পাঁচ কেজি বিস্ফোরকসহ আটক দুই ।। চাঁপাই সীমান্তে দিনভর অভিযান

আপডেট: মার্চ ২৯, ২০১৭, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


আটকৃত আবদুল লতিব ও সাকিরুল ইসলাম । (ইনসেটে) বিস্বেফারক- সোনার দেশ

নগরীতে পাঁচ কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকের বড় চালান জব্দ করেছে পুলিশ। এসময় বিস্ফোরক দ্রব্যসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর শিরোইলে পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার দিনভর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় আটককৃতদের নিয়ে অভিযান চালায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দকৃত বিস্ফোরক দিয়ে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা- বাস্তবায়ন করা সম্ভব। জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিস্ফোরক বিশেষঞ্জদের কাছেই এ ধরনের বড় চালান পৌঁছে দেয়া হচ্ছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার রাতে নগরীর বাস টার্মিনাল থেকে আটককৃতরা হলেন, আবদুল লতিফ (৩৫) ও সাকিরুল ইসলাম (৩০)। আটককৃত আবদুল লতিফ কুমিল্লা সদর উপজেলার বাসিন্দা। আর সাকিরুল ইসলাম চাপাইনবাগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বসবাস করেন। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের পুরো ঠিকানা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-১৬১৯) তল্লাশি চালায় নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাসিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। এসময় আবদুল লতিফের কাছে থাকা ভারতীয় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ পাওয়া যায়। ভারতীয় এ ব্যাগটি আবদুল লতিফের দুই পায়ের উপরে রাখা ছিলো। পুলিশের সন্দেহ হলে ঘটনাস্থলেই ব্যাগটির ভেতর কী আছে- তা পরীক্ষা করে দেখেন পুলিশ সদস্যরা। এসময় বিভিন্ন ধরনের আনুমানিক পাঁচ কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক জব্দ করা হয়। আটক করা হয় আবদুল লতিফ এবং তার সহযাত্রী সাকিরুল ইসলামকে।
এরপর বিস্ফোরক দ্রব্যসহ আটককৃতদের রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপকমিশনার (পশ্চিম) একেএম নাহিদুল ইসলামের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় সেখানে আরএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ সরকারের বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। এসময় সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার রাজশাহী অঞ্চলের প্রধানও উপস্থিত ছিলেন। এরপর আটককৃত আবদুল লতিফ ও সাকিরুল ইসলামকে ভোর পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। এসময় গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে দেখতে পান, একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা পাঁচটি পলিথিনের প্যাকেট বের করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্যাকেটটিতে কালো রঙের বিস্ফোরকদ্রব্য ছিলো। প্যাকেটটি সাদা রঙের হবার কারণে কালো রঙের বিস্ফোরকগুলো বোঝা যাচ্ছিলো। আর অন্য চারটি পলিথিনের রঙ বিভিন্ন ধরনের হবার কারণে বিস্ফোরকগুলোর রঙ বোঝা যায় নি।
নামপ্রকাশের না শর্তে উপকমিশনারের কার্যালয়ে উপস্থিত গোয়েন্দা সংস্থার একজন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ জানান, বিস্ফোরক দ্রব্যগুলোর মধ্যে গান পাউডার, সালফার ও গন্ধকসহ শক্তিশালী বোমা তৈরির আরো কয়েক ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন উপকরণ আছে। এগুলো দিয়ে খুবই শক্তিশালী বোমা বানানো যায়। সেগুলো বড় কোনো নাশকতার উদ্দেশ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
তিনি বলেন, যে ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে তাতে মাত্র ৫০ গ্রাম বিস্ফোরক যদি কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে থাকে, তাহলে তা দিয়ে পাঁচতলা বাড়ি উড়িয়ে দিয়ে সম্ভব। আর যে পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে, তা দিয়ে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা- সংঘটিত করা সম্ভব। যাহোক, এ ধরনের বড় চালান কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠির কাছে পৌঁছানোর আগেই তা জব্দ করা হয়েছে।
আরএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) একেএম নাহিদুল ইসলাম জানান, সারাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজশাহীতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চলছে। গত সোমবার রাতে নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাস টার্মিনাল এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছিলেন।
তিনি জানান, আটক দু’জন স্বীকার করেছেন বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো দিয়ে শক্তিশালী বোমা বানানো হতো। পুলিশ বিস্ফোরক দ্রব্যগুলোর গন্তব্যস্থলও জানতে পেরেছে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে। আর আটককৃতরা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কী না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে আটটকৃতদের নিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গতকাল দিনভর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালায়। বিস্ফোরকগুলো কোথা থেকে এসেছে সেটি নিশ্চিত হতেই মঙ্গলবার ভোর থেকে অভিযানে নামে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিপরীতে মালদহ সীমান্ত পেরিয়ে এসব বিস্ফোরক দ্রব্য দেশে প্রবেশ করেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশি সীমান্তে এসব বিস্ফোরক পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে করা এনেছে তা আটককৃতদের নিয়ে অভিযানের মাধ্যমে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই বিষয়টি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানায় ওই সূত্র।
সার্বিক বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, আটটকৃতদের এখনো থানায় হস্তান্তর করা হয় নি। অভিযান শেষে তাদের বোয়ালিয়া মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ