পাটকাঠির ছাই কিনতে ভারতে চিনা বণিকদল

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
শুধু চুল নয়, এবার বেলডাঙার কাজিসাহা গ্রাম থেকে পাটকাঠির ছাই চালান হচ্ছে চিনে। এজন্য কাজিসাহা গ্রামে মাসের পর মাস ঘাঁটি গেড়ে থাকছেন চিনা কারবারিরা। যাঁদের মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছেন। তাঁদের টেকনোলজিতে এখানে তৈরি হয়েছে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই তৈরির কারখানা। অথচ, এই ছাই থেকে চিন কী তৈরি করছে, তা সকলেরই অজানা। এনিয়ে রহস্য ঘনিভুত হয়েছে। বিষয়টি শুনেই কৃষি দপ্তরের কর্তারা খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন।
চিনের সঙ্গে চুলের কারবারে বেলডাঙা-১ ব্লকের কাজিসাহা গ্রামের নাম বহুদিন আগেই জড়িয়েছে। এবার এই গ্রামেই চীনা কারবারিদের প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই তৈরির কারখানা। কিন্তু, ওই কারখানা সম্পর্কে জেলা শিল্পকেন্দ্র পুরোপুরি অন্ধকারে।
ছাই কারখানার অন্যতম মালিক সাবির আলি বলেন, চিনা কারবারিদের পরামর্শে তিন মাস আগে পৌনে দু’বিঘা জমির উপর পার্টনারশিপে এই কারখানাটি গড়েছি। আমার সঙ্গে আরও ছ’জন রয়েছেন। জেলা শিল্পকেন্দ্র অনুমোদন দেয়নি। তাদের মৌখিক পরামর্শ মতো এই কারখানার জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মালদহের অফিস থেকে অনুমোদন নিয়েছি। স্থানীয় বেগুনবাড়ি ও চৈতন্যপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে নো-অবজেকশন সার্টিফিকেটও নেয়া হয়েছে। চিনা কারবারিরা এখানে এসে দু’-তিন মাস করে থাকেন। তাঁদের দেয়া কারিগরি শিক্ষা অনুসারেই কারখানাটি গড়েছি। জেলা শিল্প কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার দেবাশিস মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ওই কারখানা গড়ার ব্যাপারে কেউ আমাদের কাছে আবেদন করেনি। কাজেই বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানা নেই।
বেলডাঙা-১ ব্লকের বেগুনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কাজিসাহা গ্রাম। বেলডাঙা শহর থেকে আমতলা যাওয়ার রাস্তা ধরে বেগুনবাড়ি ও কাজিসাহা স্টপেজ পেরিয়ে গেলেই দেখা যাবে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই তৈরির কারখানা। রাস্তার পাশেই অনেকটা জমি নিয়ে কারখানাটি গড়ে উঠছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা গেল, দু’টি সারিতে পর পর ১২টি চিমনি রয়েছে। চিমনির মাথায় রয়েছে বাঁশের মাচা। তাতে কর্মরত ছ’জন শ্রমিক। দু’টি চিমনি দিয়ে গলগল করে ধোঁয়া উঠছে। একের পর এক পাটখাঠির বোঝা চিমনিগুলিতে গুঁজে দিচ্ছেন শ্রমিকরা। সেসময় কাঠিতে মাঝেমধ্যেই আগুন লাগছে। সঙ্গে সঙ্গে জল দিয়ে তা নিভিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা। বাকি চিমনিগুলির ঢাকনা বন্ধ। মাচার নীচে অর্থাৎ চিমনির গোড়ায় রয়েছে দু’টি মোটর। পাশেই গোডাউন। সেখানে বস্তা বস্তা ছাই মজুত রয়েছে। গম ভাঙানোর কায়দায় মোটর চালিয়ে ছাই বস্তাবন্দি করা হয়। উৎপাদিত ছাই ছাতুর মতো মিহি।
কীভাবে চলে ছাইয়ের কারবার? কারখানার ম্যানেজার আবদুল আজিজ বলেন, চিনের কারবারিরা এই কারখানায় থাকছেন। তাঁরা হাতে ধরে শ্রমিকদের ছাই তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বস্তাজাত ছাই এখান থেকে লরিতে করে খিদিরপুর ডকে যায়। সেখান থেকে জাহাজে করে পাড়ি দেয় চিনে।
এই কারবারে আয় কী রকম? কারখানার মালিকা সাবির বলেন, গ্রামবাসীদের কাছ থেকে আড়াই টাকা কেজি দড়ে পাটকাঠি কিনি। তারপর চিনা কারবারিদের ফরমুলায় পাটকাঠির ছাই প্রস্তুত করি। এটাকে চারা গুল ডাস্ট বলে চিনা কারবারিরা। তারা এই ডাস্ট ৪০০০ টাকা কুইন্টাল দরে কেনেন। মাসে প্রায় ২০টন ডাস্ট চিনে রপ্তানি করা হয়।- বর্তমান

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ