পাটচাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছে তো? চাষিদের সুরক্ষা আগে

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০১৯, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

গোটা দক্ষিণ এশিয়াতে পাট পাওয়া গেলেও অবিভক্ত বাংলায় (বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ) পাটের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ পাট উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের পরিবেশ পাটচাষের পক্ষে বেশ উপযোগী। ভারতবর্ষে ব্যবসা করতে আসা ব্রিটিশরা আজ থেকে ১৫০ বছর আগে পাট শিল্পের পত্তন করে এবং তখন থেকেই পাটের তৈরি ব্যাগ সব ধরনের জিনিস এমনকী খাদ্যশস্য সারা পৃথিবীতে পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হত। পাট শিল্প বাঙালি জনজীবনের এক অন্যতম সম্পদ। পাট শিল্পকে আশ্রয় করে যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠেছে এক বিশেষ আর্থ-সামাজিক পরিবেশ, যা বাঙালির বহমান ইতিহাসের অন্যতম সঙ্গী। সেটা ছিল পাটের স্বর্ণ যুগ। বাংলাদেশে পাটকে এখনো সোনালী আঁশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যদিও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কয়েক দশক পাট শিল্প বিবর্ণ দশায় এসে পৌঁছে। কৃত্রিম তন্তু পাটের বিকল্প হিসেবে দাঁড়ালে পাটের দুর্দশা নেমে আসে। পাট বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিকতায় অসাধারণ প্রভাব বিস্তারিত হলেও পাট নিয়ে গবেষণা না হওয়ায় বাজার প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে নি।
এখন সময় পাল্টেছে। পাট নিয়ে, পাটের বহুমুখিনতা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। এসব গবেষণার গৌরবময় ফলও আছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই পাটের ঐতিহ্য-দিন ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থেকেই এই উদ্যোগ পাট শিল্পের অগ্রযাত্রা অনেকটাই ত্বরান্বিত করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বব্যাপি পরিবেশের দাবিটি এখন খুব বেশি বিশ্বমানুষ চিন্তায় স্থান পেয়েছে। এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য ও টেকসই করার জন্য পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যাপারে অধিক সোচ্চার হচ্ছে বিশ্ব। পাট শিল্প এই মুহূর্তে পরিবেশ বান্ধব উৎপাদনের সম্ভবাবনাকে জাগিয়ে তুলেছে। এর অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত আছে। কিন্তু পাটশিল্পকে রক্ষা এবং সম্প্রসারণে সর্বাগ্রে পাটচাষিদের রক্ষার তাগিদ অনুভব করতে হবে। পাটচাষ করে চাষির যদি গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায় তা হলে এই শিল্পকে রক্ষা করা দুরহ হয়ে দাঁড়াবে। সেক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপি বাংলাদেশের পাটশিল্প নিয়ে যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সেটাও অকালে নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেই জায়গা দখল করবে অন্য কোনো দেশ।
আমাদের প্রত্যাশা পাটচাষ ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের নৈরাজ্যকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বর্তমানে চাষিরা পাটের দামে অনেকটা সন্তুষ্ট বটে কিন্তু মাঝে একটি সময় পাটের বাজারকে নিম্নগামী করে তুলেছিল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট যাতে কোনোভাবেই পাটচাষিদের জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে না পারে তার নিশ্চয়তাও সরকারকেই দিতে হবে। তবেই পাটশিল্প নিয়ে সম্ভাবনার সবটুকু অর্জন করা সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ