পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হাফিজের সংগঠন

আপডেট: জুলাই ১, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


হাফিজ সইদের জঙ্গি সংগঠন নিষিদ্ধ হল পাকিস্তানে। গত ৮ জুন তার সংস্থা ‘তেহরিক-ই-আজাদি-জম্মু ও কাশ্মীর’ নিষিদ্ধ করেছে সে দেশের জাতীয় সন্ত্রাস দমন বিভাগ। এই সংগঠনের মাধ্যমেই এতদিন আড়াল থেকে উপত্যকায় অশান্তি ছড়াতে মদত দিচ্ছিল সে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপে, এর আগে। ২০০২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হাফিজ সইদের ‘লস্কর-ই-তৈবা’ সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। তবে তাতে বিশেষ সমস্যায় পড়তে হয়নি ২৬/১১ মুম্বই হামলার হোতা হাফিজকে। বরং লস্করের ছাতার তলায় ‘জামাত-উদ-দাওয়া’ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা করে সে। ২০১৪ সালে সেটিকে জঙ্গি সংগঠন বলে চিহ্নিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর ২৭ জানুয়ারি ফের সংগঠনটিকে মার্কিন পর্যবেক্ষণ তালিকায় তুলে আনা হয়। চাপে পড়ে, এর ঠিক তিনদিন পর, ৩০ জানুয়ারি হাফিজ সইদকে গৃহবন্দি করতে বাধ্য হয় ইসলামাবাদ।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে ধারাবাহিক সন্ত্রাস হামলার জন্য সরাসরি হাফিজ সইদ, ‘লস্কর-ই-তৈবা,’ ও ‘জামাত-উদ-দাওয়া’কে দায়ী করেছিল ভারত। সে বছর ডিসেম্বর মাসে, ১২৬৭ ধারায় ‘জামাত-উদ-দাওয়া’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জাতিসংঘ। আল-কায়দা ও তালিবানকে সমর্থন এবং ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগে হাফিজকেও নিষিদ্ধ করা হয়। তার মাথার দাম ১ কোটি মার্কিন ডলার ঘোষণা হয়। তবে কুখ্যাত এই জঙ্গিকে আটক করা নিয়ে কম নাটক করেনি পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মহলে কোণঠাসা হওয়ার ভয়ে প্রথমে তাকে গৃহবন্দি করলেও, পরে মুক্তি দেয়া হয়। তবে এ বছর জানুয়ারি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। দুর্নীতি মামলায় ‘এশিয়া পেসিফিক গ্রুপ’-এর তালিকায় ‘জামাত-উদ-দাওয়ার’ নাম ওঠে। তারপরই সংগঠনটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা নিয়ে ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন। পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইসিআরজি) নিষিদ্ধ তালিকায় তাদের নাম উঠতে পারে বলে হুমকি দেয়া হয়। বলা হয়, একবার ওই তালিকায় নাম উঠলে কেনও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থার সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে গেলে প্রতিবার আইসিআরজি-র অনুমতি নিতে হবে ইসলামাবাদকে। উপায় না দেখে ৩০ জানুয়ারি হাফিজ সইদকে গৃহবন্দি করতে বাধ্য হয় পাকিস্তান প্রশাসন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পাঁচ মাস কেটে গিয়েছে। শুরু থেকেই ইসলামি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি। দেশের মাটিতে সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয় দেয়া নিয়ে, নাম না করে ইসলামাবাদকে বেশ কয়েকবার ঠুকেছে তাঁর সরকার। তবে ভারতের সঙ্গে বরাবরই সদ্ভাব রেখে এসেছে তারা। জুন মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্ত সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলেন তিনি। পাকিস্তানে আস্তানা গেড়ে থাকা ২৬/১১ মুম্বই এবং পাঠানকোট হামলার অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে আর্জি জানান। মোদির সফরের দু’দিন আগেই হিজবুল নেতা সৈয়দ সালাউদ্দিনকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি ঘোষণা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আলোচনার বিষয়বস্তু কী হতে পারে ভালমতোই বুঝতে পেরেছিল ইসলামাবাদ। তাই ‘তেহরিক-ই-আজাদি-জম্মু ও কাশ্মীর’-কে নিষিদ্ধ করে, আগে ভাগে হাফিজের ওপর লাগাম কষার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
তথ্যসূত্র: আজকাল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ