পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক || হামিদ মীর একি বলেন!

আপডেট: এপ্রিল ৩০, ২০১৭, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

সম্পর্ক তৈরি বা সম্পর্কোন্নয়ন একপাক্ষিক কোনো বিষয় নয়Ñ দুটি পক্ষের সমঝোতার মধ্য দিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বান্দ্বিক বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় থাকলে সেটা নিরসনের করেও সম্পর্ক তৈরি করা যায়। কিন্তু পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনটা অনেক ব্যাপক এবং গভীরে। এটারও সমাধান হতে পারে- কিন্তু পর্বতসমান অহংবোধ ও যুদ্ধাংদেহি মনোভাব রেখে সম্পর্ক হয় না। পাকিস্তান সেই অহংবোধের জায়গাতেই অবস্থান করছে। তারা নিজেরা যেমন নিজেদের সাথে প্রতারণা-প্রবঞ্চনায় অভ্যস্থÑ একইভাবে তারা একাত্তরে সংঘটিত বাঙালি জাতির যুদ্ধাপরাধের দায় বাংলাদেশ বিস্মৃত হতে বলে শুধু তা-ই নয়- বাংলাদেশ যখন তার নিজ দেশের মানবতাবিরোধীদের বিচার করে তাতেও অযাচিত হস্তক্ষেপ করে- ধর্ম-উন্মাদদের সমর্থন করে পাকিস্তান। একাত্তরে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী যে, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও লুটপাট চালিয়েছে তার জন্য ৪৬ বছর পরেও কোনো অনুশোচনা তাদের নেই। পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের যে পাওনা তারও কোনো সুরাহার ব্যাপারে পাকিস্তারে আগ্রহ নেই। তা হলে কার সাথে কিসের সম্পর্ক, কেমন সম্পর্ক হবে? তদুপরি বলা যায়, বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের পরপরই সম্পর্কের ভিত রচনা করেছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার একাত্তরে বাঙালিদের ওপর দমনপীড়নের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যারা সোচ্চার ছিলেন তাদের সম্মামনা দিয়েছে। এটা তো সম্পর্ক ক্ষেত্রই তৈরি করে। কিন্তু পাকিস্তান সম্পর্ক তৈরি না করে বরং বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তারা বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদে উস্কে দিচ্ছে, ধর্মী উন্মাদনা তৈরি করছে- সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাদের সাথে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখা কেমন করে সম্ভব?
একাত্তরে বাংলাদেশে দমন-পীড়নের বিরোধিতায় কলম ধরায় বিদেশি বন্ধু হিসেবে যে সম্মাননা পেয়েছিলেন ওয়ারিস মীর, তা ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার ছেলে পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীর।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপড়েনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, বাবার ওই সম্মাননাকে এখন তার ‘ধোঁকা’ বলে মনে হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো যে ৬৯ জন বিদেশি বন্ধুকে ২০১৩ সালের মার্চ মাসে সম্মাননা দেয়া হয়, তার মধ্যে ওয়ারিস মীরসহ ১৩ জন ছিলেন পাকিস্তানি।
পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীর একজন সজ্জন ও প্রগতিবাদী হিসেবেই বাংলাদেশের মানুষ জানে। তিনি পাকিস্তানে জঙ্গিদের হামলার শিকারও হয়েছেন। তিনি তার দেশ সম্পর্কে নিশ্চয় খুব ভাল ধারণা রাখেন। তিনি নিজেই ২০১৩ সালে বাবার পক্ষে সম্মামনা নেয়ার সময় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানেও একদিন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে। ২০১৬ সালেই তিনি উল্টোপথে হাঁটছেন কেন? তিনি যা প্রত্যাশা করেছিলেন, বাংলাদেশ তো সেই যুদ্ধাপরাধীদেরই বিচার করছেÑ এটার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন খুঁজলে তো পাকিস্তানের মত বাংলাদেশকেও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হতে হবে। হতে পারে তিনি পাকিস্তানের পারিপার্শ্বিক চাপের মুখে অমন কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেনÑ কেননা পাকিস্তানে সবই সম্ভব। বরং বাংলাদেশ তার নিজ দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে পাকিস্তানের বিরোধিতা ও চক্রান্তের মধ্যে পড়তে হয়েছে- তাতে পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা নয়। সম্পর্ক ছিন্নের দাবিও উঠেছিল ব্যাপকভাবে। কিন্তু বাংলাদেশ ত্রা শিষ্টাচার বজায় রেখেছে। তারপরও সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশকে দায়ী করা কৌতুকের মত নয় কি? হামিদ মীর অ্যাওয়ার্ড ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে শুধু তাঁর প্রয়াত পিতাকে নয়Ñ পাকিস্তানের মুক্তিকামী মানুদেরও অপমান করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ