পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো প্রায় ৪ কোটি টাকা

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০২২, ১০:০৩ অপরাহ্ণ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া টাকা

সোনার দেশ ডেস্ক:


কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে এবার পাওয়া গেলো প্রায় চার কোটি টাকা। সারাদিন গণনার পর এ তথ্য জানিয়েছে অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী। শনিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টায় মসজিদের আটটি সিন্দুক খুলে পাওয়া যায় ১৫ বস্তা টাকা। সারা দিনে এগুলো গুণে পাওয়া গেল তিন কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা। এবারের দানের টাকার পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

সাধারণত প্রায় তিন মাস পর পর খোলা হয় মসজিদের সিন্দুক। প্রতিবারেই পাওয়া যায় তিন থেকে চার কোটির কাছাকাছি টাকা। শুধু দেশি টাকা নয়, বিদেশি মুদ্রা, সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায় অনেক। মাঝে মাঝে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে লেখা চিঠিপত্রও থাক সিন্দুকে। রোগমুক্তি, বিপদ-আপদ থেকে রক্ষাসহ নানা বাসনার কথা লেখা থাকে ওইসব চিঠিতে।

সবশেষ জুলাই মাসের দুই তারিখে খোলা হয়েছিল পাগলা মসজিদের দানের বাক্সগুলো। তখন সেখানে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার বাদে পাওয়া যায় তিন কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা। এর আগে মার্চে পাওয়া যায় তিন কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। তারও আগে গত বছর নভেম্বর ৬ তারিখ সিন্দুক খুলে পাওয়া যায় তিন কোটি ৭ লাখ ১৭ হাজার ৫৮৫ টাকা।

এরই ধারাবাহিকতায় দুই মাস ২৯ দিন পর আজ শনিবার কঠোর নিরাপত্তা আর বেশ কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে খোলা হয় মসজিদের আটটি সিন্দুক।

মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এবার সিন্দুকগুলোর টাকা গণনা করে পাওয়া গেছে তিন কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন- মসজিদের সিন্দুক খোলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোহরা সুলতানা যুথী, মোসাম্মাদ নাবিলা ফেরদৌস, এনডিসি সুশান্ত সিংহ প্রমুখ। যে ব্যাংকে পাগলা মসজিদের টাকা জমা হয়, সেই ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটির লোকজন, মাদ্রাসার ছাত্রসহ সবমিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক লোক টাকা গণনা করেন।

জানা গেছে, পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক। আর সাধারণ সম্পাদক হলেন- কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. পারভেজ মিয়া।

মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, মসজিদের দানের টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত থাকে। আর ওই টাকার লভ্যাংশ থেকে মসজিদের উন্নয়ন কাজ করা হয়। তাছাড়া গরিব অসহায় লোকদের আর্থিক সহায়তাসহ ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্তদের আর্থিকভাবে অনুদান দিয়ে মসজিদটি আর্তমানবতার সেবায় ভূমিকা রেখে চলেছে।

মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, পাগলা মসজিদে মাদ্রাসার ১২০ জন ছাত্র, মসজিদের ৩৪ জন কর্মচারী ও রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী টাকা গণনার কাজ করে।

কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে আজ এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতিও। দিন দিন মসজিদের দানের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন