর্ষণ-বিরোধী’ একটি প্রচারণার অংশ হিসেবে এ চিঠি লিখেছেন ফারহান। চিঠিতে দুই মেয়েকে পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে সে সম্পর্কে বলেছেন তিনি। চিঠিটি তার দুই মেয়েকে উদ্দেশ্য করে লিখলেও সেটি ভারতের সকল নারীকেই উৎসর্গ করেছেন এ নির্মাতা।
সম্প্রতি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে এ চিঠিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন ফারহান।

farhan-akhter
চিঠিতে তিনি তার মেয়েদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি জানি বাবা হিসেবে আমার কাছ থেকে এ কথাগুলো শুনে তোমরা অবাক হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো আমরা একটি অধঃপতিত সমাজে বাস করছি। যেখানে মেয়েদের স্বাধীনতার কোনো মূল্য দেওয়া হয় না।”
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, “মেয়েদের শরীর এবং মন কোনো কিছুর উপরেই তাদের কোনো অধিকার নেই এ সমাজে। এমনকি তার কাকে ভালো লাগবে কাকে লাগবে না, তাও সমাজ ঠিক করে দেয়। কিন্তু আমি তোমাদের বলবো তোমরা তা মেনে নিও না। তোমার শরীর কে স্পর্শ করবে আর কে করবে না সে সিদ্ধান্ত তোমাদের। কখনই পরিস্থির চাপে পড়ে বা অন্য কোনো কারণে নিজেকে নিগ্রহের স্বীকার হতে দিও না।”
এ চিঠিতে বলিউড’কেও পুরুষতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু ভারতীয় সমাজই নয় এমনকি বলিউডও মেয়েদের জন্য নিরাপদ কোনো জায়গা নয়। এখানেও মেয়েদেরকে বৈষম্য ও নিগ্রহের স্বীকার হতে হয়। প্রচলিত অনেক নোংরা ব্যাপার এখানেও চালু আছে যা নিয়ে কেউ কখনও মুখ খুলতে চায় না। কিন্তু এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরি।”
হিন্দি ছবিতে মেয়েদের হেয়ভাবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেছেন এ নির্মাতা।
তিনি বলেন, “আমাদের সিনেমাগুলোতে প্রায়ই ধর্ষণ এর দৃশ্যকে খুবই আকর্ষণীয় ও প্রলুব্ধকরভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। এছাড়া ‘ইভ-টিজিং’ এর মতো বিষয়টিকে ভালোবাসা প্রকাশের একটি অংশ হিসেবে দেখানো হয়ে থাকে। ছবিতে আমরা দেখি, নায়িকার ওড়না খামচে ধরে ও তার পথ আগলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে নায়ক। তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য নানা রকম হেনস্থা করে। এ বিষয়গুলোকে আমরা খুব সহজভাবে নিই। কিন্তু এগুলোই পরে দর্শকের মনে প্রভাব ফেলে। এর মাধ্যমে আমরা অবচেতনভাবেই নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের মতো অপরাধকে প্রশ্রয় দিচ্ছি।”
চিঠির শেষে একটি ছোট কবিতার জুড়ে দিয়েছেন ফারহান আখতার। তাতে বলা হয়েছে, মেয়েদের এ নিষ্ঠুর জগত সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং নিজেকে নিরাপদ রাখার ক্ষমতা নিজেদেরকেই অর্জন করতে হবে।