পাকিস্তানের বিদায়ী সেনাপ্রধানের ফতোয়া বর্বর-নির্লজ্জরা পাল্টাতেই পারে না!

আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২২, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

পাকিস্তানের বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল জাভেদ কামার বাজওয়া তার মেয়াদের শেষ প্রকাশ্য ভাষণে বড় ধরনের স্টান্টবাজি করে গেলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পরাজয় যে তাদের লজ্জিত করেনি তারই পুনরাবৃত্তি করলেন। এই পুনরাবৃত্তি থেকে আবারো স্পষ্ট হলো যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বর চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পাকিস্তানকে খুবলে খুবলে খাওয়া পাক সেনারা যে সভ্য ও মানবিক আচরণ করবে না এটাই স্বাভাবিক। সংবাদ মাধ্যমে সে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। পাকিস্তানভিত্তিক অনুসন্ধানমূলক প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট ফোকাস জানিয়েছে, গত ছয় বছরে বিলিয়নিয়ারের খাতায় নাম লিখিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পরিবারের সদস্যরা। পাকিস্তাননামক রাষ্ট্রকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিলত করতে দেশটি রাজতৈকি দলের চেয়েও বড় ভূমিকা রয়েছে সেনাবাহিনীর। এ দায় মোচনের চেষ্টাও তার বক্তব্যে এসেছে। বুধবার রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদর দফতরে এক বার্ষিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সাবেক পূর্ব পাকিস্তান ছিল একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা, সামরিক নয়। পাকিস্তানে কখনই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারেনি ফলে সেখানে রাজনৈতিক ব্যর্থতার কোনো দায় আছে বলে মনে হয় না। ১৯৭১-এ বাংলাদেশে যা কিছু ঘটেছে তাতে দেশটির রাজনৈতিক কোনো ভূমিকাই ছিল না। কেননা দেশটি চালাচ্ছিল বর্বর সেনাবাহিনী। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর কর্মকা- ও পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা অবশ্য তিনি এড়িয়ে যান।
তিনি ১৯৭১ সালের ভয়ঙ্ককর-বিভৎসতার কোন অংশটুকু সংশোধন করতে চান? বাংলাদেশে পাকিস্তানি ৯২ হাজার সৈন্যের আত্ম-সমর্পণের মিমাংসিত তথ্য তিনি কোন যুক্তি বলে সংশোধন করবেন? ৩৪ হাজার সৈন্যের মনগড়া ফতোয়া দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা করা যায় কিন্তু প্রকৃত তথ্য ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। খোদ পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্ম সে সমালোচনায় অভ্যস্থ হয়ে উঠছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মানুষ যুদ্ধ করেছে। এটা স্পষ্ট জনযুদ্ধ ছিল। পৃথিবীর আর সব জনযুদ্ধতেই অন্য দেশের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়েছে। বাংলাদেশের গণমানুষের যুদ্ধেও তেমনি ভারত সহায়তা ও সহযোগিতা করেছে। গোড়া থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী যুদ্ধ করলে হয়ত পাকিস্তানের কোনো সৈন্যই সে দেশে প্রাণ নিয়ে ফিরে যেতে পারতো না।
খোদ পাকিস্তানের সংসদে বারবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এসেছে। সেখানে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়ষি প্রশংসা হয়েছে এবং একাত্তরের কৃত অপরাধের স্বীকারোক্তিও এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নওয়াজ শরিফের মুখ থেকে। বাংলাদেশ বারবার বলেছে বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ্য মানুষ হত্যা, নারীদের ধর্ষণ. অগ্নি-সংযোগ, লটুপাট কিংবা ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ঘটনা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ। পাকিস্তান এখনো একাত্তরে তাদের কৃতকর্মের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। অথচ পাকিস্তানের তরুণরা এখন মনে করছে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। তারা একাত্তরে বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় অনুতপ্ত, লজ্জিত। কিন্তু পাকিস্তানে বিদায়ী সেনা প্রধান বিভ্রান্তি ছাড়িয়ে গেলেন। এবং তিনি এটাও স্পষ্ট করে গেলেন, পাকিস্তান জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের পরিপূরক একটি দেশ মাত্র। ওরা যুগের প্রয়োজনেও বদলাতে জানেনা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ