পাঁচ প্রশ্নে ফেঁসে যাচ্ছে নুসরাত

আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২১, ১০:৪১ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক:


মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে করা মামলার বাদী নুসরাত তানিয়াকে তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়েছে। কিন্তু এই পাঁচটি প্রশ্নের একটিরও সঠিক সদুত্তর দিতে পারছেন না নুসরাত। তিনি বারবার সময়ে ক্ষেপণ করছেন এবং এই প্রশ্নগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক বলছেন। কিন্তু তদন্তকারী সূত্রগুলো বলছে, এই মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অত্যন্ত জরুরী এবং এই প্রশ্নের উত্তর নুসরাতকেই দিতে হবে। আর এই প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারলে নুসরাতই এই মামলায় ফেঁসে যেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যেকোনও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রতিহিংসাপরায়ন ভাবে বা ভুল মামলা করলে সেটিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আবার যদি ভুল তথ্য দেওয়া হয়, মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয় সেটি এক ধরনের প্রতারণা। শেষ পর্যন্ত এই মামলার বাদী নুসরাত কোন প্রেক্ষাপটে ফেঁসে যাবেন সেটি দেখার বিষয়। তবে যে পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়েছে সেই পাঁচটি প্রশ্ন হলো,

১. মুনিয়া একলক্ষ টাকার বাড়িতে থাকতো এটা নুসরাত যানতেন কিনা: নুসরাত বিভিন্ন সময় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে বলেছেন যে তিনি খুব কষ্ট করে নুসরাতকে মানুষ করেছেন। যদি কষ্ট করেই বোনকে বড় করে থাকেন তাহলে একজন ছাত্রী কিভাবে এক লাখ টাকা ভাড়ায় একটি বাসায় থাকে? একলক্ষ টাকা বাড়ি ভাড়া কে দিতো এবং এ সম্পর্কিত তথ্য নুসরাতের কাছে ছিল কিনা? থাকলে তিনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, অবক্ষয়ের প্রথম ধাপ হলো এতো বিত্তশালী জীবন এবং আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন জীবন। যেহেতু মুনিয়া একজন শিক্ষার্থী ছিলেন, কাজেই তার জীবনযাপনের সঙ্গে একলক্ষ টাকা বাড়ি ভাড়ার কোনো রকম সামঞ্জস্যতা পাওয়া যায় না।

২. ভাড়াটিয়া হিসেবে নুসরাতের নাম কেন: প্রথম প্রশ্নের উত্তর যেমন নুসরাত এড়িয়ে যাচ্ছেন তেমনি দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরও তিনি সঠিকভাবে দেননি। মুনিয়া যদি কলেজে পড়ার জন্যই ঢাকায় থাকে তাহলে তিনি হোস্টেলে থাকবেন বা কোনো ছাত্রী নিবাসে থাকবেন। তা না করে তিনি গুলশানে বিলাসবহুল এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ভাড়া নিলেন সেটি যেমন রহস্যময় তার চেয়েও রহস্যময় যে বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়েছে নুসরাতের নামে এবং নুসরাত নিজে তার স্বামীকে নিয়ে এসে এই বাড়ি ভাড়া করে দিয়েছেন। তার মানে কি মুনিয়ার এই রকম বেহিসাবি জীবনের কথা নুসরাত জানতেন? জেনেশুনেই কি তিনি তাকে সম্মতি দিয়েছিলেন?

৩. মুনিয়ার খরচ কে বহন করতো: এ নিয়ে নুসরাত দুই রকমের বক্তব্য দিয়েছেন। প্রথম বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন যে তিনি অনেক কষ্টে বোনকে লালন পালন করেছেন। দ্বিতীয় বক্তব্যে তিনি বলেছেন যে, মুনিয়ার জীবনযাপনের খরচ অভিযুক্ত আসামী দিতেন। দুটো বক্তব্যই যদি সঠিক হয় তবে নুসরাত জেনেশুনে কেন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণে মুনিয়াকে প্ররোচিত করতেন?

৪. মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আগে কেন প্রশ্ন করেননি নুসরাত: নুসরাত তার অভিযোগে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মুনিয়ার সাথে মামলায় অভিযুক্তের সম্পর্ক ছিল। যদি সম্পর্ক দীর্ঘদিনের থাকে তাহলে কেন এ নিয়ে নুসরাত আগে প্রশ্ন করেননি? কেন তিনি থানায় জিডি করেন নি বা কোনো পক্ষের কাছে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করে নি? তার মানে কি তার কোনো প্রত্যাশা ছিল? কোনো কিছু পাওয়ার আশায় তিনি এটা করেছেন?

৫. এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সেটি হলো যে মুনিয়া-নুসরাত কথোপকথনের শেষে এবং মুনিয়ার মৃত্যুর আগে এই শেষ দুই ঘণ্টায় তিনজন ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে গিয়েছিল। এই তিনজন ব্যক্তিকেই পরবর্তীতে নুসরাতের সঙ্গে গুলশান থানায় এবং আদালতে দেখা গেছে। প্রশ্ন হলো যে, এই ব্যক্তিগুলো কারা? তাদের সাথে নুসরাতের কি সম্পর্ক? এই প্রশ্নের মধ্যেই মামলার জট অনেকখানি লুকিয়ে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর যদি সঠিকভাবে না দিতে পারেন তাহলে এই মামলা নাটকীয় মোড় নিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।- বাংলা নিউজ