পরীক্ষার আগে একটু ঘুম ভালো ফলে সহায়ক!

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০১৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে পরীক্ষা মানেই আতংক। পরীক্ষার আগে সবাই চায় শেষ মুহূর্তের সময়টুকুর সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে।
অনেকে তো পরীক্ষার একদম আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অনবরত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন। পরীক্ষার আগ মুহূর্তে সামান্য একটু সময়ও ঘুমিয়ে বা অন্য কোনো কাজে ব্যয় করাকে চরম বোকামি বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু নতুন একটি গবেষণার তথ্যমতে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে অতিরিক্ত পড়ার চাইতে সামান্য একটু ঘুম (ন্যাপিং) মস্তিষ্কের স্মরণশক্তির জন্য অধিকতর উপকারী হতে পারে।
যদিও গবেষকরা এখনো ঠিক নিশ্চিত নন যে, কেন এমনটা হয়, তবে তারা ধারণা করছেন যে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে ঘুম আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে নতুন এই গবেষণার তথ্যমতে, দীর্ঘমেয়াদে মুখস্থ করা একটি অকার্যকর পন্থা।
সিঙ্গাপুরের ডিউক-এনইউএস মেডিকেল স্কুলের একটি টিম এ গবেষণার উদ্দ্যেশে ৭২ জন স্বেচ্ছাসেবককে বিভিন্ন পিপীলিকা এবং কাঁকড়া প্রজাতির ওপর একটি অপরিচিত বিষয়কে বেছে নিয়ে তাদেরকে প্রায় ৮০ মিনিট সে বিষয়টি পড়ানো হয়।
তারপর অংশগ্রহণকারীদের তিনটি দলে বিভক্ত করা হয় এবং পরবর্তী এক ঘণ্টা তারা কি করবে তা বেছে নিতে বলা হয়। এক্ষেত্রে আবার ৮০ মিনিট পড়ার পূর্বে এক ঘণ্টা তাদের একটি সিনেমা দেখা বা সামান্য ঘুমানো বা যা পড়েছেন তা রিভিশন দেয়ার সুযোগ ছিল।
দ্বিতীয় সেশনে আবার আবার ৮০ মিনিট পড়ার পর গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কে কতটুকু শিখতে পেরেছে তা যাচাই করে দেখার জন্য একটি পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায় যে, যারা ঘুমকে বেছে নিয়েছিলেন তাদের স্কোর সবচেয়ে বেশি ছিল।
এক সপ্তাহ পরে একই পরীক্ষার পুণরাবৃত্তি করলে তারা আবারও শীর্ষ স্কোর লাভ করেন। যদিও গবেষকরা স্বীকার করেন যে, দ্বিতীয় টেস্টে তারা ক্রেমারদের চাইতে যতটুকু উন্নতি করেছে তাকে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
এই গবেষণার আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় হল যে, প্রথম পরীক্ষায় সিনেমা দর্শনকারীদের চাইতে ক্রেমাররা এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় পরীক্ষায় উভয়ের স্কোর প্রায় একই ছিল।
এই গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান গবেষক জেমস কাজিনস নিউ সায়েন্টিস্ট এর জেসিকা হ্যামজেলৌকে বলেন, ‘এই গবেষণার ফলাফল এটাই ইঙ্গিত করে যে, না বুঝে পড়া মুখস্থ করা (ক্রেমিং) স্বল্প মেয়াদের জন্য উপকারী হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি কোনো কাজেই লাগে না।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে তার সহজ পরামর্শ হলো, ‘না বুঝে মুখস্থ করে শুধু শুধু মাথায় পড়ার চাপ নিয়ে নিজের ওপর চাপ বাড়িও না। তার চেয়ে  পরীক্ষার আগ মুহূর্তে সামান্য একটু ঘুম তোমাদের জন্য অনেক কাজে আসবে।’
কিন্তু গবেষণার আকার ছোট হওয়াতে এবং ন্যাপারদের ও ক্রেমারদের স্কোরের ব্যবধান অতি সামান্য হওয়ার কারণে গবেষকরা এখনই এই গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করতে ইচ্ছুক নন। তারা মনে করেন গবেষণাটির চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করার পূর্বে আরো বেশি অংশগ্রহণকারীদের  নিয়ে, আরো বেশি ডাটা সংগ্রহ করে তা ব্যাখ্যা করে যাচাই করা প্রয়োজন। এই গবেষণার ফলাফল এ সপ্তাহে স্নায়ুবিজ্ঞান সোসাইটির বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত হয়েছে। রাইজিংবিডি