‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা পাকিস্তান ফিরে যা’

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


মিরপুরে দর্শকদের পাকিস্তানকে সমর্থন করতে দেখা গেলেও চট্টগ্রামে সেটি দেখা যায়নি।
মিরপুরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পাকিস্তানকে নিয়ে উৎসব করতে দেখা গেছে বাংলাদেশি অনেক দর্শককে। কেউ কেউ তো আবার পাকিস্তানের পতাকা নিয়েও হাজির হয়েছিলেন! হুট করে দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি বাংলাদেশের কোনও গ্যালারি। দর্শকদের এমন সমর্থন দেখে বাংলাদেশে খেলতে এসেছেন বলে মনেই হয়নি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে এমন মন্তব্য করেছিলেন ফখর জামান। মিরপুরে দর্শকদের পাকিস্তানকে সমর্থন করতে দেখা গেলেও চট্টগ্রাম ছিল ব্যতিক্রম।
সফরকারী ক্রিকেটাররা মিরপুরে পাকিস্তানের ফ্লেভার পেলেও চট্টগ্রামে এসে এমন কিছু পাননি। বরং তাদের পাকিস্তান বিরোধী স্লোগান শুনতে হয়েছে। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ৫ হাজার দর্শককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সকালে সংখ্যাটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে দর্শকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

গ্যালারির যে অংশ দর্শকের জন্য উন্মুক্ত ছিল, সেই পূর্ব গ্যালারির পুরোটাই পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
যদিও মাঠের বাইরে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন পাকিস্তানের জার্সি পরে মাঠে ঢুকতে চেয়েছিলেন। তাদেরকে রুখে দিয়েছেন সমর্থকদের একটি অংশ।
বাংলাদেশের জার্সি পরে চট্টগ্রাম এমইএস কলেজ থেকে বেশ কিছু তরুণ খেলা দেখতে এসেছেন। গ্যালারিতে বসে তাদের স্লোগান তুলতে দেখা গেছে, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ, পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা।’ তারা আরও বলেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা পাকিস্তান ফিরে যা’।

শাহাদাত হোসেন হীরা নামের এক ক্রিকেট ভক্ততো পুরনো ইতিহাসই সামনে নিয়ে এলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এই চট্টগ্রামের মাটি থেকে অনেক আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, পাক হানাদার বিরোধী আন্দোলন এই চট্টগ্রাম থেকে সৃষ্টি হয়েছে। কোনও বাঙালি যদি পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে, পাকিস্তানের জার্সি বহন করে তাহলে এই চট্টগ্রামের যুব সমাজ তা প্রতিহত করবে।’

বদ্দারহাট থেকে খেলতে আসা বেশ কিছু তরুণ বলেছেন, ‘এটা চট্টগ্রাম, এটা মিরপুর না। এখানে বাংলাদেশি কেউ পাকিস্তানকে সমর্থন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। ‘
সা¤প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ফর্ম ভালো না থাকলেও চট্টগ্রামে বিপুল দর্শক সমাগম ঘটেছে। যদিও দর্শকদের হতাশ করেননি মুশফিক-লিটনরা। আরিফ হোসেন তার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে খেলা দেখেতে এসেছেন। এমন ব্যর্থতার পরও কেন বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে আসা? উত্তরে আরিফ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দল যেমনই করে না কেন, আমরা তাদের পক্ষেই আছি।

সব সময় বাংলাদেশ দলকে সাপোর্ট দিয়ে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব। চট্টগ্রামের মাঠে বাংলাদেশের ভালো কিছু রেকর্ড আছে। আশা করি এখানে বাংলাদেশ দল ভালো করতে পারবে।’
চট্টগ্রামের ছেলে ইয়াসির আলী রাব্বির অভিষেক হওয়াতে দারুণ খুশি স্থানীয় সমর্থকরা। জোট বেঁধে খেলা দেখতে আসা তরুণ কিছু সমর্থক বলেছেন, ‘অনেকদিন ধরেই দলের সঙ্গে ছিলেন রাব্বি ভাই। তাকে দলে নেওয়া হয়েছে। অভিষেকও এখানেই। আশা করি, চট্টগ্রামের ছেলে হিসেবে উনি চট্টগ্রামকে খুব ভালো করেই রিপ্রেজেন্ট করতে পারবেন।’
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ