পরীমনির বোট ক্লাব মামলায় নাসিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১, ১২:০৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঢাকা বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা পুলিশের প্রতিবেদন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমা দিয়েছি।”
সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, মামলার আসামি উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
এদের মধ্যে পরীমনির মামলায় নাসির ও অমি জামিনে রয়েছেন। তবে অন্য একটি মামলায় তুহিন কারাগারে রয়েছেন।
আবাসন ব্যবসায়ী নাসির মাহমুদ ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে গত ১৪ জুন মামলা হওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হয়।
তুমুল আলোচনার পর মামলা হওয়ার তিন মাসের মধ্যে অভিযোগপত্র দিল পুলিশ। আর এর মধ্যে মাদকের এক মামলায় পরীমনি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তও হয়েছেন।
ঢাকার পাশের বিরুলিয়ায় তুরাগ তীরে ঢাকা বোট ক্লাবে গত ৮ জুন পরীমনি হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ তোলার পর তা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়।
১৩ জুন রাতে পরীমনি এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, “আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে লেখা এই পোস্ট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পোস্টটি দেওয়ার ঘণ্টা খানেক পর গুলশানে নিজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ জানানোর পর ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন এই চিত্রনায়িকা।
মামলায় পরীমনির অভিযোগ, ৮ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা করা হয়। অভিযোগ নাসিরউদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে। নাসির ও তুহিন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরই রাজধানীর উত্তরার এক নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের বাসা থেকে ব্যবসায়ী নাসির মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, “তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আসামি তুহিন সিদ্দিকী অমি পরীমনিকে কৌশলে বোট ক্লাবে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও শহিদুল আলম পরীমনিকে গালাগাল করে অশালীন আচরণ করে শরীর স্পর্শ করেন। এতে পরীমনি ক্ষিপ্ত হলে তাকে শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করা হয়।”
এদিকে গত ৪ অগাস্ট রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই মামলায় গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে ছাড়া পান।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ