পাটের সুদিন ফিরছে || ‘সোনালী আঁশের সোনার স্বপ্নের ডাক

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

পাটের সুদিন ফিরছে বলেই মনে হয়। সরকার পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের বহুবিধ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। যার ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। পাট আর শুধু ব্যাগ, বস্তা আর থলির কাজে ব্যবহার হচ্ছে না। এখন পোশাক পরিচ্ছদ, ফুলদানি, ঝাড়বাতি থেকে শুরু করে ব্যাগ, জুতা, বিছানার চাদর, বালিশ, কুশন, ডায়েরি, নোট বই, মানিব্যাগ, হাত ব্যাগসহ হরেক রকম তৈজসপত্র তৈরি হয় পাট থেকে। বাংলাদেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এসব পণ্যের বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর। চলতি অর্থ বছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলার আয় হয়েছে, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।
‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ, পাটপণ্যের বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে প্রথমবারের মতো ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে সারাদেশে। এ উপলক্ষে আট দিনের কর্মসূচিও নেয়া হয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে বহুমুখী পাট-পণ্য মেলার আয়োজন।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বৃহস্পতিবার এ মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাটের শাড়ি পরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাটজাত দ্রব্য ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করতেই পাটে শাড়ি পরে অনুষ্ঠানে আসেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাটের সোনালী দিন ফিরেছে। তিনি পাটের তৈরি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি আরো বলেন, ‘পাট পরিবেশবান্ধব, এর থেকে আর উন্নত কিছু হতে পারে না। পাট উৎপাদন ও সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাট থেকে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করে তা আমরা রপ্তানি করবো। প্রযুক্তির এই উৎকর্ষের যুগেও পাটের সেই অমিত সম্ভাবনা রয়ে গেছে।’
পাট শিল্পের অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে বর্তমান সরকার দেশের অভ্যন্তরে ছয় পণ্য- ধান, গম, চাল, ভুট্টা, চিনি এবং সার প্যাকেটজাত কিংবা মোড়ক তৈরিতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। এছাড়া আরও ১২টি পণ্যের মোড়ক তৈরিতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে পাটের চাহিদা অনেক বেড়েছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব বাজারে বহুমুখী পাটপণ্যের রফতানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে।
এক সময়ে বাংলাদেশের পাট ছিল বিশ্বখ্যাত, যা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা উপার্জন হতো। কিন্তু নানা কারণে পাট তার মর্যাদা হারায়। পাটের অনেক রকমের বিকল্প আবিষ্কৃত হয়েছে। এক পর্যায়ে সঠিক দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও পাট চাষে অনীহা সৃষ্টি হয়। এখন সেই অবস্থার উন্নতি ঘটেছে। পাটকে প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালে কৃষিপণ্যের মর্যাদা দিয়েছে। কৃষক বর্তমানে পাটচাষে উৎসাহ বোধ করছে, ভাল মূল্যও তারা পাচ্ছেন। বিকশিত পাটশিল্প আশার সঞ্চার করেছে। আমাদের প্রত্যাশা পাট তার হৃতগৌরব উদ্ধার করে আবারো ‘ সোনালী আঁশের’ মর্যাদায় আলোকিত করবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাংলাদেশের সুনাম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ