পাঁচ দশকেও বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি ফজলুল হক

আপডেট: জুন ২১, ২০২১, ১১:০০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক

মহান মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ দশকেও বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি ফজলুল হক। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তরে সাক্ষী- প্রমাণ নিয়ে ঘুরেও স্বীকৃতি না পাওয়ায় ক্ষোভের সঙ্গেই নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির কামনা করেন তিনি।
ফজলুল হক নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি ১৯৫১ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত মোস্তাক হোসেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৭১ সালের মার্চের পর ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলার পাহাড়পুর ক্যাম্পে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি রানীনগর থানার পানিপিয়া ইউথ ক্যাম্পে যোগদান করেন। সেখানে তিনি ‘বি কোম্পানির’ প্লাটুন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ মিলিশিয়া ক্যাম্পে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সমবেত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র গ্রহণ করেন।
তিনি জানান, রাজশাহী মহানগর ইউনিটের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য তৃতীয় পর্যায়ে আবেদন করেন। যেখানে তার যোদ্ধা নম্বর ৬৮৫৩। কিন্তু মুক্তিবার্তায় নাম আসেনি। পরবর্তীতে তিনি ২০১৩ সালে অনলাইনে আবেদন করেন। যার ডিজিআই ১১২৬১৪। দীর্ঘকাল পর যাচাই-বাছাই আরম্ভ হলে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে ফরম পূরণ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জমা দেন। কিন্তু যাচাই-বাছাই আবারো বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন যাচাই-বাছাই না হওয়ার কারণে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে তারা জানান, কাগজপত্র ঠিক আছে। এ বিষয়ে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে আসতে হবে। অথচ মহানগর কমিটির লোকদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আমরা এখনো কোনো নির্দেশ পাই নি।
তিনি জানান, তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দীনের অধীনে যুদ্ধ করেছেন। তাদের কোম্পানি কমান্ডার ছিলেন, মরহুম ইনসার আলী। তার সহযোদ্ধা অনেকেই এখনো বেঁচে আছে। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্তির জন্য তিনি ১৯৯৭, ২০০৯ ও ২০১৩ সালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজসহ সাক্ষীদেরও উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু এখনো তিনি কোনো স্বীকৃতি পান নি।
প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। বর্তমানে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ১৫ নং ওয়ার্ডের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার তিন সন্তান রয়েছে। তারা পড়াশোনা শেষ করলেও কোনো চাকরির সুযোগ হয় নি। এ অবস্থায় তার পরিবার অসহায় জীবনযাপন করছেন। সার্বিক দিক বিবেচনায় তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার অনুরোধ জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ