পরীক্ষায় সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি!

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২২, ১:১৪ অপরাহ্ণ

প্রতীকী ছবি

সোনার দেশ ডেস্ক :


দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বেআইনিভাবে ৮ হাজার ১৩৬ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স¤প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। তবে এই পরিসংখ্যানে প্রাথমিক শিক্ষকদের ধরা হয়নি। সেটি যোগ হলে সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বোঝা যাচ্ছে না।

সিবিআইয়ের এই তালিকা দেখে অবাক বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, দেখা যাচ্ছে, অনেকে সাদা খাতা জমা দিয়ে অথবা মাত্র চার-পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর লিখে চাকরি পেয়েছেন।
বিচারপতি বিশ্বনাথ বসু বলেছেন, ভয়ংকর পরিসংখ্যান। তবে এটি পানিতে ডুবে থাকা পাহাড়ের চূড়া মাত্র। পুরো পাহাড় এখনো পানির নিচে।

তার কথায়, বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া এই শিক্ষকরা সমাজ গড়বেন? এর পুরো প্যানেল খারিজ করা উচিত। যারা এভাবে চাকরি পেয়েছেন, তারা যেন আর সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় না থাকতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা উচিত।

গত বৃহস্পতিবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ ডি সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই। এর শুনানিতেই এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি। এই মামলায় তিনি সিবিআইকে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সিবিআই’র রিপোর্ট
গত বুধবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে সিবিআই বেআইনি নিয়োগ নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছে। সিবিআই জানিয়েছে, পুরো সাদা খাতা জমা দিয়ে বা সামান্য কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিয়ে আট হাজারের বেশি লোক মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

তার মধ্যে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক হিসেবে ৯৫২ জন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৯০৭ জন, গ্রুপ সি’র ৩ হাজার ৪৮১ জন এবং গ্রুপ ডি’র ২ হাজার ৮২৩ জন দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। এই রিপোর্ট বিচারপতি বসুর কাছেও পেশ করা হয়। তখন তিনি ওই মন্তব্য করেন।

সিবিআই জানিয়েছে, তারা দিল্লি ও গাজিয়াবাদে হানা দিয়ে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) শিটসহ হার্ডডিস্ক উদ্ধার করেছে। সেখানে দেখা গেছে, সাদা খাতা বা অল্প কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিয়ে খাতা জমা দেওয়া হয়েছে এবং তারা চাকরি পেয়েছে।

বিচারপতির নির্দেশ

সিবিআইয়ের কাছ থেকে এই তালিকা পাওয়ার পর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, সাদা খাতা বা কয়েকটা প্রশ্নের জবাব লিখে কতজন চাকরি পেয়েছেন এবং কতজন সুপারিশপত্র পেয়েছেন তার তালিকা দিতে হবে।

আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশনকে বৈঠক করে এই তালিকা তৈরি করতে হবে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যারা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাদের পদত্যাগ করতে হবে। নাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে, জাগোনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ