পর্নো ভিডিও’র দিকে ঝুঁকছে নাটোরের উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ২:১৪ অপরাহ্ণ

নাটোর প্রতিনিধি


শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম। এখন সব খানেই গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গান লোডের আড়ালে চলছে পর্নো ভিডিও বিক্রির ব্যবসা। ১০ থেকে ২০ টাকায় মিলছে পর্নো ভিডিও। আর এসব পর্নোর্ ভিডিওর দিকে ঝুকছে যুবক-যুবতী,তরুণ ও যুবসমাজের বৃহৎ একটি অংশ। এ নেশার বাইরে নেই কমলমতি ৮-১০ বছর বয়সের শিশুরা পর্যন্ত। মাদকের নেশার চেয়েও পর্নো ভিডিও সংরক্ষণ ও দর্শনের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন তারা। এমন অবস্থা জেলার নলডাঙ্গা উপজেলায়। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন বলছে, কোনো ব্যক্তি ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করলে, তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য সর্বেচ্চ ৫ (পাঁচ) বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের মসজিদ মার্কেট, হকার্স মার্কেট, শহরের শ্টেশন বাজার, এবং নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুর বাজার, হাঁপানিয়া বাজার, বাঁশভাগ, হলিদাখলসি বাজার, মাধনগর বাজার। এসব বাজারেই কম্পিউটারের দোকানে সহজেই মিলছে পর্ণ ছবি। এসব দোকানে বিভিন্ন সিনেমা, নাটকের নাম করে মেমোরি কার্ড ও পেনড্রাইভে করে সহজে বহন করছে যুব সমাজরা। উঠতি বয়সের ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও পর্নো ভিডিওতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জেলা ও উপজেলা শহর ছাড়াও গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় হাট-বাজারে অসংখ্য স্থানে লোডের দোকান গড়ে ওঠেছে। এসব দোকানের অধিকাংশতেই অশ্লীল ভিডিও ও ছবির কালেকশন রয়েছে। দেশের অবৈধ এ পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল ভিডিও চিত্র মোবাইলের মেমোরিতে ধারণ ও বিপণন ব্যবসা প্রতিহত করার জন্য একটি আইন থাকলেও সরকারের প্রণীত এ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উপজেলার বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকান ও স্টুডিওতে চালানো হচ্ছে অবৈধ অশ্লীল ভিডিও-এর ব্যবসা।
সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ীরা ১টি হার্ডডিস্ক লোডের জন্য ১০০-২০০ টাকা নিয়ে থাকেন। আর সেসব হার্ডডিস্ক প্রতি সপ্তাহে, বিভিন্ন মাধ্যমে পৌঁছে যায় উপজেলার বিভিন্ন দোকানে। পর্নো ছবি আপলোড করার জন্য একাধিক হার্ডডিস্ক ও পেনড্রাইভে ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা। সেখানেই পর্নো ছবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়। আর হার্ডডিস্ক ও পেনড্রাইভ রাখা হয় গোপন স্থানে। এসব পর্ন ছবি লোড করতে দোকানগুলোতে বিশেষ করে, বিকাল থেকে সন্ধ্যার পর উড়তি বয়সের যুবক ও ছাত্রদের ভিড় লেগেই থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার পশ্চিম মাধনগর গ্রামের উড়তি বয়সী এক যুবক বলেন, গান লোডের দোকানে এই ব্যবস্যা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। এসব ছাড়া দোকানের ব্যবসা চলে না, কেউ লোড দিতে চায় না। ছেলেদের পাশাপাশি কৌশলে মেয়েরাও পর্নোগ্রাফি লোড দেয়।
এসব পর্নো ছবির ছোবলে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা বিপথগামী হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা ডাউনলোডের অন্তরালে বিশেষ ইশারায় এসব পর্নো ভিডিও মেমোরিতে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল।
উপজেলার আমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম ফকরুদ্দিন ফুটু বলেন, মহামারির মতো নীল ছবি আমাদের সমাজে ঢুকে পড়েছে। এছাড়া পড়াশোনায় অনেকেই অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে অভিভাবকরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তরুণদের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
দিঘাপতিয়া এম,কে কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জেলায় বিভিন্ন হাট-বাজারে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গড়ে উঠেছে কম্পিউটারের দোকান। যেখানে প্রকাশ্যেই মেমোরি লোডের মাধ্যমে নীল ছবির জমজমাট ব্যবসা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নয়তো দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের তরুণ সমাজ।
জেলার নলডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও মাধনগর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা পর্নো আসক্ত হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত পর্নো ছবি ক্রয় করে। ফলশ্রুতিতে দেখা যায় তাদের নৈতিকতার অধঃপতন ঘটে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সহজেই জড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত হয়েছি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে এসব আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।