পাঁচতারা হোটেলের বিলাশ ছেড়ে গোশালাকেই বাছলেন এই মন্ত্রী

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০১৭, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



নেতা-মন্ত্রীদের বিলাসবহুল হোটেলে থাকা নতুন কিছু নয। সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করতে নেমে কোথায় যেন সাধারণের থেকে তাঁরা খানিকটা আলাদা হয়ে যান। কিন্তু এর মধ্যেও থাকে ব্যতিক্রম। সকলে নন, কেউ কেউ পারেন সমস্ত বিলাশের হাতছানিকে হেলায় তুচ্ছ করতে। বদলে বেছে নেন সারল্যের জীবন। সেই ব্যতিক্রমের নমুনা হয়ে থাকলেন কর্নাটকের মন্ত্রী এস সুরেশ কুমার।
বিজেপি প্রার্থীর হয়ে বেরিয়েছিলেন নির্বাচনী প্রচারে। একে দলীয় কাজ, তায় তিনি মন্ত্রী। প্রত্যাশিতভাবেই তাঁর জন্য পাঁচতারা হোটেলের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এহেন বিলাশের জীবন ঘোর না-পসন্দ মন্ত্রীর। তাহলে কোথায় থাকবেন? কেন গোশালা তো আছেই। মন্ত্রী থাকবেন গোশালায়! একদিকে গুরুরা ঘুরে বেড়াবে, অন্যদিকে থাকবেন তিনি! এও হয়! হয় যে তা রীতিমতো বাস করেই দেখিয়ে দিলেন মন্ত্রী।
কেন এমন সিদ্ধান্ত? একি নির্বাচনী প্রচারেরই এক অঙ্গ? মন্ত্রীমশাই বলছেন, মোটেও না। হোটেলের ওই বদ্ধ ঘরে তিনি হাঁপিয়ে ওঠেন। চারপাশ বন্ধ চৌহদ্দির ভিতর কেমন যেন দমবন্ধ লাগে। তার থেকে বরং এরকম খোলামেলা পরিবেশই ভাল। আলো বাতাস খেলে। মনটাও ভাল থাকে। এসির ঠান্ডা হাওয়ার থেকে খোলা বাতাস অনেক আরামদায়ক। তাই পাঁচতারা হোটেল থাকুক তার মতো, তিনি গোশালাতেই খুশি।
এ অবশ্য তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। মন্ত্রী জানাচ্ছেন, আগেও তিনি বহুবার গোশালাতে থেকেছেন। কতবার স্কুলবাড়িতে রাত কেটেছে। পদযাত্রায় যখন অংশ নিয়েছিলেন তখন তো এরকম জায়গাতেই রাত কেটেছে। তাহলে আজ আপত্তি কোথায়! মন্ত্রীর এমন দাবিতে সকলেই হতচকিত। কিন্তু তাঁর তেমন ভ্রূক্ষেপ নেই। দিব্যি অনুগামীদের সঙ্গে দেখা করলেন। প্রয়োজনীয় কথাবার্তা সারলেন। বাকি সময়টা কাটালেন খবরের কাগজ পড়ে। আরামের ব্যবস্থা বলতে একটা কম্বল, আর কয়েকটা বালিশ। ব্যস, এর বেশি আর কিছু প্রয়োজন নেই ওই মন্ত্রীর।
যে দেশে নেতা মন্ত্রীদের নামে প্রায়শই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, সেখানে ইনি যে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম, তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।- সংবাদ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ