পাকশী বিভাগের ৪৬ স্টেশন বন্ধ জনবল সংকট, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

আপডেট: জুন ১৫, ২০২১, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বন্ধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্টেশন। এমন অবস্থা পশ্চিম রেলওয়ের পাকশী বিভাগের আরও ৪৬টি স্টেশনের। জনবল সংকটে বন্ধ হয়েছে এ সব স্টেশন, বলছেন- সংশ্লিষ্টরা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে স্টেশনের মূল্যবান যন্ত্রপাতি।
জানা গেছে, রাবি স্টেশনে অন্তঃনগর ছাড়া লোকাল ট্রেন থামে। দীর্ঘদিন বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে স্টেশনটি। শুধু অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। স্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা দোকানগুলোও প্রায় সময় বন্ধ থাকে। স্টেশনটি বুকস লাইব্রেটিটি হয়েছে চায়ের দোকান। সেখানে পেতে দেওয়া বেঞ্চে বসে মানুষকে চা খেতে দেখা গেছে।
শুধু তাই নয়, স্টেশনের রুমগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চুরি হয়েছে দরজা-জানালাও। দখল হয়েছে স্টেশনের একটি রুমও। দখল হওয়া রুম বানানো হয়েছে গোডাউন। সেখানে তালা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- পশ্চিম রেলওয়ের দুটি ডিভিশন। একটি পাকশী ও অপরটি লালমনিরহাট। শুধু পাকশী ডিভিশন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নিলফামারী, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগকে নিয়ে। এই এলাকাগুলোতে ১৭৫টি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সচল অবস্থায় রয়েছে ১২৯টি স্টেশন। আর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ৪৬টি স্টেশনের। যদিও বন্ধ কিছু স্টেশনে লোকাল ট্রেন থামে। এতে যাত্রীরা ট্রেন উঠে টিকিট নেয় বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই সমস্ত স্টেশন জনবলের অভাবে একের পর এক করে বন্ধ হয়েছে। দীর্ঘদিনেও জনবলের সমস্যা সমাধন না হওয়ায় স্টেশনগুলো খোলা সম্ভব হয়নি। তবে স্টেশনগুলো চালু করা গেলে রেলওয়ে থেকে সরকারের রাজস্ব আয় আরও বাড়বে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম জানান, স্টেশন বন্ধ থাকার কারণে রেলের পরিচালন সময় যেমন বেড়েছে। তবে সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমেছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন- বন্ধ থাকা স্টেশনের যন্ত্রপাতি ও সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে রাবি স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে- টিকিট মাস্টারের রুম থেকে শুরু করে কয়েকটি রুমের দরজা, জানালা নেই। গভীর রাতে রুমের ভেতরে বসে মাদকের আখড়া বসে। ভেতরে নেশা জাতীয় দ্রব্যের আলামত দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া পূর্বের একটি রুমে টিনের গেট করে তালা বদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়েছে। এটি কেউ দখল করে মালামাল রেখেছেন।
স্থানীয়রা জানান, কমপক্ষে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে স্টেশন বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। বন্ধের পরেও টিকিট মাস্টার আসতেন। পরে চলে যেতো। তবে এখন আর দেখা যায় না। দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পাগল (মানসিক ভারসম্যহীন) মানুষেরা থাকে স্টেশনের রুমগুলোতে।
পশ্চিম রেলওয়ের (পাকশী) বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৭৫টি স্টেশনের মধ্যে বন্ধ আছে ৪৬টি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ