পশ্চিম রেলের ৫৪ স্টেশন বন্ধ অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০২২, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

ট্রেনে ভ্রমণ বেশ আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রিরা তেমনই বলে থাকেন। তবে ট্রেন ভ্রমণ যে জনপ্রিয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজশাহী-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচলে যাত্রি-পছন্দ বা আগ্রহ পর্যালোচনা করলে এটা পরিষ্কার হয় যে, যাত্রিচাপে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটই পাওয়া যায় না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের লোকেরা রাজশাহীর বাইরে একটু দূরপেথে চলাচল করলে প্রথম পছন্দ হিসেবে ট্রেনকেই বেছে নেয়।
আওয়ামী লীগ সরকার রেলপথ উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। গত এক যুগে রেলে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে; চলমান রয়েছে আরও বিপুল অঙ্কের অর্থের উন্নয়ন প্রকল্প। তারপরও যাত্রিসেবার মান বাড়ছে না; দুর্ভোগ যেন যাত্রিদের নিত্যসঙ্গী। জরাজীর্ণ রেলপথ আর চরম ঝুঁকিতে থাকা লেভেল ক্রসিঙে প্রতিনিয়তই ঝরছে প্রাণ। সার্বিকভাবে বলা যায় আওয়ামীলীগ সরকার আমলে রেলপথের প্রভুত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
রেলপথ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে হতাশাজনক কিছু চিত্রও আছে। দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পশ্চিম রেলপথে ১৭৫টি স্টেশনের মধ্যে ৫৪ টি বন্ধ রয়েছে। অথচ ওইসব স্টেশনে ট্রেন থামে এবং যাত্রি ওঠানামা করে। বলা হচ্ছে, লোকবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে ওই ৫৪টি স্টেশন। বন্ধ স্টেশনগুলোতে টিকিট বিক্রি হয় না। ফলে ট্রেনে উঠে টিটি ও যাত্রীদের টিকিট কাটা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এমন অবস্থায় অনেক যাত্রিই বাধ্য হয়েই বিনা টিকিটে ভ্রমণ করছেন। এতে প্রতিদিন রেলওয়ের লোকসানের সাথে সাথে ওইসব স্টেশন অবকাঠামো যাত্রিদের জন্যও ঝুঁকির কারণ। বিশেষ করে রাতের যাত্রিদের জন্য তো বটেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশ্চিম রেলে দৈনিক মজুরিভিত্তিক লোকবল রয়েছে প্রায় ২ হাজার ১০০ জন। তাদের আগামি ৩১ ডিসেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এসব কর্মচারিদের বহাল রাখা না গেলে পরিস্থিতি যে আরো খারাপ হবে তা বলাই বাহুল্য।
রেলপথের উন্নয়ন এবং উন্নত যাত্রিসেবার সরকারি উদ্যোগ আশার সঞ্চার করলেও রেলওয়ের ব্যবস্থপনার দুবর্লতা হতাশার কারণও বটে। প্রতিবছর রেলের সেবা সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ যাত্রিসেবার মান বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সার্বিক অব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসে না। বস্তুত দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করা না হলে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রিসেবায় খুব একটা পরিবর্তন আসবে না।
এখন দরকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। বস্তুত লাগামহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে রেল বিভাগ গণমানুষের প্রত্যাশা ও চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অব্যবস্থপনা ও দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে লোকবলের অভাবে স্টেশন বন্ধ করা লাগবে না। রেলওয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে লোকসানের বোঝা দিন দিন বাড়তেই থাকবে। লোকসান ও অপচয় বন্ধে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ