পশ্চিম রেলের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ

আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



পশ্চিম রেলের হিসাবরক্ষণ অফিসের জুনিয়র অডিটর তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততা ও  নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, রেলের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখতে তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তরিকুল ইসলাম হিসাবরক্ষণ অফিসে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকা-ের সঙ্গে লিপ্ত রয়েছেন। তিনি নগরীর উপশহর ও শিরোইল কলোনি এলাকার তিন নম্বর ব্লকে একাধিক যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়েছেন। এছাড়া তিনি গত বছর চার মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেন নি। বরং তৎকালীন সময়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জুবায়ের আহমেদ কৌশলে তরিকুল ইসলাম ছুটিতে রয়েছেন দেখিয়ে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি ধামাচাপা দেন।
লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জঙ্গি কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর এ কারণে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে দীর্ঘ চারমাস রাজশাহীর বাইরে অবস্থান করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেল শ্রমিক লীগ রাজশাহীর নেতাকর্মীরা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় ঘেরাও করেন। পরে সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি ধামাচাপা দেন। এ ঘটনায় রেল শ্রমিক লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।  রেল শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তরিকুল ইসলামের জঙ্গি সম্পৃক্ততার কারণে সরকারের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। দ্রুত তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় রেল শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ করতে বাধ্য হবে। তাদের দাবি, তরিকুল ইসলামকে অবিলম্বে পশ্চিম রেল রাজশাহী থেকে অন্যত্র বদলি করা হোক।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাইছি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা ও বানোয়াট। তাই এ ব্যাপারে আমার কোন বক্তব্য নেই।
এ ব্যাপারে পশ্চিম রেলের প্রধান অর্থ উপদেষ্টা বিধান চন্দ্র রায় জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এছাড়া এর আগের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জুবায়ের আহমেদ তরিকুল ইসলামকে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় রেলের প্রধান দফতরে কর্মরত। সব ব্যাপারে তদন্তের পর সত্যতা পেলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ সম্পর্কে রেলের পশ্চিম জোনের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলম (জিএম) জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে এর সত্যতা প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ