পাকিস্তানিরাই পাকিস্তানের শত্রু || মালালা আগুনে শুদ্ধ হবে কী পাকিস্তান?

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৭, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

বয়সে ছোট হলেও সাহস ও জ্ঞানের পরিধি অনেক বড়। লক্ষ্য হাসিলে অসীম সাহসে ভর করে লেগে থাকা সেতো বিশ্বে এক নতুন দৃষ্টান্তÑ দেশে দেশে অনুসরণীয়, অনুকরণীয়। মেয়ে শিশু, তাও আবার পাকিস্তানে জন্ম নিয়ে নারী শিক্ষার কথা বলে, নারী জাগরণের কথা বলে, দুঃসাহসই বটে। উগ্র-উন্মাদ তালেবানি জঙ্গিরা তা মানবে কেন! হোক না শিশু, গুলি করে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর দুয়ার বেঁচে এসেছে। এখন সেই ছোট মালালা ইউসুফজাই এখন তরুণী, সাহস, জ্ঞান ও সত্য নিষ্ঠায় প্রতিনিয়ত নিজেকে শাণিত করছেন। ইতোমধ্যে শান্তিতে নেবেল জিতে নিয়েছেন। জাতিসংঘের সর্বকনিষ্ঠ দূত হিসেবে সম্প্রতি নিযুক্তি লাভ করেছেন। যোগ্যতার প্রতি সুবিচার আর কি!
মালালা ইউসুফ জাই পাকিস্তানের বিবেক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। পাকিস্তানের পথ-প্রদর্শক। উগ্রতা আর ধর্ম-অন্ধতা থেকে দেশকে বের আনতে তার হৃদয় আকুতি পাকিস্তানের জনগণের জন্য প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হচ্ছে। বিশ্ব মানুষের জন্যও তা হৃদয়-নাড়া। পাকিস্তানি শাসকদের চক্ষু ভীষণ রক্তবর্ণময়Ñ আর জঙ্গিবাদের দৈত্যরা পাকিস্তানের মানবতাকে ধ্বংস করে বসেছে। সে দেশে চলছে মানবিক বিপর্যয়। ঠিক এমনি ক্ষণেই মালালা সবচেয়ে সাহসী কথাটি বলে বসলেন যে, পাকিস্তানের শত্রু পাকিস্তানিরাই। পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মের অবমাননার অভিযোগে ছাত্র খুন নিয়ে মুখ খুললেন মালালা ইউসুফজাই। নোবেলজয়ী এই তরুণীর মতে, সারা বিশ্বের কাছে পাকিস্তান এবং ইসলামধর্মের বদনামের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন পাকিস্তানিরাই। একটি ভিডিও-বার্তায় মালালা বলেছেন, ‘সারা বিশ্বের অনেক মানুষই ইসলাম ভীতিতে ভুগছেন। তাঁদের কাছে সন্ত্রাসবাদ এবং অসহিষ্ণুতার সমার্থক শব্দ হয়ে উঠছে ইসলাম। আমাদের ধর্মের (ইসলামের) ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য অন্য কাউকে দরকার নেই। পাকিস্তানিরাই এই কাজের জন্য যথেষ্ট।’ তাঁর এই বক্তব্য বিশ্বের দেশে দেশে গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে।
মালালার বক্তব্যে চরম সত্যিরই উদ্ভাস ঘটেছে। বড়রা বলতে পারে না, যে দেশে মানুষের বিবেক সঙ্কুচিত-হীনমনÑ সেই বিবেককে কী মালালার মত এক নারী কী জাগাতে পারবে?
পাকিস্তানের এক কবি সাহসী হয়ে বলতে পেরেছিলেন, পাকিস্তানি সৈন্যরা অন্য দেশ দখল করতে না পারলে নিজের দেশ দখল করতে খুবই পারঙ্গম। কবিকে এর মাসুল দিতে হয়েছে। তার অনেক বছর পর মালালা তেমনই সাহসী উচ্চারণ করলেন নিজ দেশ সম্পর্কে। তার বক্তব্য চরম সত্যেরই বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তানের জন্মটাই ছিল আজন্ম পাপের মত। জন্মের পরেই সে দেশের নাগরিকের ভাগ্যে শোষণ, বঞ্চনা আর নিপীড়ন ছাড়া কিছু মিলেনি। এসব কিছুই হয়েছে ধর্মের নামে, ধর্মের মোড়কে। রাষ্ট্রযন্ত্রই যে শঠতা, ষড়যন্ত্র, কুপক-কতা আর বিভেদ- বৈষম্যের সমর্থক। শুধু ওই কারণেই পাকিস্তান থেকে পৃথক হয়ে বাংলাদেশ হয়েছে, বাঙালিরা বেঁচেছে। উন্মাদ- উন্মত্ততার রাহুগ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছে। পাকিস্তান অখ-তা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার যোগ্যতা একেবারে হারাতে বসেছে। এবার স্বাধীনতার সুর চড়িয়েছে বালুচিস্তান, সিন্ধু। এক মালালা লক্ষ কোটি মালালা হয়ে জ্বলে উঠতে পারবে কি পাকিস্তানেÑ নতুবা উন্মাদ পাকিস্তান নিজে নিজেই জ্বলে পুড়ে ছারখার হবেÑ বাস্তবতা তাই বলে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ