পাকশীতে আন্দোলনের মুখে ‘হঠাৎ পাড়া’ ও ‘বাঙাল পাড়া’য় উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২, ১০:১৪ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে রেলের জায়গায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বাসা-বাড়ি উচ্ছেদ করার সকল প্রস্তুতি নিয়েও আন্দোলনের মুখে উচ্ছেদ স্থগিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঘোষনা দিয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে অবৈধ বাসা বাড়ি সরিয়ে না নিলে ফের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা ও রেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রেল সূত্র জানায়, পাকশীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের রক্ষাবাঁধে ১৫ বছর আগে থেকে রেলের জায়গায় বিনা অনুমতিতে বসতি তুলে ১৭০ পরিবার বসবাস করছেন। পাশাপাশি দুটি পাড়ার নামও তারা দিয়েছেন ‘হঠাৎ পাড়া’ ও ‘বাঙাল পাড়া’। গত ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে এই ১৭০ পরিবারকে তাদের বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিতে চূড়ান্ত নোটিশ দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। সে সময় পর্যন্ত তারা রেলের জমি দখলমুক্ত না করায় গত রোববার উচ্ছেদ অভিযান করার জন্য মাইকিং করা হয়। তারপরও তারা রেলের নির্দেশনা না মেনে বসবাস করছিল।

সর্বশেষ সোমবার থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য ঈশ্বরদী থানা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে বাড়ি-ঘর ভাঙার জন্য যন্ত্র ঠিক করে উচ্ছেদের প্রস্তুতি নিশ্চিত করে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি বিভাগ। এদিকে এসব আয়োজন দেখে উচ্ছেদের তালিকাভূক্ত ১৭০ পরিবারসহ পাকশীবাসী তাদের উচ্ছেদ না করার দাবিতে মানববন্ধন পথসভার আয়োজন করে। ফলে উচ্ছেদের সকল প্রস্তুতি নেওয়ার পরও রেল কর্তৃপক্ষ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষার পর উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের পর থেকে পাকশীতে পদ্মা নদীর বাঁধে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ রক্ষাবাঁধের ওপরে পর্যায়ক্রমে জমি লীজ না নিয়েই অবৈধভাবে বসবাস শুরু করেন এসব দখলদাররা। রেলের এসব জায়গা অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে দখলমুক্ত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তাদের উচ্ছেদ করতে পারেনি। সর্বশেষ মঙ্গলবার ফের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়।

এসব বিষয়ে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আব্দুর রহিম বলেন, ‘অনিবার্য কারণবশতঃ উচ্ছেদ অভিযান আপাততঃ স্থগিত করা হয়েছে।’ তবে পরে অভিযান চালানো হবে। এ বিষয়ে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, দখলদাররা আরো কিছুদিন সময় চেয়েছেন, সেকারনে তাদের আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই এক সপ্তাহের মধ্যে তারা নিজ থেকে সরে না গেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ