পাঁচ জঙ্গির লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন

আপডেট: মে ১৪, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত পাঁচ জঙ্গির লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নগরীর হেতেমখাঁ কবরস্থানে লাশগুলো দাফন করে। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সংগঠক এনায়েত কবির মিলন বলেন, দুপুরে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গ থেকে লাশগুলো কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেখান থেকে লাশ নিয়ে গিয়ে বিকেলে হেতেমখাঁ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, নিহত পাঁচ জঙ্গির স্বজনরা তাদের লাশ গ্রহণ করতে রাজি হননি। এ জন্য লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল দুপুরে মর্গ থেকে লাশ হস্তান্তরের পর ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এনামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, বোমা ও গুলিতে পাঁচ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে আশরাফুল ও আল-আমিন শরীরে বোমা ছিল। বিস্ফোরণ তাদের মৃত্যু হয়। তাদের দুইজনের শরীরের সামনের অংশ পুড়ে ঝলসে গেছে।
এছাড়া বেলী আক্তার এবং কারিমা খাতুন গুলি ও বোমার স্প্রিন্টারে এবং সাজ্জাদ গুলিতে নিহত হয়েছে। সাজ্জাদের কপালে, কারিমার কানের পাশে ও বেলীর বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া কারিমা এবং বেলীর বুকে ও পেটে বোমার বেশকিছু স্প্রিন্টরের চিহ্ন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বেনীপুর গ্রামের একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও তারা সাড়া দেয়নি। পুলিশ তখন ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে পানি ছিটিয়ে বাড়ির পেছনের মাটির দেয়ালটি ধসিয়ে ফেলতে তৎপরতা শুরু করে।
এ সময় জঙ্গিরা বাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আব্দুল মতিন নিহত হন। আর আহত হন দুই পুলিশ সদস্য। এ ঘটনার পর দুই নারীসহ এই পাঁচ জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহুতি দেন।
নিহতরা হলো, বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী আক্তার (৪৫), তাদের ছেলে আল-আমিন (২০), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) ও বহিরাগত জঙ্গি আশরাফুল ইসলাম (২৩)। আশরাফুলের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চর চাকলা গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল হক।