পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতি ।। কোচিং সেন্টারগুলোর জবাবদিহিতা চাই

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

রোববার দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নগরীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা এবং চাকরি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির সঙ্গে বিভিন্ন চক্র সংগঠিত রয়েছে। এই চক্রটি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র জালিয়াতি, বডি বদল করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও ভর্তির সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে গ্রেফতার হলেও বন্ধ হচ্ছে না প্রশ্নপত্র জালিয়াতি। ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে প্রশ্নপত্র জালিয়াত চক্রের মূল হোতারা।
৮ অক্টোবর মেডিকেল পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার দায়ে রয়েল কোচিং সেন্টারের পরিচালকসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা সবাই বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
প্রতিবছর প্রশ্নপত্র জালিয়াতের সঙ্গে যুক্তদের অনেকে গ্রেফতার হলেও বন্ধ হয়ে যায় নি প্রশ্নপত্র জালিয়াতি। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রশ্নপত্র যাতে কোনো ধরনের জালিয়াতি না হতে পারে এইজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। তারা বিভিন্নভাবে প্রশ্নপত্রের জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সব ধরনের পরীক্ষার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। এক শ্রেণির অভিভাবক আগপিছ চিন্তা না করেই যে জালিয়াত চক্রের খপ্পরে পড়ছে তাই নয়- তারা জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে অবৈধপন্থা অবলম্বন করে চলেছে। তারা সন্তানদের উপযুক্তভাবে তৈরি না করে অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে গোড়াতেই সন্তানের মধ্যে অনৈতিকতার বীজ বপণ করে দিচ্ছেন। সামাজিক এই ব্যাধির বিষয়টি কীভাবে নিরসন করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
কোচিং সেন্টারগুলোর উগ্র বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেদের অপরাধ জগতের মধ্যে নিয়ে গেছে। কতিপয় কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন কিছু নয়- তদুপরি তারা রহস্যজনক কারণে তাদের অপরাধ বন্ধ হয় না। নানাভাবেই বার বার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে কিন্তু এসবের ব্যাপারে কোনো তদন্ত বা কারো শাস্তি হয়েছে এমন কথা আমাদের জানা নেই। এসব কোচিঙের অপরাধকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তারা একটি পরীক্ষা ব্যবস্থাকেই বিতর্কিত বা কলুষিত করছে না- মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননা- অমর্যাদাও করছে। নিশ্চয়ভাবে ওই মেধাবীরা হীনমন-হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এই অরাজকতা জাতীয় মেধার প্রতি খুবই অপমানজনক। এর একটি সুষ্ঠু সুরাহা হওয়া উচিৎ।
কোচিং সেন্টারগুলোর কর্মকা- অনেকটাই লাগামহীন। এসব প্রতিষ্ঠান আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা উচিৎ। জবাবদিহিতা ছাড়া এ নৈরাজ্য নিরসন করা যাবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ