পর্যটন শিল্পে আরো একধাপ এগিয়ে কুসুম্বা শাহী মসজিদ

আপডেট: জুন ২০, ২০২১, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

জিল্লুর রহমান মান্দা :


একটি রেস্ট হাউজ নির্মিত হওয়ায় পর্যটন শিল্পে আরো একধাপ এগিয়ে গেল নওগাঁর মান্দার ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদ। এলাকাবাসি ও দর্শনার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অর্থায়নে রেস্ট হাউজটি নির্মাণ করা হয়।
ভবনের নির্মাণসহ যাবতীয় কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এরপর প্রত্যেকটি কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে আসবাবপত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হবে।
রেস্ট হাউজটি নির্মাণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দর্শনার্থীদের। এখন দুর-দুরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের গন্তব্যে আর ফিরে যাওয়ার তাড়া থাকবে। প্রতœতত্ত্বের অনন্য নিদর্শন কুসুম্বা শাহী মসজিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জেনে রেস্ট হাউজে রাত যাপনের পরেরদিন ফিরে যেতে পারবেন আপন গন্তব্যে।
রোববার নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুর ইউনিয়নের বদলপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম মানত দিতে এসেছিলেন এ মসজিদে। মসজিদের সাবির্ক পরিবেশ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নবনির্মিত রেস্ট হাউজটি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
দর্শনার্থী রেজাউল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে তিনি আরো কয়েকবার মসজিদটি দর্শনে এসেছিলেন। কিন্তু আগের পরিবেশ তেমন ভালো ছিল না। এখন মানত রান্নার জন্য আলাদা জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের বিশ্রামাগার, বসার সুন্দর পরিবেশ, মসজিদের পশ্চিমপাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় সহজেই যানবাহন চলাচল করতে পারছে। তিনি আরো বলেন, নারীদের জন্য বিশ্রামাগার, ওয়াশরুম ও আলাদা নামাজের জায়গা করা হলে মসজিদের পরিবেশ আরো সন্দুর হবে।
রাজশাহী শহরের ছোটবনগ্রাম এলাকার শিক্ষার্থী মিম আক্তার বলেন, এখানকার সকল পরিবেশ সুন্দর হলেও মেয়েদের জন্য ওয়াশরুম ও আলাদা নামাজের জায়গা নেই। আগত নারীদের দীঘির পানিতে পুরুষদের সামনেই গোসল করতে হয়। যা দেখে সত্যই খারাপ লেগেছে। এগুলোর পূর্ণতা পেলে আরো দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে কুসুম্বা মসজিদ এলাকা।
উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অর্থায়নে ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতল ভবনের এ রেস্ট হাউজের নিচতলায় একটি কনফারেন্স রুম, ডাইনিং ও কিচেন রুমসহ একটি সিকিউরিটি গার্ড রুম রয়েছে। এছাড়া দোতালায় রয়েছে চারটি আবাসিক কক্ষ। প্রত্যেকটি কক্ষের সঙ্গে রয়েছে একটি করে টয়লেট।
স্থানীয় কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডল বলেন, ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ দর্শনে দুর-দুরান্ত থেকে প্রতিনিয়ত অনেক ভিআইপি পারসন এখানে আসেন। তাদের ভালো স্থানে বসানোর কোনো ব্যবস্থা ছিল না। খোলা আকাশের নিচে চেয়ার-টেবিল পেতেই তাদের আপ্যায়ন করা হতো। এজন্য মসজিদ এলাকায় একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসির সেই চাওয়া-পাওয়া আজ পুরণ হতে চলেছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন, মসজিদটি দর্শনে এসে রেস্ট হাউজ না থাকায় ফিরে যাওয়ার তাড়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যায় যারা আসেন তড়িঘড়ি করে আবার ফিরে যান নওগাঁ জেলা শহর কিংবা বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে। রেস্ট হাউজটি নির্মিত হওয়ায় বিড়ম্বনার হাত থেকে রক্ষা পাবেন দর্শনার্থীরা। এখন তাদের আর ফিরে যাওয়ার তাড়া থাকবে না। এজন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্মাতাকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মাহবুব আলম নান্টু জানান, রেস্ট হাউজটি নির্মাণের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অচিরেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে কুসুম্বা শাহী মসজিদ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও আব্দুল হালিম বলেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অর্থায়ন ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রেস্ট হাউজটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কারিগরি সহায়তা দিয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী রেস্ট হাউজটি পরিচালনা করা হবে। খুব শিগগিরই এর উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।